| ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, ৫৬ বছর ধরে চলছে সম্প্রীতির নজির

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১১:৪৭:৩৯
একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, ৫৬ বছর ধরে চলছে সম্প্রীতির নজির

নিজস্ব প্রতিবেদক: একই আঙিনায় মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ ও মন্দির। এক পাশে মসজিদে আজান ও নামাজ, অন্য পাশে মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন। তবে আজান ও নামাজের সময় বন্ধ রাখা হয় ঢাকঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের বাজনা। নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত হয়ে আছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়ি।

প্রতিবছরের মতো এবারও চৌধুরী বাড়ির মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজা দেখতে প্রতিদিন সেখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পাশাপাশি মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। দুই সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে ধর্মীয় আয়োজন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে।

যেভাবে শুরু হয়েছিল মসজিদ-মন্দিরের সহাবস্থান

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়িতে ১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় উঝা ঠাকুর কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির। পরে ১৯৬৯ সালে সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় চৌধুরী বাড়ি ক্লাব। ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজার আয়োজন হয়ে আসছে।

এর কয়েক বছর পর, ১৯৭২ সালে একই আঙিনায় নির্মাণ করা হয় নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। এরপর থেকে একই স্থানে পাশাপাশি চলছে মুসলিম সম্প্রদায়ের নামাজ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার আনুষ্ঠানিকতা।

আজানের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোল

দুর্গাপূজা চলাকালে মন্দির প্রাঙ্গণ পূজা-অর্চনা, উলুধ্বনি ও ঢাকের শব্দে মুখর থাকে। তবে মসজিদে আজান ও নামাজের সময়সূচির প্রতি সম্মান জানিয়ে বন্ধ রাখা হয় ঢাকঢোল, মাইক ও সাউন্ড বক্সের বাজনা। নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সমঝোতার কারণে দুই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে। একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতি ও উপাসনার সময়ের প্রতি সম্মান দেখানোই এই সহাবস্থানের অন্যতম ভিত্তি।

পূজার আয়োজনে সহযোগিতা করেন মুসলিমরাও

পূজার আয়োজকেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই মন্দিরে দুর্গাপূজা করে আসছেন। মসজিদ কাছাকাছি থাকলেও পূজা উদযাপনে তাঁদের কোনো সমস্যা হয় না। বরং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। অন্যদিকে, আজান ও নামাজের সময় পূজার কার্যক্রম এবং বাদ্যযন্ত্রের বাজনা বন্ধ রাখা হয়।

তাঁদের মতে, চৌধুরী বাড়িতে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সম্প্রীতি আগামী দিনেও অটুট থাকবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

মসজিদের ইমাম ও ক্লাব সভাপতির বক্তব্য

মসজিদের ইমাম বলেন, মসজিদের পাশেই ঈদগাহ মাঠ এবং তার পাশে মন্দির রয়েছে। প্রতিবছর এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং এ সময় অনেক মানুষের সমাগম ঘটে। তবে নামাজের সময় পূজার আয়োজকেরা তাঁদের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষও পূজা উদযাপনে সহযোগিতা করে। এখন পর্যন্ত সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।

চৌধুরী বাড়ি ক্লাবের সভাপতি লিটন পোদ্দার বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। মসজিদে নামাজের সময়সূচি বিবেচনায় রেখে পূজার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। মসজিদ কমিটিও পূজা উদযাপনে সহযোগিতা করে।

শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনে প্রশাসনের সহযোগিতা

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। চৌধুরী বাড়ি তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের পরিচয় বহন করে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য রবিউল আউয়াল লাভলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানকার হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছেন এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে একে অপরকে সহযোগিতা করছেন। শুধু পূজা উদযাপন নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেন। এই সম্প্রীতি ও বন্ধন ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পারস্পরিক শ্রদ্ধায় টিকে আছে সম্প্রীতির বন্ধন

ধর্মীয় আচার পালনে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে চৌধুরী বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বজায় রয়েছে সম্প্রীতির পরিবেশ। একই আঙিনায় মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ ও মন্দিরের সহাবস্থান স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ধর্মীয় সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের পরিচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

আজানের সময় বাদ্যযন্ত্রের শব্দ বন্ধ রাখা কিংবা একে অপরের ধর্মীয় আয়োজনে সহযোগিতা করার মতো ছোট ছোট উদ্যোগই এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। নাগরপুরের চৌধুরী বাড়ির এই দৃষ্টান্ত দেখায়, পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া থাকলে ভিন্ন ধর্মের মানুষও শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৭ মৌসুমের মিনি নিলাম আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

আর্জেন্টিনা বনাম উরুগুয়ে ম্যাচ কবে, জেনে নিন সূচি

আর্জেন্টিনা বনাম উরুগুয়ে ম্যাচ কবে, জেনে নিন সূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: লিওনেল মেসিকে ছাড়াই নতুন অধ্যায়ের শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ...

রোনালদোকে টানা ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা!

রোনালদোকে টানা ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: পর্তুগাল জাতীয় দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা ...