ঢাকা, সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

বাংলার মানুষের জন্য এবারের হজ্ব নিয়ে অনেক বড় সুখবর

২০২০ জুলাই ২৫ ১০:১৬:৫২
বাংলার মানুষের জন্য এবারের হজ্ব নিয়ে অনেক বড় সুখবর

মহামারি ভাইরাসের মধ্যেই আগামী ৩০ জুলাই সীমিত পরিসরে পালিত হবে এবারের পবিত্র হজ। শুধু সৌদি আরবে অবস্থানকারী বাংলাদেশসহ ১৬০টি দেশের প্রায় ১০ হাজার মুসল্লি অংশ নেবেন এ আনুষ্ঠানিকতায়। গত ১৯ জুলাই থেকে চলতি বছরের অংশ নেওয়া হজযাত্রীদের সাত দিনের জন্য রাখা হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে।

আরাফার ময়দানে প্রতি বছরের ৯ জ্বিলহজ সাধারণত আরবি ভাষায় পবিত্র হজের খুতবা দেয়া হয়। গত বছর ৫টি ভাষায় এই খুতবা অনুবাদ করা প্রচারিত হয়েছিলো । সৌদি গণমাধ্যম সৌদি গেজেট ও গালফ নিউজ জানায়, এবছর আরও ৫টি ভাষায় প্রচারিত হবে। প্রচারিত মোট ১০ টি ভাষার মধ্যে এবার স্থান পেয়েছে বাংলা।

গ্র্যান্ড মসজিদ ও মসজিদে নববীর চেয়ারম্যান অব জেনারেল অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল রহমান বিন আব্দুলাজিজ আল সুদাইস এই তথ্য জানিয়েছেন। আরবির বাইরে যে ১০টি ভাষায় হজ খুতবা দেয়া হবে সেগুলো হলো; বাংলা, ইংরেজি, মালয়, উর্দু, ফার্সি, ফেঞ্চ, ম্যান্দারিন, তুর্কি, রুশ ও হাবশি।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর সীমিত পরিসরে হজ পালনের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবিধি জারি করেছে সৌদি আরবের জাতীয় রোগপ্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এ কারণে নিবন্ধনকৃত প্রায় ১০ হাজার হজযাত্রীকে গত ১৯ জুলাই থেকে আবাসিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এখানেই শারীরিক সুস্থতাসহ হজের প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ সমাপ্ত করবেন হাজীরা। এবারই প্রথম বহিরাগতরা হজ করতে পারবেন না।

সৌদি আরবে অবস্থানকারী বিশ্বের ১৬০টি দেশের নাগরিক হজে অংশ নিচ্ছেন। বিধি অনুযায়ী, হজ পালনকারীরা কাবা শরিফ ও কালো পাথরে (হাজরে আসওয়াদ) চুমু খেতে বা স্পর্শ করতে পারবেন না। ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দান ছাড়া সব সময় মাস্ক পরিধান করতে হবে। এর আগে ৮ জিলহজ মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। ৯ জিলহজ রাতে মুজদালিফায় রাতযাপন করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর ছুড়ে মারবেন। এ জন্য আগে থেকে জীবাণুমুক্ত প্যাকেটজাত পাথর ব্যবহার করতে হবে (সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব পাথর সরবরাহ করবেন)।

তাই এ বছর মুজদালিফা থেকে শয়তানকে ছুড়ে মারা কঙ্কর সংগ্রহ করতে হবে না। এভাবে পর পর আরও দুই দিন শয়তানের উদ্দেশ্যে কঙ্কর মারতে হবে। এরপর মাথা মু-ন করে কোরবানি দিতে হবে। এছাড়া প্রথম দিনের কঙ্কর মারা শেষ হলে, চলমান হজ কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব হাজীকে মিনায় নির্দিষ্ট আবাসনে থাকতে হবে। সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এসব জানানো হয়েছে।

হজ পারমিট ছাড়া হজের জন্য পবিত্র স্থান মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে প্রবেশ গত ১৯ জুলাই থেকে হজের পঞ্চম দিন ১২ জিলহজ পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে ১০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা গুনতে হবে। একই নিয়ম দ্বিতীয়বার ভঙ্গ করলে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ হবে। মহামারীর কারণে এবার কোনো বিদেশিকে হজ করতে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না সৌদি আরব। যারা আগে থেকে সেখানে (সৌদি আরবে) অবস্থান করছেন, শুধু তারাই হজ পালন করতে পারবেন। হজে ১০ হাজারের মধ্যে ৭০ শতাংশ বিদেশি মুসলিম নাগরিক এবং ৩০ শতাংশ সৌদি নাগরিক অংশ নেবেন। এছাড়া অংশগ্রহণকারী হাজীদের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে।

মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও জামারার হজের কার্যক্রমে প্রতি দলে ২০ জন করে অংশ নেবেন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের সময়ও ২০ জনের দল থাকবে। এমনকি হজ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর কারও ডায়বেটিকস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ও হাঁপানি রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ থাকলে তিনিও হজে অংশ নিতে পারবেন না। ইতিপূর্বে হজ করেছেন এমন ব্যক্তিও এবার বিবেচিত হবেন না। হজ চলাকালে কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা গেলে তার ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরিস্থিতি চিকিৎসকের পর্যালোচনার পরই কেবল হজ শেষ করার অনুমতি দেওয়া হবে। তাদের জন্য আলাদা আবাসন, পরিবহন ও ভ্রমণসূচির ব্যবস্থা করা হবে। উচ্চ মাত্রার জ্বর, কফ, গলাব্যাথা ও হঠাৎ ঘ্রাণ ও স্বাদ হারিয়ে ফেলার মতো উপসর্গ দেখা গেলে কাউকে হজ পালন করতে দেওয়া হবে না।


হজ পালনকারী ও হজে দায়িত্ব পালনকারীদের অবশ্যই সুরক্ষা মাস্ক পরতে হবে। ব্যবহার শেষে তা সুনির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। হজ পালনকারীরা যেখানেই সমবেত হোন না কেন দুইজনের মধ্যে অন্তত দেড় মিটার দূরত্ব রাখতে হবে। খাবার পানি ও জমজমের পানি একবার ব্যবহারযোগ্য কন্টেইনারে সংগ্রহ করা যাবে। মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোর পানি ঠান্ডা রাখার রেফ্রিজারেটর সরিয়ে ফেলা হবে। হজ পালনকারীদের প্রত্যেককে আগে থেকে হজের সমাপ্তি পর্যন্ত প্যাকেটজাত পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হবে।

আরাফাত ও মুজদালিফায় হজ পালনকারীদের অবশ্যই নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করতে হবে। সেক্ষেত্রে হজের বিধিবিধান কড়াকাড়িভাবে মেনে চলতে হবে। মিনার তাঁবু এলাকার ৫০ বর্গমিটারের মধ্যে ১০ জনের বেশি হজ পালনকারী থাকতে পারবেন না। এছাড়া কাবা ও কালো পাথরের চারপাশে অবরোধ দেওয়া থাকবে, যাতে কেউ কাছে না যেতে পারেন। তওয়াফের জন্য কাবার চারপাশ এবং সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়ানোর স্থানকে প্রতি দল হজ পালনকারী ব্যবহারের আগে ও পরে জীবাণুমুক্ত করা হবে।


উৎসব এর সর্বশেষ খবর

উৎসব - এর সব খবর