ঢাকা, সোমবার, ১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

বাংলাদেশের যেসব এলাকায় শুরু হয়েছে ঘুর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডব

২০২০ মে ২০ ১৯:৫৯:১৪
বাংলাদেশের যেসব এলাকায় শুরু হয়েছে ঘুর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডব

সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’ বাংলাদেশের উপকূলের স্থলভাগ ধরে অতিক্রম করছে। এটি ক্রমশ উপকূলের সাগরদ্বীপের পূর্ব পাশ ধরে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করছে। ঢাকাস্থ আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাওসার পারভীন সন্ধ্যায় এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৪টার দিক থেকে আম্পান উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এখন সেটি সাগরদ্বীপের পূর্ব পাশ ধরে সুন্দরবন ও সাতক্ষীরার উপকূল ধরে অগ্রসর হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চার ঘণ্টা ধরে হয়তো এটি অতিক্রম করবে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরো বলেন, আঘাত হানার সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বাধিক গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭০ থেকে ১৮০ কিলোমিটারের মধ্যে ছিল। যা ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার পর‌্যন্ত বাড়ছিল। এখন সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

একই কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ রাসেদুজ্জামান রাত সোয়া ৭টায় এনটিভি অনলাইনকে বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার ব্যাসের। ঘূর্ণিঝড়ের তিনটি অংশ- এর মধ্যে সামনের অংশটি বিকেল ৫টা নাগাদ স্থলভাগে উঠে আসে। মধ্যের অংশ যাকে ‘চোখ’ বলা হয়- সেটি এখন স্থলভাগে উঠেছে। এখন প্রবল বাতাস ও বৃষ্টি হচ্ছে। পেছনের অংশটা আরো পরে উপকূলে আসবে। সেখানেও বাতাসের প্রবল গতিবেগ থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ এমনটা চলবে।

এই অবস্থায় দেশের মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এর আগে আজ বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে আবহাওয়ার সবশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে সাগর দ্বীপের পূর্ব পাশ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

সতর্ক সংকেত

মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং এসব এলাকার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং এসব এলাকার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়জনিত জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড় ও দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং এসব এলাকার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলাসমূহ এবং এদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০-১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

জেলেদের জন্য সতর্কতা

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।


জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর