ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬

দেব-কোয়েলকে টপকে সুপারহিট প্রসেনজিত

২০১৯ অক্টোবর ১০ ১৪:১৫:৪৩
দেব-কোয়েলকে টপকে সুপারহিট প্রসেনজিত

দুর্গা পূজায় চাঙ্গা হয়েছে টালিউড। বলিউডের হাইভোল্টেজ ‘ওয়ার’ কিংবা আলোচিত তেলেগু ছবি ‘সাই রা’ এবং হলিউডের ‘জোকার’ ছাড়াও সেখানে এবার মুক্তি পেয়েছে চার ছবি। এগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িকভাবে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর লেগেছে প্রসেনজিৎ-দেবের।দেবের ‘পাসওয়ার্ড’ টেক্কা দিয়ে সুপারহিট ব্যবসা করেছেন সৃজিত মুখার্জি পরিচালিত প্রসেনজিতের ছবি ‘গুমনামী’।

মুক্তি পাওয়া প্রতিটি বাংলা ছবি নিয়েই দর্শকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ‘গুমনামী’, ‘পাসওয়ার্ড’, ‘মিতিন মাসি’, ‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’ সব কটি ছবিই কম-বেশি ব্যবসা করেছে। পশ্চিমবঙ্গের হল মালিক, ডিস্ট্রিবিউটর এবং প্রযোজনা সংস্থা থেকে পাওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে কলকাতার সংবাদমাধ্যম বলছে, দেবের ছবির চেয়ে প্রজেনজিতের ছবি কয়েক গুণ এগিয়ে।

এবারের পূজায় সবচেয়ে এগিয়ে সৃজিতের ‘গুমনামী’। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অরিন্দম শীল পরিচালিত ‘মিতিন মাসি’। তৃতীয় ধাপে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ‘পাসওয়ার্ড’ এবং সর্বশেষ সায়ন্তন ঘোষালের ‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’। পূজার এই চার বাংলা ছবির সঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল হৃতিক রোশন ও টাইগার শ্রফের ‘ওয়ার’। স্বাভাবিক ভাবেই ‘ওয়ার’-এর দখলে ছিল অধিকাংশ শো, যা নিয়ে কলকাতার প্রযোজক-পরিচালকদের ক্ষোভের শেষ ছিল না। গোটা ভারতবর্ষে দেশে চুটিয়ে ব্যবসা করেছে ‘ওয়ার’।

প্রথম সাতদিনে আয় করে ২০০ কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গ থেকে থেকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা আয় হয় ‘ওয়ার’-এর। কলকাতার সিনেআলোচকদের ধারনা, এ ছবিটি না থাকলে নিঃসন্দেহে বাংলা ছবি আরও ভাল ব্যবসা করতো। অল্প শো নিয়ে হলিউডের ছবি ‘জোকার’ও পশ্চিমবঙ্গে ভালো ব্যবসা করেছে। মুক্তির প্রথমদিন থেকেই হাউসফুল পাওয়া গেছে সৃজিতের ‘গুমনামী’।

টালিগঞ্জ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অটোগ্রাফ, বাইশে শ্রাবণ, জাতিস্মরের পর এবার পূজাতেও প্রসেনজিৎ-সৃজিত জুটি উপহার দিল সুপারহিট ছবি।

তার সত্যতা স্বীকার করেছেন নির্মাতা সৃজিত। জানালেন, তাদের জুটির বিগেস্ট ওপেনিং দিয়েছে ‘গুমনামী’। নেতাজির মৃত্যুরহস্য, ছবি নিয়ে বিতর্ক এবং প্রসেনজিৎ-সৃজিত জুটি যে ‘গুমনামী’কে অতিরিক্ত মাইলেজ দিয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

সূত্র বলছে, প্রথম সাত দিনে ২.৫৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে ‘গুমনামী’। অরিন্দম শীলের ‘মিতিন মাসি’ রয়েছে ঠিক পরেই। নাম ভূমিকায় কোয়েল মল্লিকের অভিনয় দর্শকের ভাল লেগেছে। পূজায় যতোগুলি ছবি মুক্তি পেয়েছে, তার মধ্যে ‘মিতিন মাসি’ই শিশুদের নিয়ে দেখার মতো ছবি। সে দিক থেকে অরিন্দমের ছবি খানিকটা সুবিধা পেয়েছে।

ছবির প্রযোজক নীলরতন দত্তর কথায়, ‘আমাদের ছবি মুক্তির পর থেকে সাত দিনে ১.৭৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। আমাদের বাজেট ছিল এক কোটি চল্লিশ লাখের মতো। সে দিক থেকে পুরো লাভটাই হল থেকে উঠে আসছে।’

এদিকে, ভালো হল পেয়েছিল দেবের ‘পাসওয়ার্ড’। কিন্তু সেই অনুযায়ী ভাল ব্যবসা করেনি ছবিটি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রথম সাতদিনে ৮৫ লক্ষ টাকার ব্যবসা করেছে ‘পাসওয়ার্ড’। ব্যবসায়িকভাবে অল্প একটু পিছিয়ে ‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’। জানা যাচ্ছে, ৮০ লক্ষের মতো ব্যবসা করেছে ছবিটি।

যদিও বাকি ছবিগুলোর তুলনায় এটি হল এবং শো কম পেয়েছিল। সেই বিচারে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ‘ব্যোমকেশ বক্সী’র পারফর্মেন্স মন্দ নয়।

প্রথম দিন থেকে একমাত্র ‘গুমনামী’ই জোরালো অবস্থান দেখিয়েছে। বাকি সব ক’টি ছবিই ষষ্ঠী থেকে জমজমাট চলেছে। পিভিআর-এর পূর্বাঞ্চলীয় শাখার কর্তা উজ্জ্বল বিশ্বাসের কথায়, ‘বাংলা ছবির মধ্যে এক নম্বরে থাকবে ‘গুমনামী’। তার পর ‘মিতিন মাসি’। ৭৮-৮২ শতাংশ ভর্তি ছিল ‘গুমনামী’। ‘মিতিন মাসি’ ৭০-৭৫ শতাংশ। ‘পাসওয়ার্ড’ এবং ‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’ দুটো ছবিই মোটামুটি ৫৫-৬০ শতাংশ অকুপেন্সি ধরে রেখেছিল।’

পূজায় ক’টা দিন ছুটি আর সেই হুজুগের ফলে বক্স অফিসে জোয়ার আসে। টিকে থাকতে গেলে কনটেন্টের জোর প্রয়োজন। প্রথম দফার পরে প্রযোজক-হল মালিকের লভ্যাংশের অনুপাতও বদলে যায়। তবে ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, প্রথম দফার কালেকশনে যে ছবি এগিয়ে থাকে, শেষ পর্যন্ত সেই ছবিই জেতে। গত কয়েক বছরের পুজোর বক্স অফিস রেকর্ড অন্তত তাই বলছে। সূত্র: আনন্দবাজার


টালিউড এর সর্বশেষ খবর

টালিউড - এর সব খবর