বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা, বাংলাদেশে বৃষ্টি নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব ও তৎসংলগ্ন মধ্য-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়ে পরে আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর প্রভাবে অক্টোবরের শেষ দিকে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ অক্টোবরের দিকে বঙ্গোপসাগরের ওই এলাকায় নতুন নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরও জানিয়েছে, সাগরে তৈরি হতে যাওয়া আবহাওয়াব্যবস্থাটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শক্তি বাড়াতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়া বা কোথায় আঘাত হানবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমান আবহাওয়াব্যবস্থা আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপ এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
তবে এই সময়সীমাকে নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হবে কি না, তা নির্ভর করে সমুদ্রের তাপমাত্রা, বাতাসের গতিপ্রকৃতি এবং বায়ুমণ্ডলের অনুকূল পরিস্থিতির ওপর। তাই এ বিষয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া সংস্থার সর্বশেষ বুলেটিন অনুসরণ করা জরুরি।
বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা আছে?
প্রাথমিক কিছু পূর্বাভাসে আবহাওয়াব্যবস্থাটির পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত গতিপথ এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে এটি বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত হানবে, নাকি ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে এগোবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
বাংলাদেশে বৃষ্টি হতে পারে কখন?
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হলে তার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে ২৫ ও ২৬ অক্টোবরের দিকে দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে ১ বা ২ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে বৃষ্টিবলয় তৈরি হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও হালনাগাদ পূর্বাভাস প্রয়োজন।
জেলেদের ও কৃষকদের জন্য পরামর্শ
সমুদ্রের পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গভীর সাগরে যাওয়ার আগে জেলেদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সামুদ্রিক সতর্কবার্তা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। সরকারি সতর্কবার্তায় নিষেধাজ্ঞা বা সংকেত দেওয়া হলে তা মেনে চলতে হবে।
কৃষকদেরও সম্ভাব্য বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ধান কাটা, ফসল শুকানো এবং খেতের পানি নিষ্কাশনের প্রস্তুতি রাখা ভালো। তবে কোন এলাকায় কখন বৃষ্টি হবে, সে বিষয়ে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে, বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেটি শক্তিশালী হতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি, সম্ভাব্য গতিপথ এবং বাংলাদেশে এর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী বুলেটিনের অপেক্ষা করতে হবে।
সোহাগ/
