নামজারি সম্পন্ন হয়েছে কি না, বুঝবেন যেভাবে: ঘরে বসেই অনলাইনে যাচাই
নিজস্ব প্রতিবেদক: জমি কেনার পর কিংবা ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিকানা পাওয়ার পর অনেকেই নামজারির আবেদন করেন। কিন্তু আবেদন জমা দেওয়ার পর নামজারি সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে অনেকে অনিশ্চয়তায় থাকেন। এ জন্য বারবার ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি পোর্টালে আবেদন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা যায়।
নামজারির আবেদন জমা দেওয়া মানেই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়া নয়। আবেদনটি যাচাই, অনুমোদন, প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ এবং খতিয়ান চূড়ান্ত করার ধাপগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। তাই জমির রেকর্ড হালনাগাদ হয়েছে কি না, তা জানতে নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করতে পারেন।
অনলাইনে নামজারির অবস্থা জানবেন যেভাবে
নামজারির আবেদন সম্পন্ন হয়েছে কি না জানতে প্রথমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ই-নামজারি পোর্টালে প্রবেশ করুন।
যাচাইয়ের ওয়েবসাইট: https://mutation.land.gov.bd/
এরপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
১. ই-নামজারি পোর্টালে প্রবেশ করুন
সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা দেখুন’ অপশনটি খুঁজুন।
২. আবেদন নম্বর দিন
নামজারির আবেদন করার সময় যে আবেদন নম্বর পেয়েছিলেন, সেটি নির্ধারিত ঘরে লিখুন। নম্বরটি ভুল হলে সঠিক তথ্য পাওয়া নাও যেতে পারে।
৩. প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করুন
পোর্টালে যে তথ্য চাওয়া হবে, তা নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। এরপর অনুসন্ধান বা খোঁজার অপশনে ক্লিক করলে আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখা যাবে।
৪. আবেদনের ফলাফল দেখুন
আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন, মঞ্জুর, না-মঞ্জুর অথবা অন্য কোনো ধাপে রয়েছে কি না, তা যাচাই করুন। পরবর্তী করণীয় থাকলে পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
কোন অবস্থার অর্থ কী?
নামজারির আবেদনের অবস্থা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা যায়। তবে পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দিষ্ট স্ট্যাটাস ও নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।
- প্রক্রিয়াধীন: আবেদন যাচাই বা নিষ্পত্তির কাজ চলছে। এখনো নামজারি সম্পন্ন হয়েছে ধরে নেওয়া যাবে না।
- কাগজপত্র বা তথ্যের ঘাটতি: অতিরিক্ত দলিল বা তথ্য চাওয়া হলে নির্দেশনা অনুযায়ী তা জমা দিতে হবে।
- মঞ্জুর: আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। তবে পরবর্তী ফি পরিশোধ বা খতিয়ান চূড়ান্ত করার কোনো ধাপ বাকি আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
- না-মঞ্জুর: আবেদনটি অনুমোদন করা হয়নি। সিদ্ধান্তের কারণ পড়ে পরবর্তী করণীয় জানতে হবে।
নামজারি মঞ্জুর হলেই কি কাজ শেষ?
সব ক্ষেত্রে শুধু ‘মঞ্জুর’ স্ট্যাটাস দেখেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনুমোদনের পর নির্ধারিত ডিসিআর ফি পরিশোধ এবং খতিয়ান চূড়ান্ত করার ধাপ থাকতে পারে।
সরকারি ই-নামজারি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, খতিয়ান চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করে খতিয়ান ডাউনলোড করা যায়। তাই নামজারি সম্পন্ন হয়েছে কি না নিশ্চিত হতে আবেদনের চূড়ান্ত অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট খতিয়ান যাচাই করুন।
নতুন খতিয়ান কীভাবে সংগ্রহ করবেন?
নামজারির খতিয়ান চূড়ান্ত হলে পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করে খতিয়ান ডাউনলোড করা যেতে পারে। ডাউনলোড করা খতিয়ানে নিজের নাম, জমির দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।
কোনো তথ্য ভুল থাকলে বা খতিয়ান ডাউনলোড করতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। শুধু আবেদন জমা দেওয়ার রসিদকে চূড়ান্ত নামজারির খতিয়ান হিসেবে গণ্য করবেন না।
অনেক দিনেও নামজারি সম্পন্ন না হলে কী করবেন?
আবেদন দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকলে প্রথমে অনলাইনে স্ট্যাটাস এবং কোনো নির্দেশনা বা শুনানির তথ্য আছে কি না দেখুন। অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হলে তা সময়মতো জমা দিন। প্রয়োজন হলে আবেদন নম্বর ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
আবেদন না-মঞ্জুর হলে সিদ্ধান্তের কারণ যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা তথ্যের ঘাটতি পূরণ করে পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কাছে জানতে পারেন।
নামজারি যাচাইয়ের সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
নামজারির অবস্থা যাচাই করার সময় আবেদন নম্বর সঠিকভাবে দেওয়া, সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা এবং আবেদনকারীর তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অপরিচিত ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না। অনলাইনে কোনো সমস্যা হলে ভূমিসেবা হেল্পলাইন ১৬১২২-এ যোগাযোগ করে সহায়তা চাইতে পারেন।
শেষ কথা: নামজারি সম্পন্ন হয়েছে কি না জানার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সরকারি ই-নামজারি পোর্টালে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা। আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ফি, খতিয়ান চূড়ান্তকরণ এবং নতুন খতিয়ানের তথ্যও যাচাই করুন। এতে জমির রেকর্ড হালনাগাদ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
সোহাগ/
