ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬

তারকা অভিধায় আমি বিশ্বাসী নই

২০১৯ ডিসেম্বর ০৫ ১৬:২১:০৭
তারকা অভিধায় আমি বিশ্বাসী নই

শোবিজ তারকার গল্প শুনতে সর্বদাই কৌতূহল থাকে পাঠক মনে। প্রিয় শিল্পী কীভাবে শোবিজে যুক্ত হলেন, কীভাবে তারকা বনে গেলেন, আর কীভাবে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে গেল? পাঠক মনের এমন প্রশ্নের উত্তর জানাতেই তারা ঝিলমিলের নতুন আয়োজন ‘টার্নিং পয়েন্ট’। ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরার

গল্প নিয়ে সাজানো এ আয়োজনে এবার নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। লিখেছেন - চঞ্চল চৌধুরী। দেশের শক্তিমান অভিনেতাদের একজন। মঞ্চ, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র- তিন মাধ্যমেই সমানভাবে সফল তিনি। অভিনয়ের বাইরেও গান, ছবি আঁকা এবং বাদ্যযন্ত্র বাজানোতেও দক্ষ এ অভিনেতা। প্রত্যেক অভিনেতারই একটা শেকড় থাকা প্রয়োজন। যার মাধ্যমে বৃক্ষের মতো শাখা-প্রশাখা মেলে সুদূরভাবে নিজেকে মেলে ধরা সম্ভব। বিশ্বের শক্তিমান সব অভিনয়শিল্পীর সেই শেকড়টাই হচ্ছে মঞ্চ। অভিনয় ছাড়াও নাচ, গান কিংবা অন্যান্য যে কোনো মাধ্যমেই একজন অভিনয়শিল্পীর শুরুর সেই শেকড়টা হতে পারে মঞ্চ। চঞ্চল চৌধুরীও নিজের পথচলার রেখা অঙ্কন করেছেন এই শেকড়কে কেন্দ্র করে।

১৯৯৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়াকালীন নিজেকে যুক্ত করেন নাট্যদল আরণ্যকের সঙ্গে। এ দলের হয়ে অভিনয় করেছেন ‘সংক্রান্তি’, ‘ময়ূর সিংহাসন’ ও ‘রাঢ়াঙ’-এর মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় এবং দর্শকনন্দিত নাটকে। নিজের মধ্যে লুকায়িত অভিনয়ের সুপ্ত প্রতিভাকে প্রায় একটানা দশ বছর লালন করেছেন এ অভিনেতা। অভিনয়ের বাইরে এই দশ বছর মঞ্চের নেপথ্যে কাজ করেছেন চঞ্চল। পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি হলেও তার সঙ্গে নিজের মেধা, সততা, কাজের প্রতি একাগ্রতার সমান ব্যবহারই তাকে করেছে পরিপূর্ণ শিল্পী এবং যার সংলাপের সঙ্গে কথা বলে তার শরীরের সব অঙ্গ প্রতঙ্গ।

শিল্পীসুলভ সব গুণাবলি বিদ্যমান এ অভিনেতার মধ্যে। তারকা খ্যাতি পাওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারকা বা স্টার এ উপাধিতে আমি বিশ্বাস করি না। আমি বরাবরই একজন অভিনয়শিল্পী হতে চেয়েছি। কাজকে ভালোবাসি এবং কাজটাই করে যেতে চাই। আমাদের এখানে তারকা বিশেষণটা খুবই সহজেই যে কারও নামের পাশে বসে যায়। তারকা বিষয়টা আসলে অত সহজ নয়। আমি অভিনয় পাগল মানুষ, সাধারণভাবে চলাফেরার চেষ্টা করি। তবে সবচেয়ে ভালোলাগে দর্শকদের ভালোবোসা।

তখন দর্শক ভালোবেসে আপন ভেবে কথা বলতে চায় এটাই মনে হয় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’ অভিনয় ক্যারিয়ারের এ দীর্ঘ পথচলায় নিজ সফলতার মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কতটা সফল হতে পেরেছি তা জানি না। যদি আমাকে এ পর্যায়ে এসে কেউ সফল বলে বিবেচিত করে তাহলে আমি বলব- শুধু অভিনয়ই নয় যে কোনো পেশায় নিজের সততা আর মেধাকে সঙ্গী করে নিয়মিত অধ্যবসায় করলে সফলতা আসবেই। একেকজনের সফলতা একেকরকম হতে পারে।

তবে সফলতা ধরা দেবে এটা নিশ্চিত।’ প্রায় দুই যুগের ক্যারিয়ারের এ পথচলায় ২০০৫ সালে সর্বপ্রথম নিজ প্রতিভার দ্যুতি সবার মাঝে ছড়িয়ে দেন চঞ্চল চৌধুরী। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে সবার নজর কাড়েন তিনি। তারপর ক্রমান্বয়ে শুরু হয় স্বপ্নের পথচলা। নিজ প্রতিভার সিঁড়ি বেয়ে ধাপে ধাপে বন্ধুর পথকে আপন করে নেন চঞ্চল চৌধুরী।

পরবর্তী সময়ে গিয়াসউদ্দিন সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু এবং সাইদুল আমান টুটুলের মতো গুণী নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেন এ অভিনেতা। প্রথম অভিনয় করেন মামুনুর রশিদ পরিচালিত একটি একক নাটকে। নাটকটির দুটি দৃশ্যে একজন সাংবাদিক চরিত্রে দেখা মেলে তার। সেই নাটকে তার সহশিল্পী ছিলেন বিপাশা হায়াত।

আত্মবিশ্বাসে তরী বেয়ে পথচলা সফল এ অভিনেতা ২০০৬ সালে তৌকির আহমেদের পরিচালনায় ‘রূপ কথার গল্প’ নামে প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তবে ২০০৯ সালে গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত তার অভিনীত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘মনপুরা’ই হচ্ছে তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। বলা যায় এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন এক চঞ্চলকে খুঁজে পেয়েছে দর্শক। এরপর অমিতাভ রেজার ‘আয়নাবাজি’তে আবারও বাজিমাত।

সর্বশেষ হুমায়ূন আহমেদের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘দেবী’ ছবিতে মিসির আলীর চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় চঞ্চল চৌধুরী নামটিই যেন এখন নাটক কিংবা সিনেমার জন্য টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক এ কারণেই গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘পাপ-পুণ্য’ এবং মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্র দুটি নিয়ে চঞ্চল একটু বেশি আশাবাদী।


ঢালিউড এর সর্বশেষ খবর

ঢালিউড - এর সব খবর