ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭

মাত্র পাওয়া : করোনা নিয়ে নতুন একটি খবর

২০২০ জুন ২৮ ১২:৫৪:১৩
মাত্র পাওয়া : করোনা নিয়ে নতুন একটি খবর

করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক কিছুটা কমছে। যা গত কয়েকদিনের আক্রান্তের হার দেখে বোঝা যায়। দেশে গত ১৫ দিনে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজারের ভেতরেই আছে। এাড়াও একই সময়ে করোনায় মৃত্যু প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জনের মধ্যে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে, করোনা বাংলাদেশে এখন পিক সিজন পার করছে। সামনে আমরা সুখবর পেতে যাচ্ছি যে, বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। এর কারণ হিসেবে তাঁরা যে যুক্তিগুলো দিচ্ছেন তাঁর মধ্যে রয়েছে-

সংক্রমণ বাড়লে এখন জ্যামিতিক হারে বাড়ত: বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ গত দুই সপ্তাহ যাবত একই রকম চলছে। শতকরা হিসেবে ২০ থেকে ২২ শতাংশের ভেতরে ঘোরাফেরা করছে। অর্থাৎ এইরকম পরিস্থিতিতে যদি করোনা পিকে না থাকতো তাহলে বাংলাদেশে এই সংক্রমণের হার এবং সংখ্যা দুটোই অনেক বাড়তো। সাধারণত দেখা যায় যে, সংক্রমণ তিন হাজার অতিক্রম করার পর একটা উলম্ফন দেখা যায়। একদিনে পাঁচ হাজার বা সাত হাজার এভাবে সংক্রমণ বাড়তে থাকে।


কিন্তু বাংলাদেশে যেহেতু গত ১৫ দিন যাবত একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেই কারণে এটা বলা যায় যে, বাংলাদেশে এখন পিক সময় চলছে। তবে পিক সময় কতদিন পর্যন্ত থাকবে তা বলা সম্ভব নয়। হয়তো এই মাসের পুরো সময় থাকবে বা আরো ৭ দিন থাকবে, এরপরে সংক্রমণের হার আস্তে আস্তে কমতে শুরু করবে।

কম পরীক্ষা: বাংলাদেশের কম পরীক্ষার কারণে সংক্রমণের মাত্রাটা বোঝা যাচ্ছে না। অনেক মানুষ পরীক্ষা করছে না, অনেকে নিজেদের পরীক্ষা থেকে দূরে রাখছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে আসলে কত সংক্রমণ বা কি পরিমাণ আক্রান্ত তা বোঝার কোন উপায় নেই। এই কারণে মনে করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে হয়তো অনেক করোনা আক্রান্ত আছে যারা পরীক্ষা করাতে পারছে না বা আক্রান্ত হয়েও উপসর্গ না থাকায় নিজেরাও বুঝতে পারছে না। এরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে একটি ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে।

এখন আমরা লকডাউন দেই বা না দেই সামাজিক সংক্রমণ আর খুব বেশি বাড়তে পারবে না। কিছু কিছু মানুষ সংক্রমিত হওয়ার পর নিজের অজান্তেই সেরে উঠেছেন এবং এক ধরণের হার্ড ইম্যুউনিটি তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতাকে করোনা সংক্রমণ কমার লক্ষণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মৃত্যুর হার একই: বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেলেও মৃত্যুর হার একই আছে। অন্যান্য দেশগুলোতে শনাক্তের সংখ্যা ১ লাখ অতিক্রম করার পর যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছিল, বাংলাদেশে সেভাবে বাড়ছে না। এটাকে চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এটার মানে হলো যে, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হার যাই হোক না কেন মৃত্যুর সংখ্যায় আর উলম্ফন হবেনা। হঠাৎ করে মৃত্যুর হার বেড়ে যাবেনা। অর্থাৎ বাংলাদেশে মৃত্যুর হার এটাই চূড়ান্ত। এরপর বাংলাদেশে মৃত্যুর হার আস্তে আস্তে কমতে থাকবে কারণ আমরা আমাদের সংক্রমণের চূড়ান্ত সীমায় চলে এসেছি।


এই সমস্ত বাস্তবতাগুলোকে বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকরা বলছেন যে, বাংলাদেশে আসলে কতজন আক্রান্ত বা মৃত্যুবরণ করেছে তাঁর থেকেও বড় কথা হচ্ছে আমাদের পরীক্ষার বাইরে একটি বিরাট জনগোষ্ঠী আছে। যেহেতু এপ্রিলে আমরা সবকিছু খুলে দিয়েছিলাম, ঈদে দোকানপাট খোলা হয়েছে- সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশে ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

এখন নতুন করে সামাজিক সংক্রমণ বিস্তারের সম্ভাবনা কম এবং একটি পর্যায়ে গিয়ে সামাজিক সংক্রমণের চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করবো এবং সেখান থেকে ধীরে ধীরে সংক্রমণের হার কমতে থাকবে। সেই বাস্তবতায় মনে করা হচ্ছে যে, আগামী জুলাই মাস জুড়ে করোনা সংক্রমণ এই রকম অবস্থায় বা এর থেকে একটু কম থাকবে এবং আগস্ট থেকে তা কমতে থাকবে। সেপ্টেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি একটি স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে বলে অনেকেই আশা করছেন।


জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর