ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চিত্রনায়িকা শাবনূরের স্বামী-সন্তান নিয়ে কেমন কাটছে প্রবাস জীবন

২০১৯ জুলাই ৩১ ২২:৪৭:০৩
চিত্রনায়িকা শাবনূরের স্বামী-সন্তান নিয়ে কেমন কাটছে প্রবাস জীবন

নব্বইয়ের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের সারা জাগানো জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী শাবনূর অভিনয় থেকে দূরে আছেন অনেক দিন থেকেই। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পরিবারসহ বসবাস করছেন তিনি। অভিনয় থেকে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়ে ব্যক্তি ও পরিবারিক জীবনটাকে এখন উপভোগ করছেন তিনি। সংসার ও সন্তানের দিকে তিনি এখন বেশি মনোযোগী।

তবে অভিনয় থেকে দূর থাকলেও তার জনপ্রিয় একটুও ভাটা পড়েনি। সেই নব্বই দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ে তিনি একইভাবে আছেন দর্শকের হৃদয়ে। তাকে নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই। তাই প্রিয় এই নায়িকা কেমন আছেন, কোথায় আছেন-জানতে চান দর্শকরা।

একমাত্র ছেলে আইজান নেহানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রয়েছেন। সেখানে ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করছেন। ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে মাস তিনেক পর দেশে ফেরার কথা রয়েছে শাবনূরের। গত ২৪ মার্চ সিডনিতে একটি ঘরোয়া পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন শাবনূর। সেখানে গিয়েছিলেন অভিনেতা শ্রাবণ খান।

অস্ট্রেলিয়ায় সময় কাটানো জনপ্রিয় এই তারকার পিকনিকে তোলা কিছু ছবি পাওয়া গেছে চলচ্চিত্র অভিনেতা শ্রাবণ খানের ফেসবুকের ওয়ালে। ছবিতে বেশ হাসিখুশি দেখা যাচ্ছে শাবনূরকে। পিকনিকে তিনি অনেকের সঙ্গে ছবি তুলেছেন। লাল রঙের একটি পোশাকে দেখা যাচ্ছে শাবনূরকে।

লের ৬ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ব্যবসায়ী অনিক মাহমুদের সঙ্গে শাবনূরের আংটি বদল হয় এবং ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাকে বিয়ে করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস শুরু করেন ও নাগরিকত্ব লাভ করেন। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি ছেলে সন্তানের মা হন।

১৯৭৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণে জন্মগ্রহণ করেন শাবনূর। তার পর্দার পেছনের নাম নুপুর। প্রথম চলচ্চিত্র কিংবদন্তি পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী রাতে’। ১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর ‘চাঁদনী রাতে’ মুক্তি পায়। সাব্বিরের বিপরীতে অভিনীত চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়।

তবে শাবনূরের মুগ্ধতার ইতিহাস শুরু হয় ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জহিরুল হক পরিচালিত ‘তুমি আমার’ ছবিটি দিয়ে। সালমান শাহের সঙ্গে জুটি বেঁধে এই নায়িকা ১৪টি ছবি করেন। তার সবগুলোই রেকর্ড সংখ্যকভাবে ব্যবসায়িক সাফল্য পায়। এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সফল জুটিগুলোর অন্যতম। বলা হয়ে থাকে সালমান-শাবনূর জুটি ইন্ডাস্ট্রির মিথ।

পরবর্তীতে এদের আদর্শ মেনেই এখানে নায়ক-নায়িকার জুটি গড়ে উঠেছে। তবে সালমানের যুগে ওমর সানী, অমিত হাসান, আমিন খান, বাপ্পারাজদের সঙ্গেও অভিনয় করে সফলতা পান শাবনূর।

সালমান মৃত্যু পরবর্তী সময়ে রিয়াজ, শাকিব খান ও ফেরদৌসসহ অনেক নায়কের সঙ্গেই অভিনয় করে সফল হন শাবনূর। তবে রিয়াজের সঙ্গে প্রায় অর্ধশত চলচ্চিত্রে জুটি বাঁধেন তিনি। এবং সবগুলো ছবিই ছিল ব্যবসায়িকভাবে সফল এবং আলোচিত। বলা হয়ে থাকে, রিয়াজ-শাবনূর জুটির পর ঢাকাই চলচ্চিত্রে সর্বজনীনভাবে জনপ্রিয় সুপারহিট আর কোনো জুটি আসেনি।

এই জুটির ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’, ‘মোল্লাবাড়ির বউ’, ‘প্রেমের তাজমহল’, ‘বুক ভরা ভালোবাসা’, ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’, ‘এ বাঁধন যাবে না ছিড়ে’, ‘মন মানে না’ ইত্যাদি ছবিগুলো মাইলফলক হয়ে আছে এদেশীয় চলচ্চিত্রে ব্যবসায়িক সাফল্যের ইতিহাসে।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে শাবনূরের সবচেয়ে বড় অর্জন ভক্ত-দর্শকের ভালোবাসা। পাশাপাশি অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত দুই নয়নের আলো চলচ্চিত্রের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়া পেয়েছেন বাচসাস পুরস্কার ও সর্বাধিক ১০ বার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার।


টালিউড এর সর্বশেষ খবর

টালিউড - এর সব খবর