ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

প্রশিক্ষণে অনীহা প্রবাসফেরত কর্মীদের

২০২০ অক্টোবর ১৯ ১৪:০২:১০
প্রশিক্ষণে অনীহা প্রবাসফেরত কর্মীদের

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী কর্মী ফেরত আসা অব্যাহত রয়েছে। গত ১ এপ্রিল থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে এক লাখ ৯৫ হাজার ৬৯৮ জন প্রবাসীকর্মী ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭৪ হাজার ৯১০ জন ও

নারী ২০ হাজার ৭৮৮ জন। এদের মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফেরত আসা প্রবাসীকর্মীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

মোট ফেরত প্রবাসীকর্মীদের ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ কর্মীই এ দুটি দেশ থেকে ফেরত এসেছেন। তবে দেশে ফেরত আসা প্রবাসী কর্মীদের সংখ্যা দুই লাখ ছুঁই ছুঁই হলেও তাদের বেশিরভাগই প্রবাসে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে খুব বেশি চিন্তিত নন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বেশ কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসা বিভিন্ন পেশার প্রবাসী কর্মীদের জন্য চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারি খরচে আরপিএল (রিকগনিশন অব প্রায়র লার্নিং) বা অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি দিতে প্রশিক্ষণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আমাদের দেশের প্রবাসী কর্মীরা বিভিন্ন পেশার কাজে অভিজ্ঞ হলেও তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সনদ না থাকায় তারা বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য

সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অন্য দেশের একজন সনদধারী ব্যক্তির তুলনায় বঞ্চিত হন। তাই তাদের কাজের অভিজ্ঞতার সনদ দিতেই এ প্রশিক্ষণ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণ নিতে ইচ্ছুক সকলেই চারদিনের (তিনদিনের প্রশিক্ষণ ও একদিনের প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা) প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে পূর্ব অভিজ্ঞতার সনদ পাবেন। এ সনদ নিয়ে প্রবাসীরা ফিরে গেলে তাদের চাকরি ও বেতন-ভাতাদিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে।

দেশে প্রথমবারের মতো প্রবাসী কর্মীদের আরপিএল প্রশিক্ষণের ঘোষণা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেছিলেন, হাজার হাজার প্রবাসফেরত কর্মী তাদের আহ্বানে সাড়া দেবেন। কিন্তু বাস্তবে আরপিএল প্রশিক্ষণ নিতে ইচ্ছুক প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা খুবই কম।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ৭১০ জন প্রবাসফেরত কর্মী প্রশিক্ষণে আগ্রহীর কথা জানিয়ে নাম লিখিয়েছেন। যারা নাম লিখিয়েছেন তাদের মধ্যে নির্মাণ শ্রমিক ২১৭ জন, ইলেকট্রিশিয়ান ৬৪ জন, ড্রাইভার ৫৮ জন, ওয়েল্ডিংয়ের ৩৭ জন, অটোমোটিভের দুইজন, মেকানিক ১০ জন, ক্লিনার ১৬ জন এবং অন্যান্য পেশার ৩০৬ রয়েছেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (প্রশিক্ষণ পরিচালনা) ড. প্রকৌশলী মো. সাকাওয়াৎ আলী বলেন, ‘মহামারি করোনাকালীন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় দুই লাখ প্রবাসী কর্মী ফেরত এলেও তাদের বেশিরভাগই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে খুব বেশি চিন্তিত নন। আরপিএল প্রশিক্ষণ নিতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রবাসী কর্মীদের আহ্বান জানানো হলেও আশাব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।’

তবে তাদের এ সাড়া না পাওয়াটাও ‘ইতিবাচক ইঙ্গিত’ বহন করছে বলে মনে করেন মন্ত্রণালয়ের এই পরিচালক। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, করোনাকালীন নানা কারণে প্রবাসী কর্মীরা ফিরে এলেও তারা নিজেরাই সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফিরে যেতে পারবেন- এমনটা ভেবেই হয়তো আরপিএল প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন না।

কয়েকমাস ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার কারণে প্রবাসী কর্মীদের অনেকেই দেশ ফিরে আসছেন বলে মনে করছেন সাকাওয়াৎ আলী। এছাড়া প্রবাসী কর্মীদের সর্বাত্মক সহায়তার জন্য প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য বিভিন্ন সহায়তার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।

ড. সাকাওয়াৎ আলী জানান, আগে শুধু দেশে অবস্থানরত বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য এ প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলেও বর্তমানে বিদেশফেরত কর্মীদের জন্য প্রথমবারের মতো এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।

সারাদেশের ৭০টি টিটিসি (টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার), ৪২টি ডিস্ট্রিক্ট ম্যানপাওয়ার অফিস (ডিএমইও) এবং ছয়টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির (আইএমটি) মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রবাসফেরত কর্মীদের ১৭ পেশার মানুষকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সরকারিভাবে তার কাজের অভিজ্ঞতার সনদ প্রদান করা হবে। তাই অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সনদের অভাবে বিদেশে যারা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পান না, তারা সবাই এ প্রশিক্ষণ নেয়ার ফলে উপকৃত হবেন।

তবে ফেরত আসা এক লাখ ৯৫ হাজার ৬৮৫ জন প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে ৩৬ হাজারেরও বেশি কর্মী কাজ না থাকায় ফেরত এসেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।


বহির্বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বহির্বিশ্ব - এর সব খবর