ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সাকিবের নিষেধাজ্ঞায় যা বললেন তারকারা

২০১৯ অক্টোবর ৩০ ১২:৪৪:০৫
সাকিবের নিষেধাজ্ঞায় যা বললেন তারকারা

জুয়াড়ির কাছ থেকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে প্রত্যাখ্যান করলেও বিষয়টি গোপন করায় বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

তবে দোষ স্বীকার করায় এক বছরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারবেন।

সাকিব আল হাসানের দুই বছরের নিষেধাজ্ঞায় স্তম্ভিত সারাদেশের মানুষ। এই ঘটনা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যও বড় ধাক্কা। এমন ঘটনায় তার প্রতি ভক্তরা ছাড়াও সহমর্মিতা জানিয়েছেন শোবিজ তারকারা।

জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসারত ইমরোজ তিশা ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, তুমি আমাদেরকে অনেক আনন্দের মুহুর্ত উপহার দিয়েছো, গোটা দেশকে এক করেছো, একই আনন্দে। আজকেও তুমি পুরো দেশকে এক করেছো, একই বেদনায়। আমরা তোমার সঙ্গেই আছি, সাকিব আল হাসান।

আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা মোশারফ করিম তার স্ট্যাটাসে বলেছেন, এটা সত্যিই অনাকাঙ্খিত। শক্ত হও এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসো।

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুকে লিখেছেন, বাংলাদেশ তোমার সঙ্গেই আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নাম যেহেতু ‘বাংলাদেশ’ শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছে, তাই দেশকে তোমার সঙ্গেই থাকতে হবে! জাতীয় স্বার্থের বেলায় ব্যক্তিগত বিরোধকে আমাদের বড় করে দেখা উচিত না। মনে রাখবেন সাকিব কোনো অপরাধ করেনি। বরং অপরাধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে সে বিষয়টি গোপন রেখে ভুল করেছে। এর জন্য তাকে বড় কোনো শাস্তি দেয়া ঠিক হবে না।

মডেল-উপস্থাপিকা মারিয়া নূর লিখেছেন, সাকিব ম্যাচ ফিক্সিং করে নাই। সে প্রস্তাব পেয়েছিলো, কিন্তু ফিরিয়ে দেয়। আইসিসিকে জানায় নাই!- এটাই তার ভুল!

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর লিখেছেন, সাকিব তুমি রাজার খেলা রাজার মত খেলেছো। তুমি যা খেলেছো দেশের জন্য, রাজা সমর্থক প্রজারা তোমার মত রাজার অনুগত থাকবে, কথা দিলাম।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার তিনটি আইন লঙ্ঘন করেছেন। এই অপরাধে তাকে এ শাস্তি দিয়েছে আইসিসি। তার বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি দমন আইনের ২.৪.৪ ধারার অধীনে তিনটি অভিযোগ তোলা হয়েছে।

আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে,

প্রথমত, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ের ত্রিদেশীয় সিরিজ বা ২০১৮ আইপিএলে জুয়াড়িদের কাছ থেকে প্রথম ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পান সাকিব। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটকে কোনো তথ্যই দেননি তিনি।

দ্বিতীয়ত, একই ধারার অধীনে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের সময়ই আরো একটি ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পান সাকিব। কিন্তু সে বিষয়েও তিনি আইসিসিকে কিছুই জানাননি।

তৃতীয়ত, ২০১৮ সালে আইপিএল খেলা চলাকালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের মধ্যকার ম্যাচেও ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পান সাকিব। কিন্তু সে বিষয়েটিও তিনি লুকিয়ে রেখেছিলেন। আইসিসি কিংবা সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি দমন সংস্থাকে কোনো ধরনের তথ্য জানাননি সাকিব।

এ বিষয়ে সাকিব বলেন, আমার ভালোবাসার খেলাটি থেকে নিষিদ্ধ হওয়ায় আমি অত্যন্ত বিষণ্ণ। তবে আইসিসিকে রিপোর্ট না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা আমি মেনে নিচ্ছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখার জন্য খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরশীল আইসিসি দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট (এসিইউ)। কিন্তু আমি এক্ষেত্রে আমার দায়িত্ব পালন করতে পারিনি।


মিডিয়া গসিপ এর সর্বশেষ খবর

মিডিয়া গসিপ - এর সব খবর