নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নবম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা কবে থেকে পাবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সব প্রক্রিয়া সময়মতো সম্পন্ন হলে ডিসেম্বরের মধ্যে সুবিধা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন পাওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। চূড়ান্ত সময় নির্ভর করছে অর্থ বিভাগের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এবং পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির ওপর।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কি নতুন পে স্কেলে বেতন পাবেন?
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের বক্তব্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন। তবে এ জন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে দ্রুত নবম জাতীয় পে স্কেলের সুবিধা পান, সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। তবে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া অর্থ বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
বেতন পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলে বেতন-ভাতা পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দেরি হলে তা আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে ডিসেম্বর বা জানুয়ারির কোনো তারিখকেই এখনই চূড়ান্ত সময় হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই বাস্তবায়নের সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কেন নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে দেরি হতে পারে?
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নতুন কাঠামোয় সমন্বয় করতে প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। বিশেষ করে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের হিসাব হাতে-কলমে করতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি এখন অর্থ বিভাগের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে। অর্থ বিভাগ পৃথকভাবে গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি করলে এরপরই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা কার্যকরের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
নতুন পে স্কেলে কত টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রায় ৬ লাখ ২ হাজার ৩৫৯ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে আনতে অতিরিক্ত ১৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
এর মধ্যে বেতন-ভাতা বাবদ আনুমানিক ১২ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। বাকি অর্থ পেনশন খাতে প্রয়োজন হতে পারে।
এত বিপুল অর্থের সংস্থান এবং বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাও বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আগে নতুন বেতন স্কেল চালু করতে কত সময় লেগেছিল?
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছিল। এবারও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো দ্রুত সুবিধা চালুর চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির সরাসরি মিল নাও থাকতে পারে। এবার ঠিক কবে থেকে নতুন স্কেলের বেতন দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে বর্তমান সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান এবং আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার ওপর।
শিক্ষকদের এখন কী করা উচিত?
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল কার্যকরের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখা উচিত। নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে বেতন পাওয়া নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
সব মিলিয়ে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে স্কেলে বেতন পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যে জানানো হয়েছে। তবে বেতন কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি প্রয়োজনে জানুয়ারি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোহাগ/
