ঢাকা, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২০, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৭

দেশ বাসীর জন্য দারুন সুখবর,কমেছে এলপি গ্যাসের দাম

২০২০ জুলাই ১৭ ১৭:১১:৫১
দেশ বাসীর জন্য দারুন সুখবর,কমেছে এলপি গ্যাসের দাম

করোনা ভাইরাসের বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে কাঁচামালের দাম। আর সেই কারনেই সরকারি এলপি গ্যাসের দাম প্রতি বোতল (১২ কোজি) প্রতি ১০০ টাকা কমানো হয়েছে। এবং নতুন দাম ৬০০ টাকা নির্ধারণ করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের । তবে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চলছে বেসরকারি এলপি গ্যাসের বাজার।

চাহিদার মাত্র দুই শতাংশ সরবরাহ সক্ষমতা থাকায় সরকারি এলপিজির দাম কমলেও সুবিধা পাবে সীমিত সংখ্যাক গ্রাহক। বেসরকারি এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে সুবিধা পেত বিরাট জনগোষ্ঠী। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু এলপিজি নয়, পুরো গ্যাস খাত নিয়ন্ত্রণ করছেন ব্যবসায়ীরা। তাই সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকের।

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান বলেন, বিশ্ব বাজারে কাঁচামালের দাম কমায় সরকারি এলপিজির দাম আমরা বোতল প্রতি একশ টাকা কমিয়েছি। এখন থেকে বাজারে ৬০০ টাকায় ১২ কেজির সরকারি এলপিজির বোতল পাওয়া যাবে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) করপোরেশন কার্যালয়ে এলপিজির দাম কমানো সংক্রান্ত বৈঠক হয়। সেখানে আগে থেকেই কমিটির করা সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্মত হন সবাই। দাম কমানোর যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বাস্তবায়নে দু-একদিনের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। অথচ বেসরকারি কোম্পানির এলপি গ্যাসের ১২ কেজির বোতল গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায়।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র অনুয়ায়ী, ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে দেশে এলপিজি ব্যবহৃত হয়েছে ৪৪ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন। ৯ বছরের ব্যবধানে এ চাহিদা ৭ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গেছে। যার মধ্যে মাত্র বছরে ২০ হাজার টন উৎপাদন সক্ষম সরকারি এলপিজি কোম্পানি। ২০৪১ সালে এলপিজির চাহিদা ৮০ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মুহা. শের আলী বলেন, গত ১০ বছরে ব্যাপক হারে এলপিজির ব্যবহার বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি হারে বেড়েছে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে। এলপিজি ব্যবসায় ৫৬টি কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি কোম্পানি উৎপাদনে রয়েছে। আমরা মনে করছি, যে সব কোম্পানি অনুমোদন দেয়া হয়েছে এগুলো যদি উৎপাদনে আসে ২০৪১ সাল পর্যন্ত আর কোনো সংকট হবে না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, যেকোনো খাতে সরকারি কোম্পানি থাকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। সরকারি কোম্পানি চাহিদার সিংহভাগ সরবরাহ করবে। যেটুকু পারবে না, সেটা বেসরকারি কোম্পানি বা ব্যবসায়ীরা করবে। কিন্তু আমাদের দেশে উল্টো চিত্র। দেশে এলপিজি খাত শুধু নয়, প্রকৃতপক্ষে গ্যাস খাত পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে বছরের পর পর সরকারি এলপিজি কোম্পানির সক্ষমতা, বিপণন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের একটি অংশ অনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে জনগণের। দাম বাড়লে জনগণকে সেটা দিতে হচ্ছে।


সমকালীন এর সর্বশেষ খবর

সমকালীন - এর সব খবর