ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা ১০ সেঞ্চুরিয়ান

২০২০ অক্টোবর ২২ ১৬:৪৮:৩০
ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা ১০ সেঞ্চুরিয়ান

যেকোনো ব্যাটসম্যানের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সেঞ্চুরিকে একটি মানদন্ড হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। যার যত বেশি সেঞ্চুরি, স্বাভাবিকভাবে তার রানের সংখ্যাও ততটাই বেশি এবং খেলোয়াড় হিসেবেও তিনি যথেষ্ট সুপরিচিত। যেকারণে ব্রায়ান লারা, ডন ব্রাডম্যান বা শচিন টেন্ডুলকারের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য আমরা সবসময় তাঁদের সর্বোচ্চ রান বা ব্যাটিং এভারেজের সঙ্গে সঙ্গে সেঞ্চুরির সংখ্যাটাও তুলে ধরি। অবশ্য এখানে একটা সমস্যাও আছে।

তা হলো, তাঁরা সবাই তো বিদেশি খেলোয়াড়। একারণে স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায় তিন দশক পার করে ফেলা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা সেঞ্চুরি হাঁকানোয় কতটা এগিয়ে রয়েছেন? এপ্রশ্নের উত্তরটি বলার আগে জানিয়ে রাখা ভালো, অন্যান্য শক্তিশালী দলগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় উত্থান পর্ব অনেক দেরিতে শুরু হয়েছে। বিশেষত ২০১৫ সালের আগেও বাংলাদেশকে নিতান্তই ছোটখাটো দল বলে বিবেচনা করা হতো।

আসলে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিপ্লবের শুরুটাও কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের তামিম-সাকিবদের হাত ধরেই। তারপরও বাংলাদেশিরা যে ব্যাটিং রেকর্ডসের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছেন, তাও কিন্তু নয়। হ্যাঁ, কোহলি-ওয়ার্নাররা এযাত্রায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন সত্য, কিন্তু গড় হিসাবে বাংলাদেশের প্রথম সারির ব্যাটসম্যানরা কিন্তু খুব একটা দূরে নেই। এছাড়া লিটন দাশ , সৌম্য সরকার বা নাইম শেখের মতো তরুণ প্রতিভাবানদের নিয়মিত অন্তর্ভুক্তিও ঘটছে জাতীয় দলে।

তাই এসব দেশের ক্রিকেটে এসব রেকর্ড-পরিসংখ্যানও কিন্তু একজায়গায় থেমে থাকছে না, বরং ক্রমশ আরো পরিপূর্ণতা পাচ্ছে। সেজন্য আজকের প্রতিবেদনে আমরা শীর্ষ দশজন টাইগার সেঞ্চুরিয়ানদের গল্প ভাগাভাগি করে নিতে চাই। যাঁদের মধ্যে অনেকের তো আবার আরো অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।

তামিম ইকবাল চাচা আকরাম খানও ছিলেন একসময়ের জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান সদস্য। খেলা ছাড়ার পর এখন বিসিবির প্রধান নির্বাচকদের একজন হিসেবেও দায়িত্বরত রয়েছেন তিনি। বড় ভাই নাফিস ইকবালও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার। এরকম পরিবারের ছেলে যদি ক্রিকেটার না হয়, তাহলে কে হবে বলুন তো? ক্রিকেটার হওয়ার সত্ত্বা তো তাঁর রক্তের প্রতিটি হিমোগ্লোবিনে লেখা থাকার কথা।

সেজন্যই তো বংশপরম্পরায় পাওয়া মেধাকে কাজে লাগিয়ে আজকের অবস্থানে উঠে এসেছেন চট্টগ্রামের বিখ্যাত খান পরিবারের ছেলে তামিম ইকবাল। ওয়ানডেতে টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির পাশাপাশি একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রায় সবকয়টি ব্যাটিং রেকর্ডসের মালিকও এখন তিনি। যেখানে তাঁর ধারেকাছেও কেউ নেই।

এখন পর্যন্ত মোট ২০৭টি ওয়ানডে খেলে মোট ৭২০২ রান করেছেন তামিম। পিছনে ফেলেছেন ক্রিকেট আকাশের হাজারো তারকাকে। ১৩টি সেঞ্চুরির সঙ্গে ৪৭টি ফিফটিও এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। বলে রাখা ভালো, তামিম ছাড়া অন্যকোনো বাংলাদেশির আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ১০টি সেঞ্চুরিও নেই। আর আশা করা যায়, ৩১ বছর বয়সী তামিম ভবিষ্যতে নিজের এসব পরিসংখ্যান আরো সমৃদ্ধ করে তুলবেন।

