| ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশে বন্ধ হতে পারে টু-জি, বিপাকে সাড়ে ৬ কোটি গ্রাহক

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৫:০৪:৫৭
বাংলাদেশে বন্ধ হতে পারে টু-জি, বিপাকে সাড়ে ৬ কোটি গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে টু-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ জন্য ২০২৯ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য ধরে একটি রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশে সাড়ে ছয় কোটির বেশি ফিচার ফোন বা বাটন ফোন ব্যবহারকারীকে বিকল্প নেটওয়ার্কে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হতে পারে।

তবে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাশ্রয়ী ফোনের ব্যবস্থা করা। বর্তমানে অনেক গ্রাহক কম দামের টু-জি ফোন ব্যবহার করেন। তাঁদের জন্য ফোরজি-সমর্থিত ফোন কেনার বাড়তি খরচ বহন করা কঠিন হতে পারে। তাই নেটওয়ার্ক বন্ধের আগে কম দামের ফোনের সরবরাহ, কিস্তিতে কেনার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিটিআরসি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য ধরে তৈরি করা প্রস্তাবটি সরকারের অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কেন বন্ধ করা হতে পারে টু-জি নেটওয়ার্ক?

টু-জি নেটওয়ার্কের ব্যবহার কমিয়ে এর তরঙ্গ ও অবকাঠামো আরও আধুনিক মোবাইল প্রযুক্তির কাজে লাগানোই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পুরোনো নেটওয়ার্কের পরিবর্তে ফোরজি এবং ভবিষ্যতে ফাইভজি সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

টু-জি নেটওয়ার্কের জন্য ব্যবহৃত তরঙ্গের একটি অংশ পুনর্বণ্টন করা গেলে অপারেটররা ফোরজি সেবার মান ও সক্ষমতা উন্নত করতে পারবেন। পাশাপাশি ভোল্টিই প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত মানের ভয়েস কল দেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে এসব সুবিধা পেতে শুধু পুরোনো নেটওয়ার্ক বন্ধ করলেই হবে না। নতুন নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি, উপযুক্ত ফোনের সরবরাহ এবং গ্রাহকদের স্থানান্তর নিশ্চিত করতে হবে।

সাড়ে ৬ কোটি গ্রাহকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ফোনের দাম

বিটিআরসির হিসাবে, দেশে মোবাইল ফোন সংযোগের সংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি। এর মধ্যে সাড়ে ছয় কোটির বেশি গ্রাহক ফিচার ফোন বা বাটন ফোন ব্যবহার করেন। এসব ফোনের বড় অংশই টু-জি প্রযুক্তিনির্ভর।

মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) সভাপতি যাকারিয়া শহীদ জানিয়েছেন, বাজারে একটি বাটন ফোন ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ফোরজি-সমর্থিত ফিচার ফোন অথবা কম দামের স্মার্টফোন কিনতে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

ফলে বর্তমান ফোনের পরিবর্তে নতুন ফোন কিনতে গেলে অনেক গ্রাহককে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে।

যাকারিয়া শহীদের মতে, প্রথম বছরে কতজন গ্রাহক ফোন পরিবর্তন করেন, তা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পরিকল্পনা করা উচিত। প্রথম বছরেই প্রায় এক কোটি গ্রাহক ফোন বদলালে তিন বছরের মধ্যে বড় একটি অংশকে নতুন প্রযুক্তিতে স্থানান্তরের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

কম দামের স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ

টু-জি বন্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাশ্রয়ী ফোনের সরবরাহ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য দেশে কম দামে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ আগে চার হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরির লক্ষ্য নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে যন্ত্রাংশের দামসহ বিভিন্ন কারণে সেই লক্ষ্য পাঁচ হাজার টাকায় পুনর্নির্ধারণের কথা জানানো হয়।

তবে উৎপাদনকারীদের মতে, শুধু ফোন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হবে না। বাজারে চাহিদা তৈরি, গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা এবং উৎপাদনকারীদের আর্থিক ঝুঁকির বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

যাকারিয়া শহীদের মতে, আগে গ্রাহকদের চাহিদা তৈরি করতে হবে, এরপর উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত। বাজার তৈরি না করে উৎপাদনকারীদের ফোন তৈরিতে বাধ্য করলে লোকসানের আশঙ্কা থাকতে পারে।

দেশে এখনও বেশির ভাগ উৎপাদিত ফোন টু-জি

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ৩ কোটি ২৮ লাখ মোবাইল ফোন উৎপাদিত হয়েছিল। এর মধ্যে ২ কোটি ১২ লাখের বেশি ছিল টু-জি ফিচার ফোন, যা মোট উৎপাদনের ৬৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে উৎপাদিত প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ ফোনের মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি ছিল টু-জি ফিচার ফোন। এ সময়ে মোট উৎপাদনের ৬৬ দশমিক ২৩ শতাংশ ছিল এই ধরনের ফোন।

অর্থাৎ, দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনের বড় একটি অংশ এখনও টু-জি প্রযুক্তিনির্ভর। ফলে নেটওয়ার্ক বন্ধের আগে উৎপাদনব্যবস্থা ও বাজারের চাহিদায় পরিবর্তন আনাও জরুরি।

গ্রাহকদের জন্য কী ধরনের সহায়তার প্রস্তাব রয়েছে?

