ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মায়া ঘোষ, অভিনয় তাঁকে পেয়ে বসেছিল

২০২০ মে ২০ ১০:১৫:১৩
মায়া ঘোষ, অভিনয় তাঁকে পেয়ে বসেছিল

তখন ভাবাই যেত না গাঁয়ের মেয়েরা বাড়ির বাইরে যাবে। ঠিক এমন একসময়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অভিনয়ে আসেন প্রয়াত অভিনেত্রী মায়া ঘোষ। সায় ছিল পরিবারেরও। তাই আট বছরের বালিকা মঞ্চের দিকে পা বাড়ানোর সাহস পেয়েছিলেন। সেই

প্রথম যশোর ইনস্টিটিউট ক্লাবের মঞ্চে ওঠেন তিনি। সেদিনেই অভিনয়ে হাতেখড়ি। তারপর থেকে নিজেই নিজের জায়গা চিনতে শুরু করেন।

অভিনয় তাঁকে পেয়ে বসেছিল। অভিনয় তাঁকে করতেই হবে। কিন্তু তা কি সম্ভব! তখন তাঁর বয়সী কিংবা দুই–এক বছর বেশি বয়সের মেয়েদের পরিবার থেকে বিয়ে দেওয়ার চল ছিল। আর এই বয়সেই কিনা অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মে মায়া ঘোষের। কী এমন স্বাদ পেয়েছিলাম অভিনয়ে? যার টানেই চার দশক কাটিয়ে গত বছর ১৯ মে দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন মায়া ঘোষ। তিনি ছিলেন একাধারে মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয় বাংলা চলচ্চিত্রে মায়া ঘোষের স্থান, অবদান কতটা অপূরণীয়।

সব বাধা পেরিয়ে মায়া ঘোষ অভিনয়ের টানেই একসময় চলে আসেন ঢাকায়। যুক্ত হন থিয়েটারে। অভিনয়ে দীক্ষা নিয়ে তিনি ১৯৮১ সালে প্রথম ‘পাতাল বিজয়’ ছবিতে অভিনয় করেন। ১৯৮৪ সাল থেকে মায়া ঘোষ–দিলীপ ঘোষ দম্পতি ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। চলচ্চিত্রে নিয়মিত হন। এরপর একে একে অভিনয় করেন দুই শর বেশি ছবিতে। বাংলা চলচ্চিত্রে অল্প দিনেই নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। সেই সময় তিনি অনেক নেতিবাচক ছবিতে অভিনয় করে বেশ জনপ্রিয়তা পান। মূলত বাঙালি পরিবারের ‘কুটিল’ চরিত্রেই অভিনয় করেছেন বেশি। কুটচাল কিংবা একজনের কথা আরেকজনের কাছে লাগিয়ে ঝগড়া বাধিয়ে সুবিধা আদায় ছাড়াও বিভিন্ন

চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন কাড়েন। জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটে যায় অভিনয় করতে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন। মায়া ঘোষের হাঁটাচলার সমস্যা হওয়ায় তাঁকে প্রধানমন্ত্রী কিনে দিয়েছিলেন হুইলচেয়ার। সর্বশেষ চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁকে আর্থিক সহায়তা দেন। মায়া ঘোষের তিন ছেলে, তিন মেয়ে। দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। দুই ছেলে এবং এক মেয়ে ঢাকায় থাকেন। ছেলে দীপক ঘোষ ব্যবসায়ী। তিনি থাকেন যশোরে। দীপক ঘোষের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘অভিনয় ছিল মায়ের কাছের সঙ্গী। ২০০০ সালে ক্যানসার ধরা পড়ার পর ২০০৯–এর দিকে একটু ভালো হন। তখনো তিনি অভিনয়ের জন্য মুখিয়ে থাকতেন। অনেক নির্মাতা ফোন দিয়ে বলতেন অসুস্থ শরীর নিয়ে ঘরে থাকলে নানা চিন্তা মাথায় ভর

করবে। তখন আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আবারও অভিনয়ে ফেরার সুযোগ করে দিই। শুধু এটাই চাওয়া মায়ের শরীর এবং মনের যেন ভালো থাকে। মা আবার অভিনয়ে ফিরে অনেকটা প্রাণ ফিরে পান।’ তিনি আরও বলেন, ‘মা সব চরিত্রে অভিনয়ে সমান গুরুত্ব দিতেন। অভিনয় ছিল মায়ের কাছে সব ধ্যানজ্ঞান।’

মায়া ঘোষ ১৯৪৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর যশোর মনিরামপুর উপজেলার প্রতাপকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও সনদ নেননি। প্রথমে কলকাতা শরণার্থী শিবিরে যোদ্ধাদের খাবার সরবরাহ করতেন পরে যশোরে এসে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি সহযোগিতা করতেন। তিনি মারা যান ২০১৯ সালের ১৯ মে। প্রায় চার যুগের অভিনয়ে তিনি দুই শর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। জীবনের অর্ধেকটা সময় তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন আর চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাটিয়েছেন।


মিডিয়া গসিপ এর সর্বশেষ খবর

মিডিয়া গসিপ - এর সব খবর