ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

রানির মুকুটের দাম কত

২০১৯ নভেম্বর ০৩ ১০:০৮:২০
রানির মুকুটের দাম কত

ব্রিটিশ রাজপরিবারে রয়েছে অসংখ্য মূল্যবান দ্রব্য। রাজপ্রাসাদ থেকে শুরু করে রাজপরিবারের প্রতিটা আসবাবের কারুকার্য চোখ ধাঁধানো। রাজ্যাভিষেকের সময় রীতি মেনে নতুন রাজা বা রানিকে মুকুট পরতে হয়। রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী এই মুকুটের গায়ে লাগানো রয়েছে বহু মূল্যবান রত্ন।

বেগুনি রঙের ভেলভেট কাপড়ে মোড়া ওই মুকুটের ওজন প্রায় আড়াই কিলোগ্রাম। বেশ ভারী হওয়ায় এই মুকুট মাথায় দিয়ে কিছু পড়ার জন্য কেউ মাথা ঝোঁকাতে পারেন না। তাই লেখাটাকেই চোখের সমানে এনে পড়তে হয়।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিরে, কালিনান এই রাজমুকুটে শোভা পায়। থমাস কালিনান দক্ষিণ আফ্রিকার খনি থেকে এই হিরে উদ্ধার করেন। সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ আধিপত্য ছিল। উদ্ধার হওয়া হিরে লুঠ করে নিয়েছিলেন সপ্তম এডওয়ার্ড। জানা গিয়েছে, এই হিরের ন’টা টুকরো করা হয়েছে। তার মধ্যে দুটো টুকরো মুকুটে লাগানো হয়েছে।

ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জের রাজ্যাভিষেকের আগে ১৯১০ সালে এই হিরের অংশ মুকুটে লাগানো হয়েছিল। মুকুটে লাগানো এই কালিনান হিরের মূল্য সাড়ে ৫২ কোটি ডলার। আর সব মিলিয়ে পুরো মুকুটটার মূল্য কত? মনে করা হয়, এই মুকুটের মোট মূল্য সাড়ে তিনশো কোটি ডলার! তবে প্রথমে নাকি মুকুটের মূল্যবান রত্নগুলো বিভিন্ন রাজ পরিবার থেকে ধার করা হত। প্রতিবার রাজ্যাভিষেকের সময় মূল্যবান রত্নে সেজে উঠত মুকুট। রাজ্যাভিষেকের পর তা আবার খুলে ফেলা হত।
কিন্তু ১৯১১ সালে পঞ্চম জর্জের রাজ্যাভিষেকের সময় থেকে এই রীতি বদলে যায়। সোনা, হিরের মতো নানা মূল্যবান রত্ন দিয়ে পাকাপাকিভাবে সেজে ওঠে মুকুট। এই মুকুটে রয়েছে বিখ্যাত হিরে কোহিনূরও। ১৯৩৭ সালে ব্রিটেনের রাজা ষষ্ঠ জর্জের অভিষেকের দিনে রানি এলিজাবেথের মাথায় যে মুকুট ছিল তাতে খচিত ছিল কোহিনূর। ১৯৫৩ সালে ওই মুকুট মাথায় নিয়েই রানির সিংহাসনে বসেন তার মেয়ে দ্বিতীয় এলিজাবেথ। বলা হয়, কয়েকশ বছর আগে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কল্লুর খনি থেকে পাওয়া ওই হীরাটি ছিল ৭৯৩ ক্যারেটের। ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে কয়েক দফা কাটা ও পালিশ করার পর এটি এখন ১০৫ ক্যারেট হয়েছে। অনুমান করা হয় কোহিনূরের বর্তমান মূল্য প্রায় ১৩ লাখ ডলার।

মুকুটটি বর্তমানে রাখা রয়েছে টাওয়ার অব লন্ডনে। মধ্য লন্ডনে টেমস নদীর উত্তর দিকে রয়েছে এই টাওয়ার। মুকুটটির প্রতিটা অংশের আলাদা মূল্য রয়েছে। এতে রয়েছে সাতটা নীলকান্ত মণি, যার মূল্য ২১ লাখ ৪২ হাজার ডলার। ২৬টা টুরমালিন রয়েছে মুকুটে, যার মূল্য প্রায় সাড়ে তিন হাজার ডলার। মুকুটের বেশি ভাগ অংশ সোনা দিয়েই তৈরি। ২২ ক্যারাটের সোনা রয়েছে এতে, মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার ডলার। এই মুকুটের সবচেয়ে কম দামি অংশ হচ্ছে বেগুনি রঙের ভেলভেট কাপড়টি। ঐতিহাসিক মূল্য যুক্ত এই কাপড়ের দাম মোটামুটি ৩ ডলার।

আর মুকুটের একেবারে নীচে মাথায় ঠিক ভাবে বসার জন্য যে আরমাইন রিং রয়েছে, সেটারও দাম বেশ কম, মাত্র ৩৪ ডলার।
সূত্র:আনন্দবাজার পত্রিকা


বহির্বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বহির্বিশ্ব - এর সব খবর