সাকিব আল হাসান প্রথম প্রথম বন্ধু তামিমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিয়মিত নতুন নতুন রেকর্ড ভাঙা-গড়ায় ব্যস্ত ছিলেন সাকিব। এই যেমন, আজ সাকিব যদি ভালো রান পেতেন, তাহলে কালকে তামিম সেটি পুষিয়ে দিয়ে নিজেকে উপরে নিয়ে যেতেন। পরেরদিন ফের সাকিব, তামিমকে একইভাবে টপকে যেতেন। অবশ্য কয়েকবছর ধরে তাঁদের মধ্যে আর সেরকম প্রতিযোগিতা দেখা যায়নি।

অলরাউন্ডার সাকিব যেন প্রিয় বন্ধুর পিছু নেওয়াটা একরকম ভুলেই গিয়েছিলেন। অবশ্য সর্বশেষ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের মাধ্যমে সেই ধারায় পুনরায় ফিরে আসেন তিনি। মাত্র ৮ ইনিংস খেলেই ৭৫.৭৫ গড়ে সংগ্রহ করেন ৬০৬ রান। তাঁর ক্যারিয়ারের ৯টি ওয়ানডে সেঞ্চুরির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২টিই এসেছিল সেবার। এছাড়া বন্ধু তামিমের মতো তাঁর নামের পাশেও রয়েছে ৪৭টি হাফসেঞ্চুরি।

মুশফিকুর রহিম মাশরাফি আদর করে তাঁকে নাম দিয়েছেন ‘বান্টুদা’। জাতীয় দলে তিনিই খুব সম্ভব সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমী খেলোয়াড়। এমনকি করোনার এই চরম দুঃসময়েও তিনি নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করে রাখছেন যাতে আগামীকাল খেলা শুরু হলেও, যাতে তিনি সেখানে নিজের সেরাটা দিতে পারেন। আবার বর্তমান সময়ের সবচেয়ে স্টাইলিশ ক্রিকেটারদের তালিকাতেও রয়েছে তাঁর নাম।

একইসঙ্গে ওয়ানডে ফর্ম্যাটে টাইগারদের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিও করেছেন টেস্ট ফর্ম্যাটে ইতোমধ্যে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া এই সুপারস্টার। ২১৮ ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত মোট ৭টি সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি। যেখানে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের (১৪৪) ইনিংসটিও ছিল। যেটি তিনি সর্বশেষ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক হাত ভাঙা বীর তামিমকে সঙ্গে নিয়ে খেলেছিলেন।

শাহরিয়ার নাফিস বাংলাদেশের জাতীয় দলে এখন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের অভাব নেই। সিনিয়র ক্রিকেটারদের মাঝে তামিম-সাকিবদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের নাইম শেখ, আফিফ হোসেন বা মোটামুটি অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার – সবাই বাঁ হাতে ব্যাটিং করেন। অথচ টাইগারদের প্রথম স্বীকৃত বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কে ছিলেন জানেন? শাহরিয়ার নাফিস। ২০০৫ সালের নেটওয়েস্ট সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত সাহসী ৭৫ রানের ইনিংস খেলার মাধ্যমে সুন্দর একটি যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি।

কিন্তু আফসোস! গুরুত্বপূর্ণ সেই যাত্রার জন্য তিনি যেই বাহনটি নির্বাচন করেছিলেন, সেটি মাত্র ৬ বছরের মাথায় নষ্ট হয়ে যায়। এরপর একে একে ৯টি বছর পেরিয়ে গেলেও হারানো পথটি আর খুঁজে পাননি নাফিস। তবুও ওয়ানডে ফর্ম্যাটে এখনো দেশের সেরা চারজন সেঞ্চুরিয়ানের তালিকায় তাঁর নাম আছে। ক্যারিয়ারের ৭৫টি ওয়ানডেতে ৩১.৪৪ গড়ে ২২০১ রান সংগ্রহ করা নাফিসের মোট সেঞ্চুরি ছিল ৪টি। অবশ্য জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার শামীম চৌধুরিসহ দেশের বহু শীর্ষ ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, নাফিস এখনো জাতীয় দলের হয়ে খেলার মতো যোগ্যতা রাখেন।

ইমরুল কায়েস ইমরুল কায়েস টাইগার শিবিরের ব্যতিক্রমধর্মী এক চরিত্র। ভার্চ্যুুয়াল জগতে সম্প্রতি তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ‘ইম্রুল ব্রো’ নামে। অবশ্য শাহরিয়ার নাফিসের মতো তাঁর গাড়ি মাঝপথে এসে খারাপ না হয়ে গেলেও, তাঁর দশাও অনেকটা ঢাকা শহরের লক্কড়-ঝক্কড় লোকাল বাসের মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা কোনো কোনো দিন এতো ভালো সার্ভিস দেয় যে, খুশি হয়ে তার গায়ে নতুন রঙের ছোঁয়া লাগাতে মন চায়।

আবার বাজে পারফরম্যান্সের কারণে অন্যান্য সময়ে সেটাকেই আবার লোহার জিনিসপত্র ভাঙার কারখানায় ফেলে আসতে মন চায়। প্রায় এক যুগ ধরে এভাবেই জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে দিয়ে আছেন তিনি। কখনো দুর্দান্ত ইনিংস খেলে নির্বাচকদের নজরে এসেছেন, আবার কখনো অফ ফর্মের কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন। তবে এই যাওয়া-আসার মধ্যদিয়েই ৪টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ১৬টি ফিফটিও হাঁকিয়েছেন ইমরুল। ৩২.০২ গড়ে রানও করেছেন প্রায় আড়াই হাজারের মতো (২৪৩৪)।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সেদিনও তামিম ইকবালের লাইভ অনুষ্ঠানে টাইগারদের ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা অনেকটা আক্ষেপের সুরে বলছিলেন যে, দলের স্বার্থেই মাহমুদউল্লাহকে তাঁর ক্যারিয়ারের অনেক বড় বড় স্বপ্নকে বিসর্জন দিতে হয়েছে। তা নাহলে তাঁর মতো যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যাটসম্যানের নামের পাশে এতদিনে যেকোনো ফর্ম্যাটে ৬-৭ হাজার রান থাকাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল।

হ্যাঁ, মাহমুদউল্লাহ হলেন বাংলাদেশের সোনালি প্রজন্মের অন্যতম সেরা গেম ফিনিশার, বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান। আবার ক্যারিয়ারের বাকি দুইটি সেঞ্চুরিও তিনি পেয়েছিলেন আইসিসির বড় টুর্নামেন্টে, বাংলাদেশের মহাবিপদের সময়ে। যার মধ্যে আবার একটি এসেছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মঞ্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাঁচা-মরার খেলায়, যেদিন তিনি এবং সাকিব মিলে ২৩২ রানের অবিশ্বাস্য একটি জুটি গড়ে বাংলাদেশকে রীতিমতো ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে টেনে বের করে সেমিফাইনালের আসরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এর বাইরে বাংলাদেশের আরো অগণিত জয়ের পিছনে তাঁর যে অবদান ছিল, তা অনস্বীকার্য।

এনামুল হক বিজয় জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের গল্পটাও অনেকটা ইমরুলের মতো। দুর্দান্ত সব উদ্ভাবনী শট ও দারুণ দারুণ ইনিংস খেলে ক্রমেই নির্বাচকদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন এনামুল। কিন্তু ক্যারিয়ারের প্রায় শুরুর দিকের অলক্ষুণে ইনজুরি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে।

যেকারণে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের নামের দাবিটা রেখে চোট কাটিয়ে নির্বাচকদের মন আর ‘বিজয়’ করে উঠতে পারেননি। গত ৮ বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ৩৮টি ওয়ানডেতে খেলার সুযোগ পাওয়া বিজয়ের মোট সেঞ্চুরি ৩টি। একইসঙ্গে সমসংখ্যক ফিফটিরও দেখা পেয়েছেন তিনি। এছাড়া গত বছরের জুলাইয়ে শেষ ওয়ানডে খেলা এনামুলের ওয়ানডেতে মোট সংগ্রহ ১০৫২ রান।

