একাধিক দাগের জমি একসঙ্গে নামজারি করা যায় কি, জানুন নিয়ম
নিজস্ব প্রতিবেদক: জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিক হওয়ার পর অনেকেরই জানতে ইচ্ছা করে, একাধিক দাগের জমি কি একটি আবেদনেই নামজারি করা যায়? বিশেষ করে একই মৌজায় একাধিক দাগে জমি থাকলে প্রতিটি দাগের জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে কি না, তা নিয়ে জমির মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একই মৌজার একাধিক দাগের জমি একটি নামজারি আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। জমিগুলো একই খতিয়ানের অধীনে থাকুক বা একই মৌজার একাধিক খতিয়ানে থাকুক, আবেদন ফরমে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান ও দাগের তথ্য যুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে একাধিক মৌজার জমি হলে প্রতিটি মৌজার জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে।
একই আবেদনে একাধিক দাগ যুক্ত করার নিয়ম
অনলাইনে নামজারির আবেদন করার সময় জমির অবস্থান ও রেকর্ডের তথ্য সঠিকভাবে দিতে হয়। একই মৌজায় একাধিক দাগের জমি থাকলে নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে।
১. সঠিক মৌজা নির্বাচন করুন
প্রথমে জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার তথ্য নির্বাচন করতে হবে। জমির মৌজা ও জেএল নম্বর সঠিকভাবে জানা জরুরি। কারণ একটি নামজারি আবেদন শুধু একটি মৌজার জমির জন্য করা যায়।
২. খতিয়ান ও দাগ নম্বর যুক্ত করুন
আবেদন ফরমে প্রযোজ্য সর্বশেষ জরিপ রেকর্ড অনুযায়ী খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট জমির পরিমাণ দিতে হবে। একই আবেদনে আরও দাগের জমি যুক্ত করতে চাইলে ‘আরও দাগ সংযুক্ত করুন’ এবং প্রয়োজনে ‘আরও খতিয়ান সংযুক্ত করুন’ অপশন ব্যবহার করা যায়।
৩. প্রতিটি দাগের জমির পরিমাণ আলাদাভাবে উল্লেখ করুন
কোন দাগে কতটুকু জমি রয়েছে এবং তার মধ্যে কতটুকু জমির নামজারি চাওয়া হচ্ছে, তা নির্ভুলভাবে লিখতে হবে। সব দাগের জমির পরিমাণ যোগ করে মোট আবেদিত জমির পরিমাণও হিসাব করে নিতে হবে। আবেদন ফরমে জমির পরিমাণ একরে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
৪. মালিকানার প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন
জমি কেনা, উত্তরাধিকার, হেবা বা অন্য বৈধ সূত্রে পাওয়া হলে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হবে। ক্রয়সূত্রে জমি হলে দলিলের তথ্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আগের মালিকানা বা হস্তান্তরের ধারাবাহিকতার কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পেলে ওয়ারিশসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হবে।
একাধিক খতিয়ানের জমি কি একসঙ্গে নামজারি করা যায়?
একই মৌজার একাধিক খতিয়ানে জমি থাকলেও সেগুলো একটি আবেদনে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদনকারীর মালিকানার উৎস, জমির পরিমাণ, খতিয়ান ও দাগের তথ্য এবং দাখিল করা দলিলপত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে।
শুধু একই মৌজায় জমি রয়েছে বলেই সব জমির নামজারি অনুমোদন হবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। তথ্যের গরমিল, মালিকানার ধারাবাহিকতায় সমস্যা বা অন্য কোনো জটিলতা থাকলে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা নথির প্রয়োজন হতে পারে।
একাধিক মৌজায় জমি থাকলে কী করবেন?
একই মালিকের নামে একাধিক মৌজায় জমি থাকলেও সব জমি একটি নামজারি আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। সরকারি ই-নামজারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি মৌজার জমির জন্য পৃথক আবেদন করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তির ‘চরপাড়া’ মৌজায় তিনটি দাগে এবং ‘দক্ষিণপাড়া’ মৌজায় দুটি দাগে জমি থাকলে চরপাড়া মৌজার তিনটি দাগ একটি আবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণপাড়া মৌজার দুটি দাগের জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার আগে যেসব বিষয় যাচাই করবেন
নামজারির আবেদন করার আগে নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে নিন:
-
জমির মৌজা ও জেএল নম্বর সঠিক কি না।
-
সর্বশেষ প্রযোজ্য জরিপের খতিয়ান ও দাগ নম্বর ঠিক আছে কি না।
-
প্রতিটি দাগে মোট জমির পরিমাণ এবং আবেদন করা জমির পরিমাণে কোনো ভুল আছে কি না।
-
দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্রের তথ্য পরস্পরের সঙ্গে মিলছে কি না।
-
প্রয়োজনীয় নথি স্ক্যান করে নির্ধারিত ফরম্যাটে সংযুক্ত করা হয়েছে কি না।
আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রিভিউ দেখে সব তথ্য যাচাই করা উচিত। আবেদন জমা হয়ে গেলে ফরমে সরাসরি সংশোধনের সুযোগ সীমিত হতে পারে।
কোথায় আবেদন করবেন?
বাংলাদেশের সরকারি ই-নামজারি পোর্টাল mutation.land.gov.bd-এ অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদন করার আগে পোর্টালে দেওয়া নির্দেশিকা পড়ে নেওয়া ভালো। জমির রেকর্ড বা মালিকানা নিয়ে জটিলতা থাকলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিসের পরামর্শ নিতে পারেন।
সব মিলিয়ে, একই মৌজার একাধিক দাগের জমি একটি নামজারি আবেদনে যুক্ত করা সম্ভব। তবে একাধিক মৌজার জমির জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে এবং প্রতিটি দাগের তথ্য ও মালিকানার কাগজপত্র নির্ভুলভাবে দিতে হবে।
আশা/
