অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের পর বায়োমেট্রিক না দিলে বাতিল হবে আবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্য আবেদন করেছেন? তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়া জরুরি। সময়মতো ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের তথ্য না দিলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অসম্পূর্ণ আবেদন নিষ্পত্তির জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পরে এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বায়োমেট্রিক দিতে কোথায় যেতে হবে?
অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয় বা নির্ধারিত বুথে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়া এবং চোখের আইরিশের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব তথ্য না দিলে আবেদনটি সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
তাই নতুন ভোটার হতে বা এনআইডি-সংক্রান্ত আবেদন করে থাকলে আবেদনের পরবর্তী নির্দেশনা খেয়াল রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
কেন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন?
কমিশনের লক্ষ্য হলো সার্ভারে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসম্পূর্ণ আবেদন কমানো এবং আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়ার কারণে তৈরি হওয়া জটিলতা দূর করা। অনলাইনে আবেদন করেই প্রক্রিয়া শেষ হয় না; নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্যও জমা দিতে হয়।
তবে বায়োমেট্রিক দেওয়ার জন্য কত দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
পুরোনো ভোটার নিবন্ধন ফরম নিয়েও সিদ্ধান্ত
এদিকে, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সংরক্ষিত পুরোনো নথিপত্রের একটি অংশ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২০১২ সাল থেকে স্ক্যান করে সার্ভারে আপলোড করা ভোটার নিবন্ধন ফরম-২-এর কাগজের কপি এবং অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এ কার্যক্রমের আওতায় আসবে।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এ কাজ আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে।
তবে সব পুরোনো নথি সরিয়ে ফেলা হবে না। ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত ভোটার নিবন্ধন ফরম আগের মতোই সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।
বাতিল নথি কীভাবে নিষ্পত্তি হবে?
নথিপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ কারণে বাতিলের জন্য নির্ধারিত ফরম ও নথিপত্র খোলাবাজারে বিক্রি না করে সরাসরি কাগজের মণ্ড তৈরির কাজে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দেশের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: অনলাইনে ভোটার নিবন্ধন বা এনআইডির আবেদন করে থাকলে শুধু আবেদন জমা দিয়েই অপেক্ষা করবেন না। বায়োমেট্রিক দেওয়ার সময়সীমা ও পরবর্তী নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করে নিন।
সিদ্দিকা/