বিটিআরসি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টু-জি ব্যবহারকারীদের নতুন প্রযুক্তিতে স্থানান্তর করতে কয়েকটি সম্ভাব্য উদ্যোগ বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ভর্তুকিতে সাশ্রয়ী ফোন সরবরাহ
  • কিস্তিতে ফোন কেনার সুযোগ
  • সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের সম্ভাব্য ব্যবহার
  • ফোনের ওপর কর ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ
  • কম দামের ফোরজি ও ভোল্টিই-সমর্থিত ফিচার ফোনের সরবরাহ বৃদ্ধি

এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের গ্রাহকদের ওপর নতুন ফোন কেনার আর্থিক চাপ কমানো।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় ফোন উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২ ধরনের আমদানি করা কাঁচামালের ওপর অগ্রিম আয়কর কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় উৎপাদনকারীদের জন্য কিছু শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করের সুবিধাও ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

২০২৯, ২০৩০ নাকি ২০৩২—কবে বন্ধ হবে টু-জি?

বিটিআরসির প্রস্তাবে টু-জি বন্ধের জন্য তিনটি সম্ভাব্য সময়সীমা বিবেচনা করা হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ২০২৯ সাল, মাঝারি গতিতে ২০৩০ সাল এবং ধীরগতিতে ২০৩২ সালকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।

কমিশন ২০২৯ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য ধরে এগোনোর প্রস্তাব করেছে। তবে ২০২৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও রয়েছে।

এখন পর্যন্ত প্রস্তাবটির বাস্তবায়ন সরকারের অনুমোদন ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তাই ২০২৯ সালের ডিসেম্বরকে টু-জি বন্ধের চূড়ান্ত তারিখ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

টু-জি বন্ধ হলে যেসব সেবায় প্রভাব পড়তে পারে

টু-জি নেটওয়ার্ক শুধু বাটন ফোনে ব্যবহৃত হয় না। বিভিন্ন যন্ত্র ও সেবাও পুরোনো এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে স্মার্ট মিটার, যানবাহন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, দোকানের পয়েন্ট অব সেলস (POS) যন্ত্র, নিরাপত্তা অ্যালার্ম এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার যোগাযোগব্যবস্থা।

এসব যন্ত্রকে বিকল্প নেটওয়ার্কে স্থানান্তর না করে টু-জি বন্ধ করা হলে সংশ্লিষ্ট সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নেটওয়ার্ক বন্ধের আগে যন্ত্রগুলোর তালিকা তৈরি, বিকল্প প্রযুক্তি নিশ্চিত করা এবং ব্যবহারকারীদের আগাম জানানো জরুরি।

বিটিআরসির পরিকল্পনায় মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে স্থানান্তর পরিকল্পনা নেওয়া, গ্রাহকদের নিয়মিত বার্তা পাঠানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিম পরিবর্তনের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

ফোরজি নেটওয়ার্ক থাকলেও ব্যবহার কম

দেশে ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতা বাড়লেও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার তুলনামূলক কম বলে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় থাকলেও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন প্রায় ৪৬ শতাংশ।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবিরের মতে, সাশ্রয়ী ফোরজি ও ভোল্টিই-সমর্থিত ফোন, নির্ভরযোগ্য ভয়েস সেবা এবং গ্রাহকদের জন্য প্রণোদনা নিশ্চিত করা জরুরি।

তাঁর মতে, ডিজিটাল সেবায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ফল হিসেবে টু-জি বন্ধ হওয়া উচিত। এটি যেন ডিজিটাল সেবায় অংশগ্রহণের পূর্বশর্ত হয়ে না দাঁড়ায়।

অন্য দেশগুলোতেও চলছে পুরোনো নেটওয়ার্ক বন্ধের উদ্যোগ

ভারত ও পাকিস্তানে এখনও টু-জি নেটওয়ার্ক চালু রয়েছে। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো কয়েকটি দেশ ধাপে ধাপে পুরোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে।

এসব দেশের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, পুরোনো নেটওয়ার্ক বন্ধের আগে গ্রাহকদের বিকল্প ফোন ও সেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের ব্যবহারকারী এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে নেটওয়ার্ক পরিবর্তনে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

টু-জি বন্ধের আগে কী নিশ্চিত করতে হবে?

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নেটওয়ার্ক বন্ধের পরিকল্পনা সফল করতে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সাশ্রয়ী ফোনের সরবরাহ, গ্রাহকদের আর্থিক সহায়তা এবং পুরোনো নেটওয়ার্কনির্ভর যন্ত্রের বিকল্প ব্যবস্থা।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে গ্রাহকদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া, নিয়মিত তথ্য জানানো এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থার প্রস্তুতি যাচাই করাও প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশে টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সাশ্রয়ী বাটন ফোন ব্যবহারকারী কোটি কোটি গ্রাহককে নতুন প্রযুক্তিতে যেতে হতে পারে। তবে সরকারের অনুমোদন, ফোনের দাম এবং গ্রাহকদের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে এই পরিবর্তন কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

সিদ্দিকা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৭ মৌসুমের মিনি নিলাম আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

আর্জেন্টিনা বনাম উরুগুয়ে ম্যাচ কবে, জেনে নিন সূচি

আর্জেন্টিনা বনাম উরুগুয়ে ম্যাচ কবে, জেনে নিন সূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: লিওনেল মেসিকে ছাড়াই নতুন অধ্যায়ের শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ...

রোনালদোকে টানা ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা!

রোনালদোকে টানা ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: পর্তুগাল জাতীয় দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা ...