পে-ফিকশনে ভুল হয়েছে? ডিডিওর কাছে ফেরত পাঠিয়ে সংশোধনের উপায় জানুন
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী iBAS++-এ অনলাইনে পে-ফিকশন করতে গিয়ে বেতন নির্ধারণে ভুল হলে কী করবেন, তা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা ইতোমধ্যে বেতন নির্ধারণী বিবরণী দাখিল করেছেন, তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফিক্সেশনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশোধনের সুযোগ আছে কি না।
কিছু ক্ষেত্রে ডিডিওর (Drawing and Disbursing Officer) মাধ্যমে বেতন নির্ধারণী বিবরণী ফেরত পাঠানোর সুযোগ থাকলে ভুল তথ্য সংশোধন করে পুনরায় দাখিল করা যেতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফিক্সেশন অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে, নাকি হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, তার ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করতে পারে।
পে-ফিকশনে ভুল হলে প্রথমে যা করবেন
পে-ফিকশনে ভুল ধরা পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে ভুলের ধরন শনাক্ত করুন। এরপর iBAS++-এ ফিক্সেশনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট অফিসের ডিডিও বা হিসাব শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
যেসব তথ্য বিশেষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন:
-
মূল বেতন ও প্রযোজ্য বেতনধাপ
-
বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তথ্য
-
চাকরিতে যোগদানের তারিখ
-
পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড বা সিলেকশন গ্রেডের তথ্য
-
আগের বেতন নির্ধারণের বিবরণ
-
সার্ভিস বুক ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশের তথ্য
ভুলের কারণ নিশ্চিত না হয়ে নতুন করে আবেদন করা বা একই তথ্য বারবার জমা দেওয়া ঠিক নয়। সংশোধনের আগে প্রয়োজনীয় নথির সঙ্গে অনলাইনে দেওয়া তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
ডিডিওর আইডি থেকে ফেরত পাঠিয়ে সংশোধন করবেন কীভাবে?
ফিক্সেশনটি যদি এখনো ডিডিওর যাচাই বা অনুমোদনের পর্যায়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ডিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিবরণী ফেরত পাঠানোর সুযোগ আছে কি না জানতে পারেন।
সিস্টেমে ফেরত পাঠানোর সুবিধা থাকলে সাধারণভাবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:
১. ফিক্সেশনের অবস্থা যাচাই করুন: আবেদনটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করুন।
২. ডিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করুন: ভুলের বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান এবং বিবরণী ফেরত পাঠানোর সুবিধা রয়েছে কি না জানতে চান।
৩. সংশোধনের সুযোগ যাচাই করুন: বিবরণী ফেরত এলে সংশ্লিষ্ট এন্ট্রি ইউজার বা অনুমোদিত ব্যবহারকারীর আইডিতে সম্পাদনার সুযোগ আছে কি না দেখুন।
৪. নথি অনুযায়ী তথ্য সংশোধন করুন: সার্ভিস বুক, ইনক্রিমেন্ট আদেশ, পদোন্নতির আদেশ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথির সঙ্গে মিলিয়ে ভুল তথ্য ঠিক করুন।
৫. পুনরায় দাখিল করুন: সংশোধন সম্পন্ন হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিবরণী আবার ডিডিওর কাছে জমা দিন।
৬. পরবর্তী অবস্থা যাচাই করুন: পুনরায় দাখিলের পর বিবরণী যাচাই ও অনুমোদনের পরবর্তী ধাপে গেছে কি না নিশ্চিত হন।
মনে রাখবেন: উপরের ধাপগুলো সম্ভাব্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সাধারণ নির্দেশনা। জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর সব ধরনের পে-ফিকশনের ক্ষেত্রে ডিডিওর আইডি থেকে ফেরত পাঠানো যাবে, এমন নির্দিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা কী করবেন?
