জমির দলিলের নকল তুলতে কত টাকা লাগে: খরচ জানুন, আবেদন করবেন যেভাবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: জমির মূল দলিল হারিয়ে গেছে? অথবা পুরোনো জমির মালিকানা যাচাই করতে দলিলের কপি প্রয়োজন? এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে নিবন্ধিত দলিলের নকল বা সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহের জন্য আবেদন করা যায়। তবে জমির দলিলের নকল তুলতে কত টাকা খরচ হবে, তা নির্ভর করে দলিলের পৃষ্ঠা সংখ্যা, প্রযোজ্য সরকারি ফি এবং অন্যান্য নির্ধারিত খরচের ওপর।
বাংলাদেশে জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির মালিকানা যাচাই কিংবা জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিল গুরুত্বপূর্ণ নথি। তাই মূল দলিল হারিয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে দলিলের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা এবং সংশ্লিষ্ট অফিসে নকলের জন্য আবেদন করার নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি।
জমির দলিলের নকল তুলতে কত টাকা লাগে?
জমির দলিলের নকল সংগ্রহের খরচ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। দলিলের নকল প্রস্তুতের ফি, নকলনবিশের পারিশ্রমিক, প্রযোজ্য কোর্ট ফি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তল্লাশি ফি যুক্ত হয়ে মোট খরচ নির্ধারিত হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে বাংলায় লেখা দলিলের নকল প্রস্তুতের জন্য প্রতি ৩০০ শব্দের এক পৃষ্ঠা বা তার অংশের ফি ২৪ টাকা এবং নকলনবিশের পারিশ্রমিক ৩৬ টাকা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ২০ টাকা কোর্ট ফির কথাও বলা হয়েছে।
এই হিসাবে প্রতি পৃষ্ঠার জন্য উল্লেখিত দুটি খাতের মোট অঙ্ক ৬০ টাকা। তবে এর সঙ্গে অন্যান্য প্রযোজ্য ফি যুক্ত হতে পারে।
মনে রাখবেন, এটি একটি নির্দিষ্ট অফিসের প্রকাশিত তথ্য। এই অঙ্ককে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কার্যকর সর্বশেষ ফি হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে বর্তমান ফি ও মোট খরচ নিশ্চিত করে নিন।
দলিলের নকল তুলতে কোন কোন খাতে খরচ হয়?
দলিলের নকল সংগ্রহের সময় কয়েকটি খাতে টাকা দিতে হতে পারে। যেমন:
- নকল প্রস্তুতের ফি: দলিলের নকল তৈরি করার জন্য নির্ধারিত ফি।
- নকলনবিশের পারিশ্রমিক: প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নকল প্রস্তুতের পারিশ্রমিক।
- কোর্ট ফি: সংশ্লিষ্ট আবেদনে প্রযোজ্য কোর্ট ফি।
- তল্লাশি ফি: পুরোনো দলিলের রেকর্ড খুঁজে বের করার জন্য তল্লাশির প্রয়োজন হলে প্রযোজ্য ফি।
- জরুরি নকলের অতিরিক্ত খরচ: জরুরি ভিত্তিতে নকল সংগ্রহের বিশেষ ব্যবস্থা থাকলে তার প্রযোজ্য ফি।
সব ক্ষেত্রে প্রতিটি খাতে খরচ হবে, এমন নয়। দলিলের ধরন, রেকর্ডের অবস্থা এবং প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী খরচের পার্থক্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি ফি-তালিকা দেখে নেওয়া ভালো।
জমির দলিলের নকল কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন?
সাধারণত যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির দলিল নিবন্ধন করা হয়েছিল, সেই অফিসের সংশ্লিষ্ট রেকর্ড থেকে নকল সংগ্রহের জন্য আবেদন করতে হয়। পুরোনো দলিলের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য জানা থাকলে রেকর্ড শনাক্ত করা সহজ হয়।
আবেদনের আগে যতটা সম্ভব নিচের তথ্যগুলো সংগ্রহে রাখুন:
১. দলিল নম্বর ও নিবন্ধনের সাল।
২. দলিলদাতা ও দলিলগ্রহীতার নাম।
৩. জমির মৌজার নাম ও দাগ নম্বর।
৪. দলিল নিবন্ধনের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নাম।
৫. দলিলের অন্যান্য পরিচিতিমূলক তথ্য, যদি থাকে।
দলিল নম্বর জানা না থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য তথ্যের সাহায্যে পুরোনো দলিলের রেকর্ড খুঁজে বের করা সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে তল্লাশির নিয়ম জেনে নিতে হবে।
জমির মূল দলিল হারিয়ে গেলে কী করবেন?
জমির মূল দলিল হারিয়ে গেলে প্রথমেই দলিলের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। এরপর সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগাযোগ করে রেকর্ড যাচাই এবং সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহের নিয়ম জেনে নিন।
করণীয়গুলো হলো:
প্রথম ধাপ: দলিল নম্বর, নিবন্ধনের সাল, জমির মৌজা এবং দলিলের পক্ষগুলোর নাম সংগ্রহ করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধিত হয়েছিল, সেখানে যোগাযোগ করুন।
তৃতীয় ধাপ: নির্ধারিত আবেদনপদ্ধতি অনুসরণ করে দলিলের নকলের জন্য আবেদন করুন এবং প্রযোজ্য সরকারি ফি পরিশোধ করুন।
চতুর্থ ধাপ: নকল হাতে পাওয়ার পর দলিলের নম্বর, জমির বিবরণ, দাগ নম্বর ও পক্ষগুলোর নাম ভালোভাবে মিলিয়ে দেখুন।
দলিল হারানোর ঘটনায় জালিয়াতি বা জমি দখলের আশঙ্কা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনজীবী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিন।
দলিলের নকল তোলার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন
দলিলের নকল সংগ্রহের আগে সংশ্লিষ্ট অফিসে সর্বশেষ ফি-তালিকা যাচাই করুন। কোনো ব্যক্তি বা মধ্যস্থতাকারী অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে তার খাত ও সরকারি ভিত্তি জানতে চান। সম্ভব হলে ফি পরিশোধের রসিদ সংগ্রহ করুন।
এ ছাড়া মনে রাখতে হবে, দলিলের নকল পাওয়া মানেই জমির মালিকানা নিয়ে সব ধরনের বিরোধের নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া নয়। জমির মালিকানা যাচাইয়ের প্রয়োজনে খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও পরীক্ষা করতে হতে পারে।
জমির মূল দলিল হারিয়ে গেলে বা পুরোনো মালিকানা যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে নিবন্ধিত দলিলের নকল সংগ্রহের জন্য আবেদন করা যায়। তবে কত টাকা খরচ হবে, তা নির্ভর করে প্রযোজ্য ফি, দলিলের পৃষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য খরচের ওপর।
তাই নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে না নিয়ে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অফিসের সর্বশেষ ফি-তালিকা যাচাই করুন। এতে অপ্রত্যাশিত খরচ এড়ানোর পাশাপাশি সঠিক নিয়মে দলিলের নকল সংগ্রহ করা সহজ হবে।
সিদ্দিকা/
