জমির নামজারি করতে কি সরাসরি ভূমি অফিসে যেতে হয়, জেনে নিন নিয়ম
নিজস্ব প্রতিবেদক: জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিকানা পাওয়ার পর অনেকের মনে প্রশ্ন আসে, নামজারি করতে কি সরাসরি ভূমি অফিসে যেতে হবে? নাকি ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করা যায়? বাংলাদেশে ই-নামজারি ব্যবস্থা চালু থাকায় সাধারণত অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব। তবে আবেদন যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা শুনানির জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভূমি অফিসে যেতে হতে পারে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন জমা দিলে তা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের ব্যবস্থায় পৌঁছে যায়। ফলে শুধু আবেদন জমা দেওয়ার জন্য প্রত্যেক আবেদনকারীকে সরাসরি অফিসে যেতে হয় না। তবে জমির কাগজপত্র ও মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হয়।
ঘরে বসে অনলাইনে নামজারির আবেদন করবেন যেভাবে
জমির নামজারির আবেদন করতে সরকারি ই-নামজারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যায়। আবেদন করার আগে জমির দলিল, খতিয়ান ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো।
আবেদনের সাধারণ ধাপগুলো হলো—
১. সরকারি ই-নামজারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন: https://mutation.land.gov.bd/
২. নির্দেশিকা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন পূরণ করুন।
৩. জমির বিবরণ ও মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে দিন এবং প্রযোজ্য কাগজপত্র আপলোড করুন।
৪. নির্ধারিত আবেদন ও নোটিশ জারির ফি অনলাইনে পরিশোধ করে আবেদন জমা দিন।
৫. আবেদন জমা দেওয়ার পর পাওয়া আবেদন নম্বর বা রসিদ সংরক্ষণ করুন। পরবর্তী সময়ে আবেদনটির অবস্থা অনুসরণ করুন।
আবেদন জমা দেওয়ার সময় জমির দাগ নম্বর, খতিয়ান, দলিল এবং আবেদনকারীর পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। কাগজপত্রে অসংগতি থাকলে নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হতে পারে।
নামজারির জন্য কি ভূমি অফিসে উপস্থিত হতে হবে?
সব ক্ষেত্রে সরাসরি উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। আবেদন ও সংযুক্ত দলিলপত্র যাচাই করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলে আলাদা করে শুনানির প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে মালিকানা নিয়ে জটিলতা, তথ্যের অসংগতি, অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন কিংবা অন্য কোনো যুক্তিসংগত কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুনানি বা উপস্থিতির নির্দেশ দিতে পারেন।
এ ধরনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে অথবা নির্ধারিত শুনানিতে অংশ নিতে হবে।
তাই অনলাইনে আবেদন করলেই যে কোনো পরিস্থিতিতে ভূমি অফিসে যেতে হবে না, এমন ধারণা ঠিক নয়। আবার নামজারির আবেদন করতে সবাইকে শুরুতেই ভূমি অফিসে যেতে হবে—এ ধারণাও সঠিক নয়।
নামজারির সরকারি ফি কত?
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ফি তালিকা অনুযায়ী, মিউটেশন বা নামজারির ক্ষেত্রে আবেদনের কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা এবং অনুমোদনের পর ডিসিআর ফি ১ হাজার ১০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। অর্থাৎ, এই তালিকা অনুযায়ী উল্লিখিত ফিগুলোর মোট ১ হাজার ১৭০ টাকা।
তবে আবেদন ও নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায়ে ফি পরিশোধের নিয়ম আলাদা হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রথমে কোর্ট ফি ও নোটিশ জারি ফি দিতে হয়; অনুমোদনের পর ডিসিআর ফি পরিশোধ করতে হয়। আবেদন করার আগে সরকারি ওয়েবসাইটের হালনাগাদ ফি তালিকা দেখে নেওয়া উচিত।
সরকারি ফি ছাড়া কাউকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার আগে সতর্ক থাকুন এবং প্রতিটি লেনদেনের রসিদ সংরক্ষণ করুন।
নামজারির আবেদন করার আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
-
জমির দলিল, খতিয়ান ও দাগ নম্বরের তথ্য মিলিয়ে নিন।
-
উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পেলে প্রযোজ্য ওয়ারিশ-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন।
-
আবেদন করার সময় সচল মোবাইল নম্বর দিন, যাতে প্রয়োজনীয় বার্তা পাওয়া যায়।
-
আবেদন নম্বর ও ফি পরিশোধের রসিদ সংরক্ষণ করুন।
-
কোনো কাগজপত্রের ঘাটতি বা শুনানির নির্দেশ এলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিন।
-
দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর বদলে সরকারি ই-নামজারি ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
জমির নামজারির আবেদন করতে সাধারণত সরাসরি ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; অনলাইনে আবেদন করা যায়। তবে আবেদন যাচাই বা বিশেষ পরিস্থিতিতে শুনানির জন্য উপস্থিত হতে হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে জমির কাগজপত্র প্রস্তুত করুন, সরকারি ফি যাচাই করুন এবং ই-নামজারি ওয়েবসাইটে আবেদনের অবস্থা অনুসরণ করুন।
সোহাগ/