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নিজের আইডি থেকে আগের দাখিল করা ফিক্সেশন সম্পাদনা করা যাবে কি না, তা ব্যবহারকারীর অনুমতি ও সিস্টেমে আবেদনটির অবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে।
তাই ভুল ধরা পড়লে প্রথমে অফিসের হিসাব শাখা, দায়িত্বপ্রাপ্ত এন্ট্রি ইউজার অথবা ডিডিওর সহায়তা নিন। তাঁদের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
সংশোধনের জন্য মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি বা গ্রেড-সংক্রান্ত তথ্যের পক্ষে প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন। এতে ভুলের কারণ ব্যাখ্যা করা এবং সঠিক তথ্য যাচাই করা সহজ হবে।
ফিক্সেশন হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে চলে গেলে কী করবেন?
পে-ফিকশন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানো হয়ে থাকলে ডিডিওর আইডি থেকে ফেরত পাঠানোর সুবিধা নাও থাকতে পারে। এ অবস্থায় নিজে থেকে একই আবেদন নতুন করে দাখিল না করে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
ভুলটি কী ধরনের, কোন তথ্য সংশোধন করতে হবে এবং আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানান। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ, সার্ভিস বুকের তথ্য, আগের বেতন নির্ধারণী বিবরণী ও অন্যান্য প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন।
সংশোধনের জন্য আলাদা আবেদন, দাপ্তরিক অনুমোদন বা অন্য কোনো প্রক্রিয়া প্রয়োজন কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়াই নিরাপদ।
পরের মাসে পে-ফিকশন করলে বেতন বা বকেয়ার কী হবে?
ভুল সংশোধন বা অন্য কোনো কারণে পে-ফিকশন পরবর্তী মাসে সম্পন্ন হলে বেতন ও বকেয়ার বিষয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
বকেয়া প্রাপ্যতা নির্ভর করতে পারে প্রযোজ্য বেতন আদেশ, কার্যকর হওয়ার তারিখ, সংশোধিত ফিক্সেশনের অনুমোদন এবং অর্থ ছাড়ের নিয়মের ওপর। তাই দেরিতে ফিক্সেশন সম্পন্ন হলেই বকেয়া বাতিল হয়ে যাবে, অথবা সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বকেয়া পাওয়া যাবে, এমন দাবি করা ঠিক হবে না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসের হিসাব শাখা বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কাছ থেকে নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশনা জেনে নিন।
পে-ফিকশন সংশোধনের আগে যে বিষয়গুলো মিলিয়ে নেবেন
-
৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রযোজ্য মূল বেতনের তথ্য সঠিক কি না
-
ইনক্রিমেন্ট ও বেতনধাপ যথাযথভাবে দেওয়া হয়েছে কি না
-
পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড বা সিলেকশন গ্রেডের তথ্য সঠিক কি না
-
সার্ভিস বুক ও অফিস আদেশের সঙ্গে অনলাইনে দেওয়া তথ্যের মিল রয়েছে কি না
-
ফিক্সেশনটি ডিডিও, হিসাবরক্ষণ কার্যালয় নাকি অন্য কোনো পর্যায়ে রয়েছে
-
সংশোধনের পর পুনরায় দাখিল ও পরবর্তী যাচাই সম্পন্ন হয়েছে কি না
iBAS++-এ পে-ফিকশনে ভুল হলে প্রথম কাজ হলো ভুলের ধরন শনাক্ত করা এবং আবেদনটির বর্তমান অবস্থা যাচাই করা। ফিক্সেশন ডিডিওর পর্যায়ে থাকলে ফেরত পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ আছে কি না জানতে হবে। আর হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে চলে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এগোতে হবে।
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী পে-ফিকশন সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ধাপ বা সময়সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অর্থ বিভাগের প্রকাশিত নির্দেশনা এবং iBAS++-এর প্রযোজ্য সহায়িকা অনুসরণ করুন। এতে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নতুন আবেদন করা বা বেতন নির্ধারণে আরও জটিলতা তৈরির ঝুঁকি কমবে।
সিদ্দিকা/
