নামজারির নতুন নিয়মে যেসব পরিবর্তন, অনলাইনে করবেন যেভাবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পাওয়ার পর সরকারি ভূমি রেকর্ডে নিজের বা সংশ্লিষ্ট মালিকদের নাম হালনাগাদ করা জরুরি। এ জন্য করতে হয় নামজারি। বিশেষ করে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি এবং বণ্টননামার ভিত্তিতে পৃথক খতিয়ান করার নিয়ম সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।
প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগ না হলে সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করা যায়। আর নিবন্ধিত বণ্টননামার মাধ্যমে জমি ভাগ করা হলে প্রত্যেকে নিজের নির্ধারিত অংশ অনুযায়ী পৃথক খতিয়ানের জন্য আবেদন করতে পারেন।
নামজারির নিয়মে যেসব বিষয় জানা জরুরি
সব ওয়ারিশের নামে যৌথ নামজারি: উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব ওয়ারিশের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রত্যেকের অংশ ও সহ-অংশীদারত্বের তথ্য রেকর্ডে প্রতিফলিত হতে পারে।
বণ্টননামা না থাকলে কী হবে: জমি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগ না হলে সাধারণত যৌথ নামজারির মাধ্যমে রেকর্ড হালনাগাদ করা যায়। শুধু বণ্টননামা না থাকার কারণে যৌথ নামজারির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়ারিশ সনদ ও প্রয়োজনীয় নথি: উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদসহ প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে। সনদে সব ওয়ারিশের তথ্য সঠিক আছে কি না, আবেদন করার আগে তা যাচাই করা জরুরি।
পৃথক খতিয়ান করতে যা লাগবে: ওয়ারিশরা জমি নিজেদের মধ্যে ভাগ করতে চাইলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত বণ্টননামা করতে হবে। এরপর বণ্টন অনুযায়ী পৃথক নামজারি ও খতিয়ানের আবেদন করা যায়।
নামজারি করতে যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে
জমির ধরন এবং মালিকানা অর্জনের পদ্ধতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে:
১. জমি কেনার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের কপি।
২. আগের খতিয়ানের কপি।
৩. জমির দাগ নম্বর ও প্রয়োজনীয় বিবরণ।
৪. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য।
৫. উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যুসনদ।
৬. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিবন্ধিত বণ্টননামা।
৭. নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের তথ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি।
আবেদনের আগে দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং ওয়ারিশদের নামের মধ্যে মিল আছে কি না, তা যাচাই করে নিন। তথ্যের অসংগতি থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হতে পারে।
অনলাইনে নামজারির আবেদন করবেন যেভাবে
নামজারির আবেদন করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যায়। আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালে দেওয়া সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন।
ধাপ ১: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।ভূমি মন্ত্রণালয়ের land.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-নামজারি সেবার লিংক নির্বাচন করুন।
ধাপ ২: আবেদনের তথ্য পূরণ করুন।নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীর পরিচয়, জমির অবস্থান, খতিয়ান, দাগ নম্বর এবং মালিকানা অর্জনের বিবরণ দিন।
ধাপ ৩: মালিকানার ধরন উল্লেখ করুন।জমি কেনা নাকি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া, তা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করুন।
ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যুক্ত করুন।দলিল, খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য নথি পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী সংযুক্ত করুন।
ধাপ ৫: আবেদন জমা ও ফি পরিশোধ করুন।সব তথ্য যাচাই করে আবেদন জমা দিন এবং নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করুন। আবেদন নম্বর বা ট্র্যাকিং তথ্য সংরক্ষণ করুন।
ধাপ ৬: আবেদনের অগ্রগতি দেখুন।অনলাইনে আবেদনের অবস্থা অনুসরণ করুন। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাইলে নির্ধারিত নিয়মে তা জমা দিন।
আবেদনের সময়, প্রয়োজনীয় নথি এবং ফি জমির ধরন ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা ভালো।
নামজারি না করলে কী সমস্যা হতে পারে?
জমি কেনার পর বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর ভূমি রেকর্ড হালনাগাদ না থাকলে জমির তথ্য যাচাই, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ কিংবা পরবর্তী হস্তান্তরের সময় জটিলতা দেখা দিতে পারে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ তৈরি হলেও সঠিক ও হালনাগাদ নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে নামজারি একাই জমির চূড়ান্ত মালিকানার একমাত্র প্রমাণ নয়। দলিল, উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত নথি, দখল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রও বিবেচ্য। জমি নিয়ে বিরোধ বা নথিতে অসংগতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস কিংবা আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সোহাগ/
