ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

পরিকল্পনাটি তারা কারাগারে থেকেই করেছিলো

২০২০ জুলাই ০৫ ১৯:৩৪:৫৩
পরিকল্পনাটি তারা কারাগারে থেকেই করেছিলো

তারা ৭ থেকে ৮ জন ছিলো। একেক সময় চুরি বা ডাকাতির অপরাধে গ্রেফতার হয়ে জেলেই ছিলো তারা। এবং সেখানে থেকেই আবারও ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিলো তারা। এরপরে একজন একজন করে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে এক জায়গায় হয়ে আগের করা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর পান্থপথের ওয়ালটন শোরুমে ডাকাতি করে।

ডাকাতির ঘটনা ঘটে গত ২৩ জুন মধ্যরাতে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ৫৭/১৫ পান্থপথের ওয়ালটন প্লাজা (এসটি) শোরুমের মালামাল ডাকাতি করে চারজন। ঘটনার পর দিন ওয়ালটন শোরুম টিম ম্যানেজার রানা মিয়া ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। তারপর তদন্তে নামে থানা পুলিশ। সর্বশেষ গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ রোববার দুপুরের দিকে শেরেবাংলা নগর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ।

হারুন অর রশিদ বলেন, ‘গত ২৩ জুন কিশোরগঞ্জে ডিলারের কাছে (রহমত ইলেকট্রনিকস) পাঠানোর উদ্দেশে ওয়ালটন কোম্পানির একটি নিজস্ব পরিবহনে মালামাল উঠানো হয়। শোরুমের কর্মচারী জিহাদ হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, মো. তারেক হোসেন ওই মালামাল ওঠান। পণ্যের চালান কপি ড্রাইভার আনোয়ার হোসেন (৩০) এবং হেলপার মিরাজের (১৯) কাছে হস্তান্তর করে শোরুম কর্মচারীরা চলে যান।’

ডিসি হারুন বলেন, ‘কর্মচারীরা স্থান ত্যাগ করার পরপরই একটি খালি পিকআপযোগে সাত-আটজন দুষ্কৃতকারী এসে তাদের হাতে থাকা চাপাতির ভয় দেখিয়ে মালামাল হাতিয়ে নেয়। এরপর ওয়ালটনের ড্রাইভার-হেলপারকে জোর করে গাড়িতে ওঠায়। সেই মালামাল ভরা গাড়ি নিয়ে ডাকাতেরা বিভিন্ন স্থানে তাদের লোকদের কাছে মালামাল নামানো শেষে পালিয়ে যায়। এরপর মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং আলামত উদ্ধারে কাজ শুরু করে শেরেবাংলা নগর থানা টিম।’

হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ঢাকার বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা থেকে মো. রবিউল ইসলামকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়। রবিউল ১৬৪ ধারায় আদালতে ডাকাতির ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে, ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সাত-আটজন। তাদের ডাকাতির পরিকল্পনা জেলে বসেই। রবিউলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন জাউচর এলাকা থেকে সুমন ও রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাথীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিসি হারুন বলেন, ‘মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২৪টি ওয়ালটন ফ্রিজ, পাঁচটি এলইডি টেলিভিশন, একটি মোবাইল ফোন এবং ড্রাইভারের সাড়ে ৪ হাজার টাকা এবং হেলপারের কাছে থাকা ৮০০ টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা। যার দাম ছয় লাখ টাকার ও বেশি। এর মধ্যে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ১৮টি ওয়ালটন ফ্রিজ এবং তিনটি এলইডি টেলিভিশন উদ্ধার করে।’


জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর