সরাইল থানায় ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগ্বিতণ্ডা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় থানার ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁদের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ওসি ও রুমিন ফারহানা পরস্পরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। রুমিন ফারহানা ওসির বিরুদ্ধে ফোন না ধরা এবং দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, তাঁর সঙ্গে লোকজন নিয়ে থানায় যাওয়ার ঘটনাকে ‘মব সৃষ্টির চেষ্টা’ বলে অভিযোগ করেন ওসি।
ভিডিওতে রুমিন ফারহানাকে ওসির সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলতে শোনা যায়। এ ছাড়া একাধিকবার ফোন করেও ওসিকে না পাওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
রুমিন ফারহানার ভাষ্য, ওসিকে আট থেকে দশবার ফোন করেও তিনি সাড়া পাননি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ এবং অন্যান্য বিষয় জানতে তিনি থানায় গিয়েছিলেন বলে জানান রুমিন।
কথোপকথনের একপর্যায়ে ওসির কথা বলার ধরন নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। এ সময় তাঁদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
অন্যদিকে, রুমিন ফারহানার সঙ্গে লোকজন নিয়ে থানায় যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপত্তি জানান ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তাঁর অভিযোগ, রুমিন ফারহানা লোকজন নিয়ে এসে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন এবং কয়েকজনকে দিয়ে সাজানো কথা বলিয়েছেন।
ওসি বলেন, দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তা দিয়েছে। রুমিন ফারহানা তাঁর নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে লোকজনসহ থানায় এসে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার সময় ভিডিও ধারণ করে রাখার নির্দেশও দেন ওসি। এ ছাড়া রুমিন ফারহানার সঙ্গে কোনো মামলার আসামি এসেছেন কি না, তা জানতে চান তিনি।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রুমিন ফারহানাকে নিজের বিরুদ্ধে আট থেকে দশটি মামলা থাকার কথা বলতে শোনা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে ওসিকে ‘আওয়ামী চোর’ বলেও সম্বোধন করেন তিনি।
তবে ভিডিওতে উঠে আসা অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। দুই পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা অন্য কোনো স্বাধীন প্রমাণও এখানে পাওয়া যায়নি।
সরাইল থানায় ওসি ও রুমিন ফারহানার এই কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে রুমিন ফারহানা ওসির বিরুদ্ধে ফোন না ধরা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে ওসি তাঁর বিরুদ্ধে মব সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে কোনো অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
সোহাগ/
