রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি-পেঁয়াজু বিক্রিতেও লাগবে নিবন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজু বিক্রি করেন? নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এসব ব্যবসায়ীর জন্যও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকানসহ মোট ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার আওতায় এই নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রথমবার নিবন্ধন দেওয়া হবে বিনা মূল্যে। তবে কিছু বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ব্যবসার জন্য শুধু নিবন্ধন যথেষ্ট নয়, নিতে হবে লাইসেন্সও। নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।
কোন ১৬ ধরনের খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন লাগবে?
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত তালিকায় থাকা ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও স্থাপনার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
১. রেস্তোরাঁ২. বেকারি৩. ফলের রসের দোকান৪. পেস্ট্রি শপ৫. ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান৬. প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান৭. মিষ্টির দোকান৮. দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান৯. কাঁচা ও তাজা খাদ্য ছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের আমদানিকারক১০. পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রেতা১১. পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা১২. খাদ্য সংরক্ষণাগার১৩. হিমাগার১৪. ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান১৫. ভোজ্য লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান১৬. নির্ধারিত তালিকাভুক্ত অন্যান্য খাদ্য ব্যবসা
তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীদের নিবন্ধন নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন জমা দিতে হবে। প্রথমবার নিবন্ধনের জন্য ফি লাগবে না বলে জানানো হয়েছে।
কোন খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধনের পাশাপাশি লাইসেন্স লাগবে?
কিছু বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ব্যবসার ক্ষেত্রে নিবন্ধনের পাশাপাশি লাইসেন্স নেওয়াও বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ খাদ্যপণ্য।
এ ছাড়া নির্ধারিত শ্রেণির যেসব পণ্যের জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
স্বাস্থ্যসহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য
-
বিশেষ পথ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য
-
প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য
-
নিউট্রাসিউটিক্যাল
-
জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য
-
জৈব খাদ্য
-
অভিনব খাদ্য
-
পুষ্টিসমৃদ্ধ নির্ধারিত খাদ্যপণ্য
এসব বিশেষায়িত খাদ্য ব্যবসার লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফি বা মাশুল দিতে হবে। কোন পণ্যের ক্ষেত্রে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি।
কীভাবে নিবন্ধন বা লাইসেন্সের আবেদন করবেন?
নিবন্ধন ও লাইসেন্স পেতে সংশ্লিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে সরাসরি আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে পুরো আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফরম এবং প্রযোজ্য শর্ত সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।
নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ কত দিন?
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে নির্ধারিত নিয়মে নবায়ন করতে হবে।
কিছু খাদ্যপণ্যের মোড়কে নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্যাকেট বা মোড়কে নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে।
কেন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে নিবন্ধন?
খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। রাস্তার পাশে তৈরি খাবার থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাত ও বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য পর্যন্ত ব্যবসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তবে সব ধরনের খাদ্য ব্যবসার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ব্যবসার শ্রেণি ও পণ্যের ধরন অনুযায়ী নিবন্ধন, লাইসেন্স এবং অন্যান্য শর্ত ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
সোহাগ/
