ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭

‘শোয়েব আখতারের চেয়েও জোরে বল করতাম’

২০২০ অক্টোবর ০১ ১৮:১৮:২০
‘শোয়েব আখতারের চেয়েও জোরে বল করতাম’

স্পোর্টস ডেস্ক বিশ্বের দ্রুততম বোলারের নাম শোয়েব আখতার- এই তথ্যটি ক্রিকেটের টুকটাক খোঁজ খবর রাখেন এমন সব লোকেরই জানা। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের নিক নাইটকে করা শোয়েবের একটি গুড লেংথ ডেলিভারির গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার (১০০.২ মাইল)। তার আগে ও

পরে এতো গতিতে বল ছুড়তে পারেননি আর কোনো বোলার। কিন্তু পাকিস্তানেরই আরেক সাবেক পেসার ফারুক হামিদের দাবি, একটা সময় তিনি নাকি নিয়মিতই ১১০ থেকে ১১৫ মাইল গতিতে বল ছুড়তেন! বিজ্ঞাপন

ফারুক হামিদের দাবির সত্য মিথ্যা যাচাই করা সম্ভব নয়। কারণ তিনি ষাটের দশকের ক্রিকেটার। সেই সময় বোলিংয়ের গতি মাপার প্রযুক্তি ছিল না। এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে বিশ শতকের কাছাকাছি সময়ে এসে। ফারুক হামিদ খুব একটা পরিচিতও ছিলেন না।

পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ১টি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই টেস্ট ম্যাচে উইকেট পেয়েছিলেন একটা। প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন ৪৩টি। ক্রিকেট ছেড়েছেন মাত্র ২৫ বছর বয়সে। পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ডন'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ১১০-১১৫ গতিতে বোলিং করার দাবি তুলেছেন ফারুক।

তিনি বলেন, 'অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব যেমন- স্যার ডন ব্র্যাডম্যান থেকে আমাদের (পাকিস্তান) ইমতিয়াজ আহমেদ, জহির আব্বাসসহ আরও অনেকেই মনে করতেন আমি সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার ছিলাম, এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার্লি গ্রিফিথের চেয়েও দ্রুততম।' বিজ্ঞাপন

১৯৬৩ সালে পাকিস্তান সফর করেছিল কমনওয়েলথ দল। ফারুক সেই সময়কার খেলার স্মৃতিচারণ করেছেন, 'গ্রিফিথ ১৯৬৩ সালে কমনওয়েলথ দলের হয়ে পাকিস্তান সফরে এসেছিল। সে সফরেই রোহান কানহাইয়ের মতো কিংবদন্তি আমার বাউন্সারে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল। ধারাভাষ্যকাররা বলেছিলেন আমি গ্রিফিথের চেয়েও জোরে বল করি। অবশ্যই ঘণ্টায় ১১০-১১৫ মাইল গতিতে বল করছিলাম বলে মনে করি।'

ফারুক দাবি করেছেন, নিজের সেরা সময়ে ভয়ঙ্কর বোলার ছিলেন তিনি, 'ওয়েলিংটনে একটি ম্যাচে আমি ১৬ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলাম। সেই ম্যাচে তারা (প্রতিপক্ষ) ১০ ওভারের মধ্যেই ৫৩ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একই ভেন্যুতে কয়েকদিন পর হওয়া টেস্ট ম্যাচে আমি পাকিস্তান দলে সুযোগ পাইনি। যা সবাইকেই অবাক করে দিয়েছিল। এমনকি ঐ সফরের অন্য দুই ম্যাচেও আমাকে নেয়া হয়নি।'

‘১৯৬৩ সালে আমি ইংল্যান্ড সফরের পাকিস্তান ইগলেটস দলের সদস্য ছিলাম। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মাত্র তিন ওভারে ৫ উইকেট নেয়ার পরেও অধিনায়ক ওয়াজির মোহাম্মদ আমাকে দিয়ে আর বোলিং করাননি। পরে এমসিসির তখনকার সেক্রেটারি মিস্টার হাওয়ার্ড আমাদের ম্যানেজারকে বলেছিল যে, আমি সেরা সময়ের ট্রুম্যানের চেয়ে দ্রুতগতিতে বোলিং করেছি।' বিজ্ঞাপন

তবুও ক্যারিয়ার লম্বা হলো না কেন? এমন প্রশ্নে পাকিস্তানের ক্রিকেট রাজনীতিকে দোষালেন ফারুক, 'বঞ্চিত হওয়ার এমন আরও অনেক উদাহরণ ছিলো আমার। এসব ঘটনায় অনেক বেশি হতাশ ও মনোবলহারা হয়ে পড়েছিলাম। যে কারণে মাত্র ২৫ বছরেই ক্রিকেটকে বিদায় জানাই। আফসোসের বিষয়, এখনও এমন বিষয়গুলো রয়েছে, যা আমাদের ক্রিকেটকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।'

সারাবাংলা/এসএইচএস


খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর