| ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

পোশাকের বাইরে রপ্তানিতে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা, তবুও..

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১২:৩৮:১৩
পোশাকের বাইরে রপ্তানিতে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা, তবুও..

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ববাজারে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে চাহিদা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হলেও কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

তৈরি পোশাকের বাইরে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প। বিশ্বজুড়ে ক্যাম্পিং, ভ্রমণ, অ্যাডভেঞ্চার ও আউটডোর বিনোদনের সরঞ্জামের চাহিদা থাকায় এ খাতে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও দেশে নতুন কারখানা স্থাপন ও বিদ্যমান উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তাঁবু রপ্তানিতে চীনের পর বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি তাঁবু ও ক্যাম্পিং পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এতে প্রচলিত তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে এ শিল্পের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষায়িত কাপড়, কোটিং, দড়ি, ফ্রেম ও অন্যান্য উপকরণের বড় অংশ আমদানি করতে হয়। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এখন এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ তাঁবু ও ক্যাম্পিং-সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি করে প্রায় ২৩৭ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস, অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ২০ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলার।

এর আগের বছরগুলোতে এ খাতের রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৪২১ মিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২২২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

করোনাকালীন সময়ে বৈশ্বিক চাহিদার পরিবর্তনের পরও বাংলাদেশের তাঁবু ও ক্যাম্পিং পণ্য রপ্তানিতে নতুন বাজার এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৯টি দেশে এসব পণ্য রপ্তানি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জামের অন্যতম প্রধান গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশটিতে প্রায় ৮৭ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলারের এসব পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ফ্রান্সে ২৮ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার, কানাডায় ১৯ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার, স্পেনে ১৯ দশমিক ১৭ মিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্যে ১৮ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলারের তাঁবু ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি হয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা ধরে রাখতে হলে গুণগত মান, উৎপাদন ব্যয়, সময়মতো সরবরাহ এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন পণ্য তৈরির সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানি আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে (ইপিজেড) তাঁবু, ক্যাম্পিং ফার্নিচার, স্লিপিং ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক ও অন্যান্য আউটডোর পণ্য উৎপাদন করছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীন এ খাতের কারখানাগুলোতে নতুন বিনিয়োগ এবং উৎপাদন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে এ খাতে প্রায় আটটি নতুন বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, হংকংসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা তাঁবু ও ক্যাম্পিং পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছেন।

সানশাইন আউটডোর বিডি কোং লিমিটেড তাঁবু ও ক্যাম্পিং পণ্য উৎপাদনে ১৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য জমি ইজারা চুক্তি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পিএইচ ক্রিয়েটিভ বিডি লিমিটেড তাঁবুর ফ্রেম, ফাইবারগ্লাস পোল, স্লিপিং ব্যাগ ও ক্যাম্পিং চেয়ার তৈরিতে ২৪ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের চুক্তি করেছে।

এ ছাড়া গ্রিন পিউর হাউসওয়্যার কোম্পানি লিমিটেড গ্রিনহাউস ও হাইড্রোপনিকস টেন্ট উৎপাদনে প্রায় ৩৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেডও উৎপাদন সম্প্রসারণে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তাঁবু ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে বিনিয়োগ চুক্তি, নির্মাণাধীন প্রকল্প এবং পূর্ণ উৎপাদনে থাকা কারখানার তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম উৎপাদনের কার্যক্রম গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় তাঁবুর পাশাপাশি ক্যাম্পিং চেয়ার, ক্যানোপি, স্লিপিং ব্যাগ, হ্যামক, ট্রাভেল ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক এবং অন্যান্য আউটডোর পণ্য তৈরি হচ্ছে।

প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেডের চট্টগ্রামে একাধিক উৎপাদন ইউনিট রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাঁবু ও ক্যাম্পিং পণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভ্রমণসামগ্রী তৈরি করে। চাহিদা বাড়ার কারণে মিরসরাইয়ে নতুন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার মালিকানাধীন এইচকেডি ইন্টারন্যাশনালও এ খাতের উল্লেখযোগ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশে উৎপাদন কার্যক্রম এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের তথ্য খাতটির প্রতি বিদেশি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ তুলে ধরে।

অন্যদিকে, কর্ণফুলী ইপিজেডে অফমা ক্যাম্প লিমিটেড ক্যাম্পিংয়ের জন্য হ্যামক, স্লিপিং ব্যাগ, বালিশসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হয়। একই অঞ্চলে পার্ক বাংলাদেশ ট্রাভেল ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক ও অন্যান্য ব্যাগ তৈরি করে বিদেশে পাঠাচ্ছে।

এসব কারখানার কার্যক্রম দেখায়, আউটডোর পণ্য শিল্প শুধু তাঁবু উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে টেক্সটাইল, ধাতব কাঠামো, প্লাস্টিক, ব্যাগ ও বিভিন্ন আনুষঙ্গিক পণ্যের উৎপাদন। ফলে এ খাতের সম্প্রসারণে একাধিক শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়লেও তাঁবু শিল্পে স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল উৎপাদনের ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। পলিয়েস্টার ও নাইলন ফেব্রিক, বিশেষ কোটিং, মেশ, দড়ি, ফ্রেম ও পোলের মতো উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেডের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক কামার উল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি অংশ আমদানি করতে হয়, যার মধ্যে চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আনা উপকরণ রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে এসব কাঁচামালের উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে কাঁচামাল সংগ্রহের সময় কমলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করাও সহজ হতে পারে।

এ জন্য প্রয়োজন বিশেষায়িত কাপড় ও কোটিং উৎপাদনের প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা, স্থানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। কাঁচামাল উৎপাদনে নতুন উদ্যোগ গড়ে উঠলে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্পের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্পও উপকৃত হতে পারে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এখনো তৈরি পোশাকনির্ভর। এ পরিস্থিতিতে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জামের মতো পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো অর্থনীতিতে পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে সহায়তা করতে পারে।

তবে শুধু বিদেশি বিনিয়োগ বা বৈশ্বিক চাহিদা বাড়লেই এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নিশ্চিত হবে না। স্থানীয় কাঁচামাল উৎপাদন, প্রযুক্তির উন্নয়ন, দক্ষ কর্মী তৈরি, পণ্যের মান বজায় রাখা এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

সব মিলিয়ে, তাঁবু ও আউটডোর পণ্য শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির জন্য একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে এ খাতে রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং দেশীয় মূল্য সংযোজন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সিদ্দিকা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৭ মৌসুমের মিনি নিলাম আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

আর্জেন্টিনা বনাম উরুগুয়ে ম্যাচ কবে, জেনে নিন সূচি

আর্জেন্টিনা বনাম উরুগুয়ে ম্যাচ কবে, জেনে নিন সূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: লিওনেল মেসিকে ছাড়াই নতুন অধ্যায়ের শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ...

রোনালদোকে টানা ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা!

রোনালদোকে টানা ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: পর্তুগাল জাতীয় দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা ...