ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

আনন্দটা কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না

২০২০ জুলাই ০৪ ১২:১৬:১৮
আনন্দটা কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না

অমিতাভ রেজা চৌধুরী। বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ তিন মাস বিজ্ঞাপন নির্মাণ থেকে বিরত ছিলেন। সম্প্রতি আবারও বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তার। এ ছাড়া তার পরিচালিত নতুন ছবি 'রিকশাগার্ল' বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রর্দশনীর জন্য প্রস্তুতি

নেওয়া হচ্ছে। এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

অনেক দিন পর শুটিংয়ে ফিরলেন। কেমন লাগছে অনেক দিন পর কাজে ফিরে?

কাজে ফেরা নিয়ে এখন পর্যন্ত উচ্ছ্বসিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রায় তিন মাস পর শুটিং করছি। নাটক, সিনেমা না, কাজ শুরু হয়েছে বিজ্ঞাপন দিয়ে। ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর এতে মডেল হয়েছেন। আগেও দেখেছি, ঊর্মিলা কাজের বিষয়ে বেশ সচেতন, এবারও তার প্রমাণ পেলাম। ঠিক যেভাবে বিজ্ঞাপনের গল্প তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছে, ঊর্মিলা সেটাই করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। কাজ কীভাবে ভালো করা যায়- শুরু থেকেই তার ভাবনায় ছিল। কিন্তু এত কিছুর পর শুটিং ছিল বিরক্তিকর।

বছরের পর বছর যে কাজটি করছেন, হঠাৎ সেই কাজের শুটিং বিরক্তকর মনে হলো কেন?

যে কোনো কিছুতে নিয়মনীতির বোঝা চাপিয়ে দিলে, তা বহন করা কঠিন। করোনার কারণে কাজকর্মের যে নিয়ম-নীতি বেঁধে দেওয়া হয়েছে, সেটাই হয়ে গেছে যন্ত্রণার কারণ। তারপরও সবধরনের নিয়মনীতি মেনেই শুটিং করেছি। কিন্তু কাজের যে আনন্দ- তা কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। এভাবে কাজের চেয়ে আগামী ছয় মাস শুটিং না করে ঘরে বসে থাকলেই ভালো লাগত। কিন্তু সেটা সম্ভব না, কারণ আমার কাজের সঙ্গে আরও কিছু মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয় জড়িয়ে আছে।

আপনার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র 'রিকশাগার্ল'-এর মুক্তি নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?

ভাবনায় ছিল, এই বছর সিনেমাটি মুক্তি দেবো। তবে করোনার কারণে আপাতত সেই ভাবনা থেকে সরে এসেছি। এখন বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রর্দশনীর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। যেহেতু এর সিংহভাগ অংশ ইংরেজিতে নির্মিত। তাই আগে ছবিটি বিদেশে মুক্তি দেওয়া হবে। তারপর আগামী বছর দেশের দর্শকের জন্য ছবিটি মুক্তির সবরকম পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

'রিকশাগার্ল' ছবির সাফল্য নিয়ে কতটা আশাবাদী?

কমবেশি সবাই নিজের কাজ নিয়ে আশাবাদী থাকেন। কিন্তু সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভর করে দর্শকের ওপর। নৈর্ব্যক্তিক জায়গা থেকে যদি বলি, আমি সন্তুষ্ট। কারণ ছবির প্রত্যেক কলাকুশলী নিজের সর্বোচ্চ দিয়েছেন। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নভেরা চৌধুরী। এটি তার প্রথম সিনেমা। তার আন্তরিকতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা আমায় মুগ্ধ করেছে। অভিনেত্রী চম্পাও নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে হাজির হয়েছেন।

এই সিনেমা আপনাকে নতুন কোনো অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে কি?

অবশ্যই, প্রতিটি নির্মাণে নতুনভাবে কিছু না কিছু জানার সুযোগ থাকে। এ ছবিতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। 'রিকশাগার্ল' ছবির জন্য রিকশা পেইন্টিং নিয়ে অনেক পড়াশোনা করতে হয়েছে। সত্যি বলতে কি, আগে কখনও বিলুপ্তপ্রায় রিকশা পেইন্টিং নিয়ে অতটা জানার সুযোগ হয়নি। ছবির জন্য বিভিন্ন স্থানে গিয়ে অনেক রিকশা পেইন্টারের সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে। তখন নতুনভাবে এই পপ আর্ট সম্পর্কে অনেক কিছু জানার সুযোগ পেয়েছি।

'ঘরে বসে আয়নাবাজি' ওয়েব সিরিজের মতো কিছু ভাবছেন?

আপাতত এই ধরনের কিছু নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। বাসায় বসে কিছু করার তাগিদ থেকেই 'ঘরে বসে আয়নাবাজি' নির্মাণ করেছিলাম। এর পেছনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছিল না। এই ওয়েব সিরিজকে তাই আপৎকালীন প্রযোজনা বলাই ভালো। বিশ্বজুড়ে করোনার যে মহামারি, তার সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস ছিল।


নাটক এর সর্বশেষ খবর

নাটক - এর সব খবর