ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬

এবার ভিন্ন মাত্রার সুরে মেতে উঠেছে বাংলাদেশি তরুণেরা

২০১৯ অক্টোবর ১০ ১৩:২২:৪০
এবার ভিন্ন মাত্রার সুরে মেতে উঠেছে বাংলাদেশি তরুণেরা

বাংলাদেশে একদল দর্শক–শ্রোতার বিশেষ আগ্রহ দেখা যায় কোরীয় গান, সিনেমা আর নাটকের প্রতি। অনেকে আবার এই কোরীয় শিল্পী ও দলগুলোকে নিজের অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। আমরা চলতি সপ্তাহে তেমন কয়েকজন বাংলাদেশি তরুণ–তরুণীকে নিয়ে আয়োজন করি একটি অনুষ্ঠান। এতে তাঁরা আমাদের শোনান কোরীয় ভাষায় গান, দেখান নাচ। আরও শোনান এই সংস্কৃতির চর্চা করেই দেশ–বিদেশ থেকে বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন স্বীকৃতি ও পুরস্কার অর্জনের গল্প।

বিনোদনের জগতে কে–পপ বা কোরিয়ান পপ এক ভিন্ন ঘরানা, যার ভিত্তিতে রয়েছে গান ও নাচ দুটিই। অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও রয়েছে এর বড় একটি কমিউনিটি। গত কয়েক মাসে কোরিয়ান পপ নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে আনন্দ পাতায়, তারই ধারাবাহিকতায় ৫ অক্টোবর বিকেল চারটায় ‘আনন্দে কে-কমিউনিটি’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। এতে আমন্ত্রণ জানানো হয় বাংলাদেশের কোরীয় সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে জড়িত তরুণ–তরুণীদের। কারওয়ান বাজারের সিএ ভবনে প্রথম আলোর কার্যালয়ের সভাকক্ষটি সেদিন নাচ, গান, গল্পে মুখর হয়ে ওঠে। কী ছিল সেই অনুষ্ঠানে?

শুরু হয় শেফার গল্প দিয়ে
শেফা তাবাসসুমের কথা মনে আছে? ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের এই শিক্ষার্থী কে–পপের সঙ্গে নাচের চর্চা করে ঘুরে এসেছিলেন কোরিয়া থেকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নাচ দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন আরও নানা দেশের শিল্পী ও দলের সঙ্গে। শেষমেশ সবাইকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের শেফাই কোরিয়ান ওয়ার্ল্ড ফেস্টিভ্যালে জিতে নেন ‘বেস্ট সলো পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শেফা তাঁর সেই অর্জনের কথা শোনান—কীভাবে জাতীয় পর্যায়ের ধাপ পেরিয়ে কোরিয়ায় গেলেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপন করলেন, কেমন অভিজ্ঞতা অর্জন করলেন। শেফা বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেকে কে-পপ শুনলেও এর তেমন কোনো প্রশিক্ষক নেই। কোরিয়া থেকে সঞ্চয় করা নিজের অভিজ্ঞতাটুকু কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি আমি। এই চেষ্টা সামনেও চালিয়ে যাব।’

একাই র‌্যাপ করে যাচ্ছেন মাহিম
বাংলাদেশের কে–কমিউনিটির আরেক পরিচিত মুখ মাহিম মাহিমুজ্জামান। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি। কোরীয় ব্যান্ড এক্সোর গান শুনেই ভালো লেগে যায় দলটির ‘র‌্যাপ’ করার ধরন। সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে ধীরে ধীরে নিজেও র‌্যাপের চর্চা শুরু করেন। আজ বাংলাদেশে কোরীয় কমিউনিটিতে তাঁর র‌্যাপের বেশ কদর। মাহিম স্বপ্ন দেখেন, একদিন কোরীয় ভাষায় করা তাঁর র‌্যাপ শুনে বিস্ময় প্রকাশ করবেন কোরিয়ার নামজাদা শিল্পীরা। আমাদের বললেন, ‘একদিন মেধার খোঁজে বাংলাদেশে আসবে কোরিয়ার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো। এর আগ পর্যন্ত আমি আমার চেষ্টা চালিয়েই যাব।’

