ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

এন্ড্রু কিশোরের শেষকৃত্য কাল

২০২০ জুলাই ১৪ ১৩:২১:৫৮
এন্ড্রু কিশোরের শেষকৃত্য কাল

দেশে ফিরেছেন প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের ছেলেমেয়ে। গত বৃহস্পতিবার সকালের ফ্লাইটে ছেলে জে এন্ড্রু সপ্তক দেশে ফেরেন। মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা গতকাল সকালে দেশে ফিরেছেন। আগামীকাল বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১২টায় পারিবারিক সমাধিক্ষেত্রে এন্ড্রু কিশোর সমাধিস্থ হবেন। এ বিষয়ে প্রয়াতের পারিবারিক

ঘনিষ্ঠজন মোমিন বিশ্বাস এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আগামীকাল সকাল ৯টায় রাজশাহীর স্থানীয় চার্চে এন্ড্রু কিশোরের মরদেহ নেওয়া হবে। সেখানে কিছু আনুষ্ঠানিকতা সেরে দুপুর ১২টায় তাঁদের পারিবারিক সমাধিক্ষেত্রে নেওয়া হবে। সেখানেই বাবা-মার পাশে সমাধিস্থ হবেন এন্ড্রু কিশোর।’

মোমিন বিশ্বাস বলেন, ‘গতকাল সকালে দাদার মেয়ে সংজ্ঞা দেশে পৌঁছেছে। গত বৃহস্পতিবার ছেলে সপ্তক এসেছে। এখন আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। দাদার ইচ্ছে অনুযায়ী তাঁকে বাবা-মার পাশে সমাহিত করা হবে।’

তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মরদেহ নেওয়া হবে না জানিয়ে মোমিন বিশ্বাস বলেন, ‘শুরু থেকেই দাদার মরদেহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া ও সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানাবার একটি পরিকল্পনা ছিল। তবে সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি। যে কারণে আমরা সেখানে মরদেহ নিচ্ছি না।’

বাংলা গানের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনে শোকাবহ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে গত ৬ জুলাই সন্ধ্যায় হার মানেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক সম্রাট। তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন অঙ্গনের তারকা থেকে শুরু করে শোক জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

ক্যানসারের চিকিৎসা শেষে দীর্ঘ নয় মাস পর গত ১১ জুন সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন এন্ড্রু কিশোর। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তাঁকে কেমোথেরাপি দেওয়া হচ্ছিল। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে তাঁর চিকিৎসা হয়।

১৯৫৫ সালে এন্ড্রু কিশোরের জন্ম রাজশাহীতে। সেখানেই কেটেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোর। এন্ড্রু কিশোর প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। একসময় গানের নেশায় রাজধানীতে ছুটে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।

বাংলা গানের কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পী ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে তাঁকে বলা যেতে পারে এক মহাসমুদ্র। কয়েক দশক ধরে সেই সমুদ্রে সাঁতার কেটে চলেছেন শ্রোতারা। ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যখানে’, ‘পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমারই ছোঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা আমায় কথা দিয়েছে’, ‘তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘চোখ যে মনের কথা বলে’সহ অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান

রয়েছে তাঁর।


সঙ্গীত এর সর্বশেষ খবর

সঙ্গীত - এর সব খবর