ঢাকা, রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৬ মাঘ ১৪২৬

বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

২০১৯ ডিসেম্বর ১২ ২১:০৬:৫২
বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

কারারুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে বিএনপি। একই দিন ঢাকায় দুপুর ২টার পর প্রতিটি থানায় সমাবেশ ও মিছিল করবে দলের নেতাকর্মীরা।

কারারুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে বিএনপি। একই দিন ঢাকায় দুপুর ২টার পর প্রতিটি থানায় সমাবেশ ও মিছিল করবে দলের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটি বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। লন্ডন থেকে স্কাইপিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্ব করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী রোববার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করছি।

তিনি বলেন, আমরা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, রোববার দিন সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে। ঢাকা মহানগরে প্রতি থানায় থানায় বেলা দুইটার পর থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই হচ্ছে আপাতত আগামী রোববারের জন্য এই কর্মসূচি। পরের কর্মসূচি এরপরে ঘোষণা করবো।

মির্জা ফখরুল বলেন, যে রায় হয়েছে সেই রায়ে আমরা হতাশ এবং ক্ষুব্ধ। জাতি পুরোপুরিভাবে স্তম্ভিত শুধু নয়, ক্ষুব্ধ। যে প্রত্যাশা মানুষের মধ্যে ছিলো যে অন্তত সর্বোচ্চ বিচারালয় ব্যবস্থায় যা আমাদের শেষ আশা-ভরসারস্থল যেখান থেকে মানুষ এবং তাদের প্রিয় নেতা ন্যায় বিচার পাবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি সেই ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জনগনের সক্রিয় আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এই যে সরকার যারা আজকে জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে তাদেরকে বাধ্য করব এই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নতুন নির্বাচন দিয়ে জনগনের সরকার গঠনে আমরা বাধ্য করব।সেই সময়ে জনগনের সামনে আমরা অন্তত এটুকু নিয়ে আসতে পারবো যে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সেই স্বপ্ন যেন জনগন দেখতে পারে।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীনের খালেদা জিয়ার মামলায় আপীল বিভাগের রায় বিস্তারিতভাবে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়াকে সাত বছর কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে আপিলের পর হাইকোর্ট শুনানির জন্য আপিল গ্রহণ করলেও পরে জামিনের আবেদন খারিজ করেছেন। এ খারিজাদেশের বিরুদ্ধে জামিন চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছিলো। কিন্তু সে আবেদন বৃহস্পতিবার খারিজ হয়ে যায়।

আইনজীবীদের মতে, বিএনপি চেয়ারপারসন কেবল দুই মামলায় জামিন পেলে তিনি কারামুক্ত হতে পারবেন। একটি হলো ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা। যেটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন। অপরটি হলো জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা। যে মামলায় সাত বছরের দণ্ড হয়েছে। মামলাটির হাইকোর্ট বিভাগে আপিল বিচারাধীন। বৃহস্পতিবার এ মামলায় তার জামিন আবেদন আপিল বিভাগ খারিজ করেন।

অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা: ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারাঅধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকারবিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।

একইসঙ্গে খালেদার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। সেই থেকে কারাবন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। পরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ওই বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া আপিল করেন। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকও আবেদন করেন।

খালেদা জিয়া, অন্য আসামিদের আপিল এবং দুদকের আবেদনের শুনানি শেষে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদার সাজা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। বাকীদের সাজা বহাল রাখেন।

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ১৪ মার্চ আপিল বিভাগে আপিল করেন খালেদা জিয়া। এ আবেদনের সঙ্গে জামিনও চেয়েছেন খালেদা জিয়া। যেটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট: গত ২৯ অক্টোবর পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।

একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাজা হয়েছে মামলার অপর তিন আসামিরও।

খালেদা জিয়ার পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিনজন হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এর বিরুদ্ধে গত ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করা হয়।

উপস্থাপনের পর গত ৩০ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অর্থদণ্ড স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে দুই মাসের মধ্যে ওই মামলার নথি তলব করেন। এরপর ২০ জুন বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। পরে ১১ সেপ্টেম্বর ফের জামিন আবেদন ফেরত দেন বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি এএসএম আব্দুল মোবিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে আপিল বিভাগে জামিন আবেদন করেন।

পূর্বপশ্চিম


জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর