নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের মরদেহ হস্তান্তর
নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের মরদেহ তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায় নির্ধারণে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত ১২ জনের পরিচয় জানা গেছে
বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার শিশু তাছফিয়া (৮) এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার আব্দুস সামাদ ফকির (৭০)।
এ ছাড়া শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জুয়েল (৪০), সালাম মোল্লা (৪৬), কাশেম (৩৫), শাহীন (৩২) ও শহিদুল ইসলাম (৪৫) নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত অন্য ব্যক্তিরা হলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ট্রাকচালক আবুল কালাম (৫৬), নওগাঁর সান্তাহারের ঘোনঠোলা এলাকার রাসেল আলী (৩৩), ফরিদপুর সদরের হিমেজ জামাদার এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার বাসচালক মো. সোহেল রানা (৪০)।
পরিচয় শনাক্তের পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর
দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ বনপাড়া হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছিল। পরে স্বজনেরা থানায় এসে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করেন। এরপর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, নিহতদের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে পরিচয় নিশ্চিত করার পর মরদেহ বুঝে নেন।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং দায় নির্ধারণে নাটোর জেলা প্রশাসন সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে।
তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার পেছনের কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং কারও দায় রয়েছে কি না, তা তদন্তের ফল প্রকাশের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
বনপাড়ার এই দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যুতে নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সোহাগ/
