ঢাকা, রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৬ মাঘ ১৪২৬

বিএনপির জুনিয়রদের কাছে সিনিয়র আইনজীবীরা অবরুদ্ধ, এজলাসে অবস্থান

২০১৯ ডিসেম্বর ০৫ ১১:৫৬:৫৫
বিএনপির জুনিয়রদের কাছে সিনিয়র আইনজীবীরা অবরুদ্ধ, এজলাসে অবস্থান

দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ না নিয়ে আদালত ত্যাগ করতে যাওয়া সিনিয়র আইনজীবীদের অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বিএনপি সমর্থক জুনিয়র আইনজীবীরা।বেগম জিয়ার জামিনের আদেশ না হওয়া পর্যন্ত চকলেট খেয়ে আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি পেছাতে চাইলে বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে আইনজীবীরা তাৎক্ষণিক এই কর্মসূচির ডাক দেন।

তবে এরইমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ রাষ্ট্রপক্ষের অন্যান্য আইনজীবী এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেছেন। আর এজলাসে অনড় অবস্থানে আছেন বিএনপি সসমর্থিত আইনজীবীরা।

কর্মসূচি চলাকালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন দলীয় আইনজীবীদের মধ্যে চকলেট বিতরণ করেন।

এর আগে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে তার আইনজীবীদের মধ্যে সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, এজে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, বদরুদ্দোজা বাদলসহ প্রমুখ আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন। দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

জুনিয়র আইনজীবীদের অবরুদ্ধের মুখে পড়ে দলের সিনিয়র আইনজীবীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, এজে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সবাইকে শান্ত হয়ে আদালত ত্যাগের নির্দেশ দেন। অনড় জুনিয়র আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ ব্যতীত আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষ ত্যাগ না করতে সিনিয়রদের হুঁশিয়ারি দেন। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের কয়েকদফা বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা আপিল বিভাগের আদেশের অপেক্ষায় বসে আছি। আদেশ নিয়েই আমরা বের হবো।

এর আগে চ্যারিটেবল মামলায় গত ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করেছিলেন। এরপর গত ১৪ নভেম্বর হাইকোর্টের খারিজাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন তার আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ১৪০১ পৃষ্ঠার ওই আপিল আবেদন দাখিল করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অর্থদণ্ড স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে দুই মাসের মধ্যে ওই মামলার নথি তলব করেছিলেন আদালত।

এরপর ২০ জুন বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। গত বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে।
সুত্র:পূর্বপশ্চিম


জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর