ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

ঘরে বসে দেখুন প্রেমের ৪ ছবি

২০২০ জুলাই ০২ ১১:৪৮:৩৪
ঘরে বসে দেখুন প্রেমের ৪ ছবি

লকডাউন উঠে গেলেও করোনাভাইরাসের কারণে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। দীর্ঘদিন তাই বাসায় থাকতে থাকতে সবারই অবস্থা বেগতিক। সময় কাটাতে তাই ঢালিউডের প্রেমের এই চারটি ছবি দেখতে পারেন। সুজন সখী ১৯৭৫ সালে মুক্তি পায় খান আতাউর রহমানের 'সুজন সখী'। গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত

হয়েছে এই ছবিটি। ছবির কাহিনি গতানুগতিক হলেও পরিচালনা, অভিনয় এবং বিশেষ করে সংগীত এ ছবির প্রধান সম্পদ। গ্রামের তরুণের ভূমিকায় ফারুক এবং তরুণীর ভূমিকায় কবরী ছিলেন অনবদ্য। পারিবারিক সংঘাতের ফলে শৈশবে বিচ্ছিন্ন দুই খেলার সাথীর (চাচাতো ভাইবোন) পূর্ণ বয়সে দেখা হওয়া ও প্রেমকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় সিনেমার গল্প। 'সব সখীরে পার করিতে', 'গুনগুনাগুন গান গাহিয়া নীল ভ্রমরা যায়'-এ ছবির দুটি জনপ্রিয় গান। 'সব সখীরে পার করিতে' গানের সঙ্গে ফারুকের অভিব্যক্তি ছিল অসাধারণ। ১৯৭৬ সালে দেশের প্রথম জাতীয় পুরস্কারে তিনটি শাখায় পুরস্কৃত হয় 'সুজন সখী'। 'সব সখীরে পার করিতে' গানের জন্য পান আবদুল

আলীম ও সাবিনা ইয়াসমিন। চিত্রনাট্যে পান খান আতা। 'বাচসাস'-এর পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী হন কবরী, পার্শ্ব অভিনেতা খান আতা, 'আগুন জ্বলেরে' গানের জন্য নিলুফার ইয়াসমিন এবং সংলাপে সেরা হন আমজাদ হোসেন। ১৯৯৪ সালে ছবিটির রিমেক হয়। এতে অভিনয় করেন সালমান শাহ ও শাবনূর।

দেবদাস

বিশ্বে সম্ভবত আর কোনো সাহিত্য চরিত্র নিয়ে এত কাজ হয়নি। সেদিক থেকে অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দেবদাস' এক ইতিহাসের নাম। বাংলা, উর্দু, হিন্দিসহ নানা ভাষায় 'দেবদাস' তৈরি হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে চিরকালই প্রেমিকের প্রতীক চঞ্চল, খেয়ালি, ছন্নছাড়া তরুণ দেবদাস এবং প্রেমিকার প্রতীক তার বাল্যসখী পারু। ভালোবেসে আত্মত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল চন্দ্রমুখী। বাংলাদেশে ১৯৮১ সালে 'দেবদাস' নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম। এ ছবিতে দেবদাসের ভূমিকায় অভিনয় করেন বুলবুল আহমেদ, পার্বতীর ভূমিকায় কবরী এবং চন্দ্রমুখী ছিলেন আনোয়ারা। বুলবুল আহমেদ ও কবরী দারুণ জনপ্রিয়তা পান এ

ছবির জন্য।

অনন্ত প্রেম

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত নির্মিত প্রেমের ছবির মধ্যে নিঃসন্দেহে অন্যতম রাজ্জাক-ববিতা জুটির 'অনন্ত প্রেম'। এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৭ সালের মার্চ মাসে। সেই সময়ের তুলনায় ছবিটি ছিল দারুণ সাহসী। ছবির শেষ দৃশ্যে নায়ক-নায়িকার গভীর চুম্বনের দৃশ্য ছিল যা সেই সময়ে রীতিমতো হৈচৈই ফেলে দিয়েছিল। সিনেমাটির গল্পকাঠামোতেও ছিল নতুনত্ব। সিনেমায় দেখা যায় রাজ্জাক এবং তার তিন বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। ববিতা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। রাজ্জাকের এক বন্ধু তাকে পছন্দ করেন। কিন্তু ববিতা কোনোভাবেই তার প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া দেয় না। বন্ধুকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে রাজ্জাক ও তার অন্য

দুই বন্ধু ব্ল্যাক আনোয়ার ও এটিএম শামসুজ্জামান। পরামর্শমতো তারা তিনজন একটি নির্জন স্থানে ববিতাকে আক্রমণ করে। ববিতার সাহায্যে এগিয়ে আসে সেই বন্ধু। সাজানো মারধরের মাধ্যমে সবাইকে হারিয়ে সে ববিতার চোখে 'হিরো' বনে যায়। পরে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নাম করে ববিতাকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করতে উদ্যত হয়। সে সময় চিৎকার শুনে রাজ্জাক এবং বন্ধুরা এগিয়ে যায়। এবার সত্যিকারের মারামারির একপর্যায়ে রাজ্জাকের হাতে ওই বন্ধু খুন হয়ে যায়। 'অনন্ত প্রেম' ছিল নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত প্রথম ছবি। প্রযোজকও ছিলেন তিনি। রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন্সের ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটি ছিল

সুপার-ডুপার হিট। এ ছবির সংগীত পরিচালক ছিলেন আজাদ রহমান। এ ছবির একটি গান সময়ের স্পর্শ বাঁচিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ল্যাসিক গানে পরিণত হয়েছে। গানটি হলো খুরশিদ আলম ও সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া 'ও চোখে চোখ পড়েছে যখনি'।

সীমানা পেরিয়ে

বাংলাদেশের সেরা পরিচালকের নাম বলতে গেলে যে কয়েকজনের নাম অবশ্যই আসবে তাদের অন্যতম আলমগীর কবির। তার জীবনের সেরা ছবি 'সীমানা পেরিয়ে'। এই ছবির সংলাপ, গল্প, পোশাকসহ প্রায় সব কিছুতেই ছিল আধুনিকতা। ছবির গল্পে দেখা যায় মঞ্চনাটক অভিনয় করেন টিনা [জয়শ্রী কবির]। গ্রামের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রতন [গোলাম মুস্তাফা] মামার সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে জানতে পারে তার পরিবারের অনেক অতীত ইতিহাস। এক ঝড়ের কবলে পড়ে সে ভেসে গিয়ে আটকা পড়ে এক দ্বীপে। সেখানে তার সঙ্গে আটকা পড়ে তার পরিবার দ্বারা অত্যাচারিত কালু [বুলবুল আহমেদ]। এ সময় বুঝতে পারা গেল দ্বীপে মানব বসতি নেই। ঝড়ে স্রোতের টানে দ্বীপে থাকা কালুর

নৌকাটাও তারা হারিয়ে ফেলে। তখন টিনা বিভিন্ন প্রতিক যেমন ঝঙঝ ফ্লাগ, বোতলে চিঠি লিখে পানিতে ছোড়ে। বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এর মধ্যে টিনা অসুস্থ হয়ে পড়ে। কালু তাকে সেবা করে সুস্থ করে তোলে। তখন তারা পরিকল্পনা করে যে তাদের কাছে থাকা দ্রব্যের পরিমিত ব্যবহার করে জীবনধারণ করবে। তাদের প্রেমহয় ও বিয়ে করে। কিন্তু এক নৌবাহিনীর জাহাজ দূরবীণের মাধ্যমে তাদের দেখতে পায়। কালু ও টিনা পালাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। টিনার বাবা কালুর সঙ্গে বিয়ে না মানায় তারা দু'জনে নিজের মতো করে অজানা উদ্দেশে যাত্রা করে।


ঢালিউড এর সর্বশেষ খবর

ঢালিউড - এর সব খবর