আরও কিছু অনুপ্রেরণার গল্প
রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ইরা আনজুম যুক্ত আছেন নাচের সঙ্গে। প্রথম আলোর কে–পপ নিয়ে ধারাবাহিক লেখাগুলো পড়ে নতুন করে নিজের শখ ও স্বপ্ন নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন তিনি। ইরা জানান, বাংলাদেশের কে–কমিউনিটির এগিয়ে যাওয়ার জন্য গণমাধ্যমগুলোর এগিয়ে আসা খুব প্রয়োজন। কারণ, আমাদের আশপাশের দেশ—ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা থেকে এরই মধ্যে অনেক স্থানীয় শিল্পী এই কে–পপ চর্চা করে নিজ নিজ দেশের জন্য অনেক সম্মান বয়ে এনেছেন। বাংলাদেশেও একদিন এমন হবে, এই আশা ব্যক্ত করেন ইরা।

‘অনুবাদে অনুরণ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ কাজ করে যাচ্ছে ২০১৮ সালের জুন থেকে। গ্রুপটি বিভিন্ন কোরীয় সিনেমা ও নাটক অনুবাদ করে বাংলায়। সেই গ্রুপের এক সদস্য জানান, ‘বাংলাদেশে হিন্দি, তামিল, ইংলিশ সিনেমা নিয়ে কাজ করে অনেকেই। কিন্তু কোরীয় কমিউনিটি নিয়ে বড় উদ্যোগ খুব কমই চোখে পড়ে। বছরের সেরা দু-একটা কোরীয় সিনেমা বা নাটকের বাংলা সাবটাইটেল আগে বের হতো। তবে এখন আমরা সেই সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ২০১৯ সালে এখন পর্যন্ত ৬০টির বেশি মুভি ও সিরিজের অনুবাদ করে বাংলায় সাবটাইটেল প্রকাশ করেছি আমরা।’ এ ছাড়া কোরীয় নাচ ও গানের চর্চায় লম্বা সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে বিডি কে–ফ্যামিলি। এই পরিবারেরই অন্যতম সদস্য কাজী সন্ধি। ২০১৯ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সন্ধির গল্পটাও বেশ মজার। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বরে কানাডার মন্ট্রিলে ছিল ‘প্রজেক্ট কে’ প্রতিযোগিতার অডিশন। বাংলাদেশে বসেই সেই অডিশনে অংশ নেন সন্ধি। অডিশনের জন্য ভিডিও পাঠিয়ে কণ্ঠ, নাচ ও র‌্যাপ—এই তিন বিভাগে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। সন্ধি আবেদন করেন নাচের জন্য। প্রথম ভিডিওটি পাঠানোর পর সারা পৃথিবী থেকে নির্বাচিত ৫০ জনের মধ্যে উঠে আসে বাংলাদেশের সন্ধির নাম। এখানেই শেষ নয়। ৫০ থেকে বাছাই করা হয় সেরা ৩। সন্ধির নাম ওঠে সেখানেও। তিনি দ্বিতীয় হন। ওই প্রতিযোগিতায় প্রথম হন তিউনিসিয়ার হাদিল রেইস আর তৃতীয় নিউজিল্যান্ডের ম্যাক্সি ওইয়াং। অবশ্য সন্ধি বাদে বাকি দুজনই ছিলেন কণ্ঠসংগীত বিভাগের। সে হিসেবে নাচের একমাত্র বিজয়ী বাংলাদেশের সন্ধিই। এ ছাড়া সন্ধির আরেকটি বিশেষ পরিচয় হলো, তিনি কিশোর আলোর একজন স্বেচ্ছাসেবক।

শেষ চমক রেবেলস গ্রুভ
কে–পপ ওয়ার্ল্ড ফেস্টিভ্যাল ২০১৯–এ বাংলাদেশ পর্বে বিজয়ী হয়েছে মেয়েদের নাচের দল রেবেলস গ্রুভ। আনন্দে কে–কমিউনিটি আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সেই দলের ছয় সদস্য। নিজেদের নাচ পরিবেশনের পাশাপাশি দল গঠন, চর্চা ও নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও আমাদের জানান তাঁরা। এ ছাড়া কে–পপ কমিউনিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে জেক ভার্নার নাচ পরিবেশন করেন, গান গেয়ে শোনান রাহমিনা তিথি।

আনন্দে কে–কমিউনিটি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কে–পপ ভক্ত কার্টুনিস্ট রাকিব রাজ্জাক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সঙ্গীত এর সর্বশেষ খবর

সঙ্গীত - এর সব খবর