সয়াবিন তেল, পেয়াজ-রসুনসহ আজকের পণ্যের বাজারদর
নিজস্ব প্রতিবেদক: সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর পরও রাজধানীর বাজারে সরবরাহ সংকট কাটেনি। এর মধ্যে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে তেল। অন্যদিকে সবজি ও মসলার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ব্রয়লার মুরগির দাম আবারও কেজিতে ২০০ টাকা ছুঁয়েছে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। তবে দাম বাড়ার পরও বাজারে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। এমনকি কিছু বাজারে পুরনো দামের তেলও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
এতে নতুন করে ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসারে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খিলক্ষেত কাপ্তান বাজার, রায়সাহেব বাজার, বাবুবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল
সরকার সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর পরও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা ও কারওয়ান বাজারে ঘুরে দেখা যায়, প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ২০৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
খিলক্ষেতের বাসিন্দা মো. রহিম বলেন, সরকার সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের লাভ হবে, কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের আয় তো বাড়েনি। সংসারে এমনিতেই সব সময় চাপ থাকে। কোনো পণ্যের দাম বাড়লেই সেই চাপ আরও বেড়ে যায়।
কিছুটা কমেছে সবজির দাম
সবজির বাজারে অবশ্য তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে। শুক্রবার প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, ঝিঙে ও জালি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। করলা ৭০ টাকা এবং লাউ ও ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। তবে দেশি শসার দাম তুলনামূলক বেশি, প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
অন্যদিকে বেগুন ও টমেটোর দাম এখনো চড়া। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দামের সবজির মধ্যে রয়েছে শিম। বাজারভেদে প্রতি কেজি শিমের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।
সরবরাহ বাড়ায় কাঁচা মরিচের দামও কিছুটা কমেছে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি আবারও ২০০ টাকা
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও মাছ-মাংসের বাজারে তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংসের দাম ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি।
ডিমের দামেও বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই
সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর মাছের বাজারেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে।
ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।
আশা/
