ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭

লো প্রোফাইলে থাকা হাই প্রোফাইল এক শিল্পী

২০২০ জুলাই ০৮ ১১:০১:১৬
লো প্রোফাইলে থাকা হাই প্রোফাইল এক শিল্পী

গান নিয়েই ছিল তাঁর যত ব্যস্ততা। একটা নতুন গান করার জন্য উদগ্রীব থাকতেন। প্রচারণার জন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা নয়, গান করাটাকেই বড় কাজ বলে মানতেন তিনি। বিশ্বাস করতেন, শেষ পর্যন্ত তাঁর কণ্ঠটাকেই মনে রাখবে মানুষ।

তাঁর গায়কিই মানুষকে বাধ্য করবে তাঁর কাছে ছুটে আসতে। নিজের ওপর, শিল্পীসত্তার ওপর আত্মবিশ্বাসী থেকেছেন আমৃত্যু, যা তাঁকে করেছে অমর, দেশের চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক–সম্রাট। তিনি এন্ড্রু কিশোর।

‘আমি চিরকাল প্রেমেরও কাঙাল’, নিজের গাওয়া এ গানের মতোই এন্ড্রু কিশোরের জীবন। গানের বিনিময়ে ভালোবাসা ছাড়া আর তেমন কিছু চাননি মানুষের কাছে। তাই অন্য কিছুই তাঁকে আকর্ষণ করেনি। সমসাময়িক শিল্পীরা প্রচারের আলোয় যতটা ছিলেন, তার ছিটেফোঁটাতেও ছিলেন না তিনি। বরং কণ্ঠ দিয়েই সবাই চিনেছেন তাঁকে।

সরাসরি গানের আয়োজনের নামে মধ্যরাত পর্যন্ত টেলিভিশনে যে অনুষ্ঠান চলে, সেসবে মোটেও আগ্রহী ছিলেন না এন্ড্রু কিশোর। তাই টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে তিনি ছিলেন অনিয়মিত। জীবনের লম্বা সময়ের সহযাত্রী কুমার বিশ্বজিৎ মনে করেন, এন্ড্রু কিশোর হচ্ছেন লো প্রোফাইলে থাকা হাই প্রোফাইল একজন শিল্পী। প্রাপ্তি আর জনপ্রিয়তার চেয়ে তাঁর কণ্ঠের দ্যুতি ছিল অনেক বেশি। কুমার বিশ্বজিতের মতে, ‘এটা বোধ হয় তিনি নিজেও বুঝতে পেরেছিলেন। সব সময় দেখেছি, খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। যার কারণে ১৫ বছরে টেলিভিশনেও কোনো গান করতে আসেননি। তখনকার সময়ে প্রচারের একটাই মাধ্যম ছিল, টেলিভিশন। অথচ তিনি

বলতেন, “আমি অন্তরালের মানুষ, অন্তরালেই থাকব। পারলে কণ্ঠ দিয়ে সব জয় করব।” যদি বলা হয় নিয়মিত টেলিভিশনের পর্দায় ছিলেন, তা শুধু ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে। বন্ধুত্বের খাতিরে হানিফ সংকেতই তাঁকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রের গানের বাইরে ইত্যাদির কারণে অনেকগুলো মৌলিক গানও তাঁর গানের ভান্ডারে জমা হয়েছিল।’

এন্ড্রু কিশোরের পেশাদার গানের জীবন শুরু হয় প্লেব্যাক দিয়ে। নিজেকে ক্যামেরার সামনে নিতে আগ্রহী ছিলেন না। তবে সতীর্থরা চাইতেন, যিনি ফিল্মে গান করেন, যাঁর গান হিট করে, তাঁর টেলিভিশনে যাওয়া উচিত। মুখ চেনানো উচিত। এ নিয়ে এন্ড্রু কিশোরের তৎপরতা ছিল না। তিনি বরং কণ্ঠ চিনিয়েছেন।

অনেক সুরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন কিশোর। অভিষেক যাঁর হাত ধরে, সেই সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলম খান বলেন, ‘এন্ড্রুর কণ্ঠই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় প্রচারমাধ্যম। শ্রোতারা তাঁকে না দেখে, তাঁর কণ্ঠকে ভালোবেসে আপন করে নিয়েছে।’ হানিফ সংকেত মনে করেন, ‘কিশোর এমন এক প্রতিভা, যা মুখে বলার কিছু নাই। তাঁর গান বাঁচবে, কণ্ঠটা মানুষের হৃদয়ে থাকবে। তাঁকে বলতে হয়নি, আমি এন্ড্রু কিশোর। তাঁর কণ্ঠ বলে দিয়েছে, সে এন্ড্রু কিশোর, সে সবার চেয়ে আলাদা।’

যাঁকে নিয়ে এত মানুষের এত রকম মত, সেই এন্ড্রু কিশোর নিজেকে মনে করতেন কণ্ঠশ্রমিক। পাঁচ দশকের সংগীতজীবনে শ্রোতাপ্রিয় বহু গান উপহার দিয়েছেন তিনি। গানগুলোর সঙ্গে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তিনিও বেঁচে থাকবেন।


সঙ্গীত এর সর্বশেষ খবর

সঙ্গীত - এর সব খবর