ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দেওয়া হলো হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার

২০১৯ নভেম্বর ১৩ ১০:০৫:০৪
দেওয়া হলো হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগেই এসেছিল। মোটামুটি সবাই জানতেন কোন দুই গুণী পাচ্ছেন এ বছরের হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার। অবশ্য এ জন্য দর্শকের আগ্রহের কমতি ছিল না। বরং পুরস্কার দেওয়া-নেওয়ার পাশাপাশি নাচ আর হ‌ুমায়ূন আহমেদকে বিষয় করে আড্ডায়

দারুণ সময় কাটাল হ‌ুমায়ূন অনুরাগী ও স্বজনদের। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ দিয়েই হ‌ুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যে পালাবদলের তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর একের পর এক উপন্যাসে পাঠকের কাছে নন্দিত হয়েছেন অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা নিয়ে। অনেক দিন ধরেই তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গস্পর্শী।

তিনি মধ্যবিত্ত জীবনের কথকতা সহজ-সরল গদ্যে তুলে ধরে পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন। আমৃত্যু সেই জনপ্রিয়তার স্রোতে ভাটার টান পড়েনি। বাংলা সাহিত্যের বরপুত্র হিসেবে তাঁকে আখ্যায়িত করেছেন সাহিত্য সমালোচকেরা। আপন দ্যুতিতে উদ্ভাসিত এই লেখকের স্মরণে দেশের কথাসাহিত্যিকদের শিল্পসৃষ্টিতে প্রেরণা জোগাতে প্রবর্তিত হয়েছে ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’। এক্সিম ব্যাংকের সহযোগিতায় পুরস্কারটি প্রবর্তন করেছে জনপ্রিয় পাক্ষিক ‘অন্যদিন’।

কাল বুধবার সেই জননন্দিত লেখক হ‌ুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মবার্ষিকী। দিনটিকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯’ দিল এক্সিম ব্যাংক ও পাক্ষিক পত্রিকা অন্যদিন। মূলত, কথাসাহিত্যে অবদানের জন্যই ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’। সামগ্রিক অবদানের জন্য প্রতিবছর একজন প্রবীণ ও একজন নবীন কথাসাহিত্যিককে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

এবার সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য এ পুরস্কার পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। নবীন সাহিত্যশ্রেণীতে পুরস্কার পেয়েছেন ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ উপন্যাসের জন্য সাদাত হোসাইন। আজ বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবীণ ও নবীন দুজন কথাসাহিত্যিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে রাবেয়া খাতুনকে পাঁচ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। সাদাত হোসাইনকে দেওয়া হয় এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।

পুরস্কার প্রদান মঞ্চটি এদিন হ‌ুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে নানা কথামালায় ভরে ওঠে। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করেন এই পুরস্কারের জন্য গঠিত বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অতিথিদের পাশাপাশি কথা বলেন হ‌ুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও লেখকের ছোট ভাই শিক্ষাবিদ লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বর্তমান সমাজে আমরা অবক্ষয় দেখি। আর এসব অবক্ষয় দূর করতে পারে সৃজনশীল নানা কর্ম। হ‌ুমায়ূন আহমেদের নামাঙ্কিত এ পুরস্কার এই অঙ্গনের মানুষদের অনুপ্রেরণা দেবে।’ মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্য শুধু অসংখ্য পাঠক তৈরি করেননি, পাশাপাশি তাঁর লেখা অনুপ্রাণিত করেছে অসংখ্য লেখককে। তাঁর নামাঙ্কিত এ পুরস্কার তরুণ লেখকদের উৎসাহিত করবে বলে আশা করি।

আসাদুজ্জামন নূর বলেন, ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদ এমন একজন মানুষ, যিনি অবিস্মরণীয় কিছু সৃষ্টি করে গেছেন। তিনি সৃষ্টিগুলো করেছেন বলেই আমরা কাজগুলো করতে পেরেছি। একজন জনপ্রিয় লেখক ও উঁচুমানের লেখকের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যদি লেখক উঁচুমানের না হন, তাহলে তাঁর লেখা জনপ্রিয় না হয়ে পারে না।’ জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদ অমরতার আসন গ্রহণ করেছেন। এখন তাঁর নামে নামাঙ্কিত পুরস্কার নিয়ে আমরা কত দূর যেতে পারি, সেটি দেখার বিষয়। এই পাঁচ বছরে যাঁরা এ পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন, তাঁরা এ পুরস্কারকে সম্মানিত করেছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, হ‌ুমায়ূন আহমেদ দীর্ঘ জীবন লাভ না করলেও তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে জাগিয়ে দিয়ে গেছেন। তাঁর লেখা বাংলাদেশের মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। তাঁর বড় কৃতিত্ব ঢাকায় তিনি একটি বিশাল পাঠকশ্রেণি তৈরি করেছেন, যার ফল এখনো রয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে রবীন্দ্রসংগীত ও হ‌ুমায়ূন আহমেদের লেখার গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা করেন মুনমুন আহমেদ ও তাঁর দল। অনুষ্ঠানে আরও এসেছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার,

বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, চিত্রশিল্পী হাশেম খান, মনিরুল ইসলাম, কবি রুবী রহমানসহ আরও অনেকে। ২০১৫ সালে প্রবর্তিত হয় ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’। ২০১৫ সালে ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছিলেন যথাক্রমে শওকত আলী এবং সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম। ২০১৬ সালে পুরস্কৃত হয়েছিলেন হাসান আজিজুল হক এবং স্বকৃত নোমান। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছিল জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত এবং মোজাফ্ফর হোসেনের হাতে। গত বছর এই পুরস্কার পেয়েছেন প্রবীণ কথাশিল্পী রিজিয়া রহমান এবং নবীন সাহিত্যশ্রেণিতে ফাতিমা রুমি।


পুরষ্কার এর সর্বশেষ খবর

পুরষ্কার - এর সব খবর