মোহাম্মদ আশরাফুল মোহাম্মদ আশরাফুল ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম সুপারস্টার। সফলতার সুউচ্চ স্থান থেকে শুরু করে অন্ধকার জগতের ভয়ংকর কক্ষ – ছোট্ট ক্যারিয়ারে এর সবটাই দেখেছেন তিনি। তবে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে যদি স্পট ও ম্যাচ ফিক্সিং কান্ডে তিনি না জড়াতেন, তাহলে গল্পটা আজ অন্যরকমই হতে পারত।

হয়তো বা তামিম-সাকিবদের টপকে বাংলাদেশের তো বটেই, বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানে পরিণত হতে পারতেন তিনি। তারপরও ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে খেলার সময় তাঁর ঝুলিতে ছিল তিনটি সেঞ্চুরি ও ২০টি হাফসেঞ্চুরির দারুণ স্মৃতি।

লিটন কুমার দাশ উঁচু-নিচু পাহাড়ে ঘেরা সিলেট নগরী আর আশেপাশের চা বাগানের নির্ভেজাল চা-কে হয়তো কখনোই সহজে ভুলতে পারবেন না লিটন। কারণ করোনা মহামারির আগে এই স্টেডিয়ামেই তিনি তামিমকে টপকে ছুঁয়ে ফেলেছিলেন ওয়ানডেতে বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ৮ ছক্কা ও ১৬ চারের মারে সেদিন মাত্র ১৪৩ বলেই খেলেছিলেন ১৭৬ রানের অনবদ্য এক ইনিংস।

এছাড়াও ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালে একটি এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঐ সিরিজেই আরেকটি সেঞ্চুরি করেছিলেন লিটন। আবার এনামুলের মতো তাঁরও রয়েছে তিনটি ফিফটি। অবশ্য সবেমাত্র ক্যারিয়ারের ৫ম বছরে পা রাখা লিটন, মাত্রই সফলতার পথ খুঁজে পেরেছেন। তাই আশা করা যায়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হয়ে আরো অনেক বড় বড় ব্যাটিং রেকর্ড নিজের দখলে নিবেন তিনি।

সৌম্য সরকার ২০১৫ সালের অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশ স্কোয়াডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল সদ্য অভিষিক্ত সৌম্য সরকার। তরুণ সৌম্য সরকার তখন থেকেই বেশকিছু দারুণ ইনিংস খেলে বরাবরই ছিলেন নির্বাচকদের নজরে। কিন্তু বছর কয়েক আগের ইনজুরিতে জাতীয় দলে কিছুটা অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি। বিশেষত ওয়ানডে ফর্ম্যাটে তাঁর অবস্থান হয়ে দাঁড়িয়েছিল – এই আছি, এই নাই রকমের।

যদিও টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে বরাবরই নিয়মিত তিনি। এরপরও ওয়ানডেতে ১১টি ফিফটির সঙ্গে ২টি সেঞ্চুরিও রয়েছে সৌম্যর। অবশ্য সেঞ্চুরির দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন সৌম্য।কারণ জাতীয় দলে সুযোগ পেলে কখনো ওপেনিংয়ে, কখনো তিন নম্বর পজিশনে আবার কখনো লোয়ার মিডল অর্ডারেও খেলতে হয় তাঁকে। যেকারণে তাঁর বেশিরভাগ ভালো ইনিংসগুলোই ষাট-সত্তরের ঘরের মধ্যে এসেই আটকে যায়।

যা হোক, সৌম্য সরকার বাংলাদেশের অন্যতম এক স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান। আর সাতাশ বছর বয়সী এই তরুণ সৈনিকের বলতে গেলে পুরো ক্যারিয়ারই এখনো পড়ে রয়েছে। তাই তাঁকে নিয়ে এখনি বিস্তর আলোচনা করাটা ঠিক হবে না। উল্লেখ্য, সৌম্যর পরে আর কারোরই আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে একাধিক সেঞ্চুরি নেই। এছাড়া যাঁদের যাঁদের ক্যারিয়ারে মাত্র একটি সেঞ্চুরি রয়েছে, তাঁরা হলেন – মেহরাব হোসেন অপি (দেশের হয়ে প্রথম ওডিআই সেঞ্চুরিয়ান), রাজিন সালেহ, জুনায়েদ সিদ্দিকী, অলক কাপালি, নাসির হোসেন ও সাব্বির রহমান।


খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর