| ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে উদ্যোগ, প্রথম ধাপে নজরে ৬ বড় গ্রুপ

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১২:১৬:১৫
পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে উদ্যোগ, প্রথম ধাপে নজরে ৬ বড় গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে নতুন করে উদ্যোগ জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের বিদেশে থাকা সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইন ও আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হচ্ছে ‘নো রিকভারি, নো ফি’ পদ্ধতি—অর্থাৎ সম্পদ উদ্ধার না হলে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী পারিশ্রমিক দিতে হবে না।

প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব গ্রুপকে লক্ষ্য করা হয়েছে, সেগুলো হলো এস আলম, বেক্সিমকো, সাইফুজ্জামান চৌধুরী-সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ। এসব গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে খেলাপি ঋণ বা তদন্তের আওতায় থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়।

ছয় গ্রুপের সম্পদ উদ্ধারে যেভাবে চলছে কার্যক্রম

বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স (এআরটিএফ) বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্ত এবং দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সমন্বয় করছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এ কার্যক্রমে সাচিবিক সহায়তা দিচ্ছে।

এ উদ্যোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা যুক্ত রয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ব্যাংক খাতের অনিয়মসংক্রান্ত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলাগুলোতে যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়। অপরাধের তদন্তের পাশাপাশি বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান শনাক্ত, সেগুলো সংরক্ষণ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয় ধাপে আরও ৪২ প্রতিষ্ঠান

প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি বড় গ্রুপকে লক্ষ্য করার পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপে আরও ৪২টি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটির খেলাপি ঋণ ২০০ কোটি টাকার বেশি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের খেলাপি ঋণ জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে ছয়টি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে কাজ করছে। আটটি ব্যাংক এসব কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় বিদেশে সম্পদের অবস্থান, মালিকানা এবং সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে।

সম্পদ খুঁজতে কাজ করছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান

বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও আইনি পদক্ষেপের জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে গ্র্যান্ট থর্নটন, বেকার ম্যাকেঞ্জি, পিডব্লিউসি, ডিএল পাইপার, ক্রোল, ইওয়াই ও ডেন্টনসের মতো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের মধ্যে রয়েছে বিদেশে সম্পদের অবস্থান অনুসন্ধান, মালিকানা ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া।

এ ক্ষেত্রে ‘নো রিকভারি, নো ফি’ পদ্ধতির উদ্দেশ্য হলো সম্পদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত শর্তে পারিশ্রমিক পরিশোধের দায় এড়ানো। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির শর্ত ও পারিশ্রমিকের কাঠামো আলাদা হতে পারে।

দেশে-বিদেশে প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের আদেশের আওতায়

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আদালতের আদেশে দেশে ও বিদেশে মোট প্রায় ৭৬ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত, জব্দ বা অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্পদের হিসাবটি হলো—

সম্পদের অবস্থান ও ধরন| মূল্য

দেশে স্থাবর সম্পদ| ১০,০৭৬.৬৯ কোটি টাকা

দেশে অস্থাবর সম্পদ| ৪৭,২৪৯.২৪ কোটি টাকা

বিদেশে স্থাবর সম্পদ| ১৫,১২৪.০১ কোটি টাকা

বিদেশে অস্থাবর সম্পদ| ৪,৫৩৩.৯৯ কোটি টাকা

মোট| ৭৬,৯৮৩.৯৩ কোটি টাকা

এ তালিকায় জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, ট্রাস্ট এবং বিনিয়োগ তহবিলের মতো সম্পদ রয়েছে।

তবে সম্পদ জব্দ, সংযুক্ত বা অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া আর সেই সম্পদ বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগার বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ফেরত আনা এক বিষয় নয়। অর্থ ফেরত পেতে সম্পদের অবস্থান ও মালিকানা যাচাই, বিদেশি আদালতের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুসরণ করতে হবে।

অর্থপাচারের অভিযোগে ১৪২ মামলা, রায় হয়েছে ছয়টিতে

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সম্পদ পাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগে মোট ১৪২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টিতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং ছয়টি মামলায় আদালতের রায় হয়েছে।

মামলাগুলোতে ৭৬২ জনের বেশি সাক্ষী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে পালানো বা সম্পদ সরিয়ে নেওয়া ঠেকাতে ১৫৮ জনের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য আদালতের আদেশ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট মামলার অগ্রগতি নির্দেশ করে; প্রতিটি অভিযোগের বিচারিক ফল এক নয়। কোনো মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল হওয়া বা তদন্ত চলা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।

১৬টি বিচারব্যবস্থায় পাঠানো হয়েছে আইনি সহায়তার অনুরোধ

বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও ফেরত আনার জন্য ১৬টি বিচারব্যবস্থার কাছে ৩০টি পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্ভাব্য সম্পদের অবস্থান অনুসন্ধানের জন্য যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং ও থাইল্যান্ডসহ ১২টি দেশকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

বিদেশে থাকা সম্পদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আদালতের আদেশই সব সময় সরাসরি কার্যকর করা যায় না। যে দেশে সম্পদ রয়েছে, সে দেশের আইন ও আদালতের প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হয়। এ কারণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা অর্থ ফেরত আনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অর্থ ফেরত আনতে কত সময় লাগতে পারে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক তদন্তকারী ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন ও মূল্য শনাক্ত করছে। সম্পদ শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী তা জব্দ বা অবরুদ্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে আদালতের নির্দেশ অনুসারে সম্পদ বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া এগোবে।

দুদকের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, যৌথ তদন্ত দলের কার্যক্রম তদারক করা হচ্ছে এবং কোনো মামলা বা অনুসন্ধান বন্ধ নেই।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়া। সম্পদ শনাক্ত করা, প্রকৃত মালিকানা যাচাই, আইনি আপত্তি মোকাবিলা এবং বিদেশি আদালতের প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক বছরও লাগতে পারে।

সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগের পরবর্তী ধাপ

ছয়টি বড় গ্রুপকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধার করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা আদায়ে সহায়তা করা। পাশাপাশি আরও ৪২টি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ অনুসন্ধানের উদ্যোগের মাধ্যমে কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে বিদেশে সম্পদের প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করা, মালিকানার প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি সহযোগিতা পাওয়া এবং আদালতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর। তাই এখন পর্যন্ত জব্দ বা অবরুদ্ধ সম্পদের পরিমাণকে দেশে ফেরত আসা অর্থ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৭ মৌসুমের মিনি নিলাম আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

আর্জেন্টিনা বনাম উরুগুয়ে ম্যাচ কবে, জেনে নিন সূচি

আর্জেন্টিনা বনাম উরুগুয়ে ম্যাচ কবে, জেনে নিন সূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: লিওনেল মেসিকে ছাড়াই নতুন অধ্যায়ের শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ...

রোনালদোকে টানা ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা!

রোনালদোকে টানা ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: পর্তুগাল জাতীয় দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা ...