ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার বিচার দাবি সিজিসিএম’র

২০২০ মে ২৯ ২২:১৪:৪২
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার বিচার দাবি সিজিসিএম’র

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত মানব পাচারকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সংগঠনের প্রতিনিধিরা। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা নিতে সরকারের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশে অভিবাসন নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাগুলোর জোট সিভিল সোসাইটি ফর গ্লোবাল কমিটমেন্টস অন মাইগ্রেশন (সিজিসিএম) শুক্রবার (২৯ মে) এ বিষয়ে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় পাচারকারী চক্র ইউরোপে পাঠানোর নামে দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের জিম্মি করে অত্যাচার চালিয়েছে। তারই শেষ পরিণতি এই হত্যাকাণ্ড। এই অপরাধীদের গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানিয়েছে অভিবাসন সংস্থাগুলো।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান এ প্রসঙ্গে বলেন, লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে। এই সুযোগ নিয়ে গত প্রায় এক দশক ধরে মানবপাচারকারী চক্র সেখানে সক্রিয়। তারা ইউরোপে লোক পাঠানোর নামে এককজনের কাছ থেকে গড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা নিচ্ছে।

ভূমধ্যসাগরের কাছে লিবিয়ার বিভিন্ন সীমান্তে ক্যাম্প করে তারা লোকজনকে জিম্মি করে ছোট ছোট নৌকায় করে ইউরোপে লোক পাঠাচ্ছে। প্রায়ই সেখানে দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিরা প্রাণ হারাচ্ছেন। এই চক্রকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িতদের সবাইকে খুঁজে বের করতে বিভিন্ন দেশকে প্রয়োজনে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শরিফুল আরও বলেন, গত কয়েক বছরে আইওএম ও ব্র্যাকের প্রত্যাশা প্রকল্প থেকে সাড়ে তিনশ জন লিবিয়া ফেরত বাংলাদশিকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ফিরে আসা বাংলাদেশিরা জিম্মি ও মুক্তিপণ আদায়সহ নিপীড়নের নানা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। এভাবে যেন আর কোনো অভিবাসীকে সেখানে প্রাণ না হারাতে হয়, সে দায়িত্ব বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নিতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়েছেন। এভাবে সাগরপথ পাড়ি দিতে গিয়ে ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে অনেক বাংলাদেশিও রয়েছেন। ভূমধ্যসাগর দিয়ে যেসব দেশের মানুষ ইউরোপে প্রবেশ করার চেষ্টা করে, সেই তালিকার শীর্ষ দশে আছে বাংলাদেশ। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলেই শুধু ৬৯৩ জন বাংলাদেশি এভাবে ইউরোপে প্রবেশ করতে গিয়ে আটক হয়েছেন।

এ বিষয়ে শরীফুল বলেন, শুধু লিবিয়া নয়, অন্য দেশগুলোতেও যে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে সোচ্চার হতে হবে। বাংলাদেশ যেহেতু ‘পালেরমো প্রটোকল’ অনুসমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কাজেই সেই সুযোগ রয়েই গেছে। মনে রাখতে হবে, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এমন প্রাণহানি চলতেই থাকবে। স্বজন হারাতে হবে অনেক পরিবারকে। সংকটে পড়বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। কাজেই এই মরণযাত্রা বন্ধ করতেই হবে। এ ব্যাপারে সচেতনতা তৈরিসহ অন্য সব কাজে সরকারের সঙ্গে থাকবে ব্র্যাক।


বহির্বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বহির্বিশ্ব - এর সব খবর