এবার বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ময়ূখ রঞ্জন
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের দুর্গাপূজার আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ভারতের সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপগুলোর আয়োজন তাঁর নজর কেড়েছে। কলকাতার বিভিন্ন পূজা পুরস্কার আয়োজকদের উদ্দেশে চট্টগ্রামের মণ্ডপগুলোকেও সম্মাননা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের পূজার আয়োজনের প্রশংসা করে নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সাবাশ বাংলাদেশ!’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার দুর্গাপূজা, প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা ও উৎসবের পরিবেশ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ময়ূখ রঞ্জন। তাঁর পছন্দের তালিকায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে চট্টগ্রামের কয়েকটি পূজামণ্ডপের নাম।
চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ নিয়ে বিশেষ প্রশংসা
ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দুর্গাপূজায় তাঁকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে চট্টগ্রাম। কলকাতার বিভিন্ন পূজা পুরস্কার আয়োজকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপগুলোর জন্যও আলাদা পুরস্কারের ব্যবস্থা করা উচিত। সম্ভব হলে কুরিয়ারের মাধ্যমে এসব মণ্ডপকে সম্মাননা পাঠানোর পরামর্শও দেন তিনি।
চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে কোতোয়ালীর ‘ষোড়শীকুঞ্জ সার্বজনীন পূজো উদযাপন পরিষদ’ এবং উত্তর কাট্টলীর তালুকদার বাড়ির ‘বাণী মন্দির’ প্রাঙ্গণকে নিজের পছন্দের তালিকায় সমানভাবে প্রথম স্থানে রেখেছেন তিনি।
এরপর তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে খলিফাপট্টি ও ব্রজধাম স্মৃতি সংসদসহ অন্যান্য মণ্ডপ। যেসব পূজামণ্ডপ এবার দেখা হয়নি, সেগুলোর নাম জানাতে অনুরোধ করেছেন তিনি। আগামীবার সেগুলোর প্রচার আগে থেকেই করবেন বলেও জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের পূজা দেখতে চান সরাসরি
এ বছর ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার প্রতিমা ও পূজার আয়োজন দেখেছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন ময়ূখ রঞ্জন। ভবিষ্যতে সরাসরি বাংলাদেশে এসে হেঁটে হেঁটে পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের খাবারের কথাও জানতে চেয়েছেন এই সাংবাদিক। পূজা দেখতে বেরিয়ে ফুচকা খাওয়া কিংবা ক্লান্ত হলে মশলা কোলা পান করার মতো অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে, তা নিয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ময়মনসিংহের সিঁদুরখেলার মিছিলেও মুগ্ধ
চট্টগ্রামের পাশাপাশি ময়মনসিংহের দুর্গাবাড়ি রোডের সিঁদুরখেলার মিছিলের কথাও তুলে ধরেছেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। তাঁর বর্ণনায়, চিত্রনায়ক দেবের ‘ভজগৌরাঙ্গের নাম রে’ গানের তালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনন্দে অংশ নেওয়ার দৃশ্য ছিল দারুণ।
আগামীবার এ ধরনের আয়োজনে কলকাতার অভিনেতা দেবের পাশাপাশি বাংলাদেশের চিত্রনায়ক শাকিব খানকেও যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এমন উদ্যোগ উৎসবের আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
কুমিল্লা ও সিলেটের পূজা নিয়েও মন্তব্য
কুমিল্লার রথের উৎসবের প্রশংসা করেছেন ময়ূখ রঞ্জন। তবে কুমিল্লা ও সিলেটে তাঁর চোখে থিমভিত্তিক পূজার আয়োজন পড়েনি বলেও উল্লেখ করেছেন। কোনো আয়োজন তাঁর নজর এড়িয়ে গেলে সেগুলোর তথ্য দিয়ে তাঁকে ট্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় দীর্ঘ বিরতির পর আবার নতুন করে দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার খবরেও আনন্দ প্রকাশ করেছেন এই সাংবাদিক। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার পূজার আয়োজন সম্পর্কে জানার আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে।
শিকড় ধরে রাখার বার্তা
পোস্টের শেষাংশে নিজের শিকড় ও অস্তিত্ব ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। তাঁর বার্তা, ‘জমি ছেড়ো না। নিজের শিকড় বদলাতে দিয়ো না! ব্যাস এটুকুই!’
বাংলাদেশের দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে তাঁর এই প্রশংসা এবং বিশেষ করে চট্টগ্রামের মণ্ডপগুলোকে সম্মানিত করার আহ্বানই ফেসবুক পোস্টটির উল্লেখযোগ্য দিক।
সিদ্দিকা/
