নতুন পে-স্কেলে কত টাকা বকেয়া পাবেন, নিজেই হিসাব করবেন যেভাবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের আগ্রহের অন্যতম বিষয় হলো নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে কত টাকা বকেয়া পাওয়া যেতে পারে। পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্য, বাড়িভাড়া, বিশেষ সুবিধা এবং বকেয়ার সময়সীমা বিবেচনায় নিয়ে এই হিসাব করতে হয়। এ জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে একটি এইচটিএমএলভিত্তিক পে-স্কেল বকেয়া ক্যালকুলেটর।
এই ক্যালকুলেটরে নিজের বেতনসংক্রান্ত তথ্য দিলে সম্ভাব্য নতুন মূল বেতন, মাসিক বেতনের পার্থক্য, বাড়িভাড়ার সমন্বয় এবং নির্দিষ্ট কয়েক মাসের বকেয়ার হিসাব দেখা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, ক্যালকুলেটরে পাওয়া অঙ্ক চূড়ান্ত সরকারি বকেয়ার নিশ্চয়তা নয়। প্রকৃত অর্থ নির্ভর করবে অনুমোদিত বেতন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনার ওপর।
নতুন পে-স্কেলের বকেয়া হিসাব করবেন যেভাবে
ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে কয়েকটি ধাপে নিজের বেতন ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। সঠিক তথ্য ব্যবহার করলে সম্ভাব্য বকেয়ার একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে।
১. নাম, পদবি ও অফিসের তথ্য দিন
প্রথমে ক্যালকুলেটরে নির্ধারিত ঘরে নিজের নাম, পদবি ও অফিসের নাম লিখুন। এসব তথ্য সাধারণত ঐচ্ছিক। ফাঁকা রাখলেও বেতন ও বকেয়ার হিসাব পরিবর্তিত হওয়ার কথা নয়।
২. নিজের গ্রেড নির্বাচন করুন
২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩০ জুনে আপনার জন্য প্রযোজ্য গ্রেড নির্বাচন করুন। গ্রেডের তথ্য ভুল হলে সম্ভাব্য বেতন ও বকেয়ার হিসাবেও পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
৩. পুরোনো মূল বেতন লিখুন
নিজের পে-স্লিপ দেখে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কার্যকর মূল বেতনের পরিমাণ নির্ধারিত ঘরে লিখুন। ক্যালকুলেটরের তালিকায় আপনার বেতনের অঙ্ক না থাকলে ‘অন্য অঙ্ক লিখব’ অপশন ব্যবহার করে নিজেই পরিমাণ লিখতে পারেন।
৪. ১ জুলাইয়ের মূল বেতন যাচাই করুন
বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট প্রযোজ্য হলে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুরোনো বেতন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতনের পরিমাণ লিখুন। এ ক্ষেত্রে নিজের ইনক্রিমেন্টের তারিখ ও প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা জরুরি।
৫. কর্মস্থল অনুযায়ী বাড়িভাড়ার তথ্য দিন
কর্মস্থল নির্বাচন করলে ক্যালকুলেটরে বাড়িভাড়ার হার নির্ধারিত হতে পারে। তবে কর্মস্থল, মূল বেতন এবং প্রযোজ্য সরকারি বিধান অনুযায়ী বাড়িভাড়ার অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে। তাই সম্ভব হলে পে-স্লিপের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
৬. কত মাসের বকেয়া হিসাব করবেন, তা নির্বাচন করুন
ক্যালকুলেটরে বকেয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করুন। এতে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব প্রাথমিকভাবে সেট করা থাকতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময়সীমা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে যে সময়ের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেই সময়ের সরকারি অনুমোদন ও কার্যকর তারিখ যাচাই না করে কোনো অঙ্ককে নিশ্চিত বকেয়া হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
৭. ইনক্রিমেন্টের তথ্য পরীক্ষা করুন
ক্যালকুলেটরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ না হলে ইনক্রিমেন্টের টিক চিহ্ন তুলে দিতে বলা হয়েছে। তবে এটি ক্যালকুলেটরের নিজস্ব হিসাবপদ্ধতি। আপনার ক্ষেত্রে কোন নিয়ম প্রযোজ্য, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধান ও বেতন নির্ধারণের তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
৮. বাড়িভাড়া ও বিশেষ সুবিধার অঙ্ক মিলিয়ে নিন
পে-স্লিপে উল্লেখ করা বাড়িভাড়া বা বিশেষ সুবিধার পরিমাণ ক্যালকুলেটরের হিসাবের সঙ্গে না মিললে প্রযোজ্য তথ্য সংশোধন করুন। নতুন মূল বেতন সম্পর্কে সরকারি গেজেট বা আইবাস++-এর নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে সেটিও ক্যালকুলেটরের নির্ধারিত ঘরে ব্যবহার করে হিসাব যাচাই করা যেতে পারে।
ক্যালকুলেটরে কোন কোন তথ্য দেখা যাবে?
