সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের খবর, সুইটিকে নিয়ে মুখ খুললেন নজরুলের বাবা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে বিয়ে করেননি। সুইটি আক্তারকেও তাঁরা চেনেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। অন্যদিকে, সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে।
তবে নজরুল ও সুইটির সম্পর্কের বিষয়ে পরিবারের বক্তব্য সামনে এলেও সৌদি আরবে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা এবং সুইটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নজরুল ও সুইটির সম্পর্ক নিয়ে কী বললেন বাবা?
নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কলেজে পড়ার সময় পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, নজরুল বিয়ে করেননি এবং সুইটি আক্তার তাঁর ছেলের স্ত্রী নন।
তবে দুজন একই জায়গায় কাজ করতেন বলে তিনি শুনেছেন। তাঁদের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেননি নজরুলের বাবা।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাবার সঙ্গে শেষ কথা
আব্দুল বাছির জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানার আগে ছেলের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল। সে সময় নজরুল তাঁকে জানিয়েছিলেন, তিনি সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। তবে কী ধরনের সমস্যায় পড়েছেন, তা বিস্তারিতভাবে বলেননি।
নজরুলের বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ছেলে প্রায় তিন বছর তিন মাস সৌদি আরবের কারাগারে ছিলেন। ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা বলার কয়েক দিন পর গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানতে পারেন।
পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় এক মাস পর মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পেয়েছিলেন নজরুল। তবে সাত থেকে আট মাস পর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
পরে কারাগার থেকে ফোন করে তিনি বন্দি থাকার কথা জানান। কিন্তু কী অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবারকে বিস্তারিত কিছু বলেননি বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।
আব্দুল বাছিরের অভিযোগ, ছেলে কারাগারে থাকার সময় তিনি জানতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না। তাঁর দাবি, নজরুল জানিয়েছিলেন, কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
সুইটি আক্তারের পরিচয় শনাক্ত, মৃত্যুর বিষয়ে অনিশ্চয়তা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সুইটি আক্তারের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে সৌদি আরবে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হওয়ার পরও পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
সুইটির বাবা ফজল ও মা জহুরা বেগম জানিয়েছেন, মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি। তাঁদের দাবি, মেয়ে মারা গিয়ে থাকলে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সরকার যেন সহযোগিতা করে।
মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুরও জানিয়েছেন, সুইটি আক্তারের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি।
অন্যদিকে, সুইটির বোনের স্বামী আবদুল বারেক আনসার বাহিনীর সদস্য হিসেবে পূজার দায়িত্ব পালন করছিলেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সুইটির ছবি দেখানোর পর তিনি ওই নারীকে নিজের শ্যালিকা হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি তিনিও নিশ্চিত করতে পারেননি।
পুলিশ কী বলছে?
সুইটি আক্তারের বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, সৌদি আরবে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত তাঁর কাছে কোনো তথ্য আসেনি।
ফলে নজরুল ও সুইটির সম্পর্ক, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর—এসব বিষয়ে আরও আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, নজরুল দীর্ঘদিন সৌদি আরবের কারাগারে ছিলেন। অন্যদিকে, সুইটির মৃত্যুর বিষয়ে তাঁর পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চিত তথ্য পাননি বলে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনাটির আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
সোহাগ/