প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ক্যালকুলেটর সম্ভাব্য বকেয়ার একটি বিবরণী তৈরি করতে পারে। এতে সাধারণত দেখা যায়:
-
নতুন মূল বেতনের সম্ভাব্য হিসাব
-
পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের মাসিক পার্থক্য
-
বাড়িভাড়ার সম্ভাব্য সমন্বয়
-
বিশেষ সুবিধাসংক্রান্ত হিসাব
-
মাসভিত্তিক বকেয়ার পরিমাণ
-
সব মিলিয়ে মোট সম্ভাব্য বকেয়া
ক্যালকুলেটরের নির্দেশনায় গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর জন্য ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর জন্য ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির ভিত্তিতে প্রাথমিক বেতন হিসাবের কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধার ১০ বা ১৫ শতাংশ বাদ দিয়ে হিসাব সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে এসব হারকে চূড়ান্ত সরকারি বেতন বৃদ্ধির হার হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট সরকারি গেজেট, অনুমোদিত বেতন কাঠামো ও কার্যকর নির্দেশনার সঙ্গে তথ্যগুলো মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
বকেয়ার হিসাব প্রিন্ট বা পিডিএফে সংরক্ষণ করবেন যেভাবে
ক্যালকুলেটরে তথ্য দেওয়ার পর হিসাবের বিবরণী সংরক্ষণ করতে চাইলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
১. হিসাব সম্পন্ন হলে ‘বিবরণী প্রিন্ট করুন’ বোতামে ক্লিক করুন।
২. কাগজে প্রিন্ট করতে প্রিন্টারের সেটিংসে এ৪ আকার নির্বাচন করুন।
৩. পিডিএফ হিসেবে রাখতে চাইলে প্রিন্ট অপশন থেকে ‘Save as PDF’ নির্বাচন করে ফাইলটি সংরক্ষণ করুন।
এভাবে নিজের সম্ভাব্য বকেয়ার হিসাব পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনা করা বা পে-স্লিপের সঙ্গে তুলনা করা সহজ হবে।
হিসাব করার আগে যে বিষয়টি অবশ্যই যাচাই করবেন
ক্যালকুলেটরের ‘স্কেল টেবিল’ অংশে দেওয়া বেতনসংক্রান্ত তথ্য সরকারি গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬-এর উল্লেখ থাকলে সংশ্লিষ্ট নথির সত্যতা, বিষয়বস্তু এবং আপনার ক্ষেত্রে এর প্রযোজ্যতা যাচাই করুন।
শুধু কোনো ক্যালকুলেটরে নির্দিষ্ট অঙ্ক দেখালেই সেটি সরকারি পাওনা হিসেবে নিশ্চিত হয় না। নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন, কার্যকর তারিখ, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া, বিশেষ সুবিধা এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নিয়মের ওপর চূড়ান্ত বকেয়া নির্ভর করবে।
সুতরাং, নতুন পে-স্কেলে সম্ভাব্য বকেয়া সম্পর্কে ধারণা পেতে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন। তবে চূড়ান্ত হিসাবের জন্য সরকারি গেজেট, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা এবং নিজের পে-স্লিপের তথ্য যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সোহাগ/
