ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

দারুন সুখবর : দেশে বিদেশে করোনার ঔষুধ

২০২০ এপ্রিল ২৮ ১০:৪৩:০১
দারুন সুখবর : দেশে বিদেশে করোনার ঔষুধ

বিশ্ব এখন করোনায় দিশেহারা। এখন আবিষ্কার হয়নি করোনার কোনও ঔষুধ। তবে অন্য কোনও ঔদ দিয়ে এই করোনা ভালো হয় কি না বা কিভাবে এই ভাইরাসের ঔষধ আবিস্কার করা যায় এনিয়ে মহা চিন্তায় চিকিৎসাবিদরা। তবে ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু ঔষুধ ব্যবহারের নাম উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে জাতীয় কমিটি কর্তৃক সিদ্ধান্ত করোনা নিরাময়ে ক্ষেত্র বিশেষে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, ফেবিপেরাভির, এজিথ্রোমাইসিন, স্টেরয়েড ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় কমিটি। শিগগিরই তা ন্যাশনাল গাইড লাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী মতভেদ থাকায় এমন ওষুধ কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে সংশয় বিশেষজ্ঞদের।

করোনা রোগীর চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, ফেবিপেরাভির, এজিথ্রোমাইসিন, স্টেরয়ড ব্যবহারের ব্যবহারের সুফল মিলেছে এমন তথ্য এসেছে বহু আগে। আবার বিতর্কও কম নেই।

এদিকে দেশে এমন ওষুধ ব্যবহার হতে পারে এই ভাবনা থেকে এরই মধ্যে তার উৎপাদনের অনুমোদন দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন। মজুতও রাখা হয়েছে এসব ওষুধ।

এমন বাস্তবতায় এসব ওষুধ বিশেষ রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে করোনা বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি।

ট্রিটমেন্ট বিষয়ক সাব কমিটি সদস্য অধ্যাপক রিদওয়ানুর রহমান বলেন, আমাদের ভেন্টিলেটর সুবিধা নেই। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যাতে ভেন্টিলেশনে না যাওয়া লাগে এরকম ভাবেই চিকিৎসাকে রিওয়ারেন্ট করব। এই চিকিৎসায় ভালো খারাপ দুদিকই আছে।

চাইলে এখন থেকেই তা ব্যবহারর করার পরামর্শ কমিটির বিশেষজ্ঞ প্যানেলের।

এসব ওষুধ ব্যবহারে একমত নয় গোটা বিশ্ব। তাই দেশে এখনই এমন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে ভিন্নমত আছে গবেষকদের।

বাংলাদেশ ফার্মাকোলোজিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সায়েদুর রহমান খসরু বলেন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন একটি ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। এটার সুবিধা ঝুঁকির বিপরীতে মাপার মতো গবেষণা এখনও হয়নি।

করোনা চিকিৎসায় ফ্যামোটিডিন, পরীক্ষা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রজানা গেছে, চীনা চিকিৎসকরা দেখতে পেয়েছেন বয়স্ক করোনা আক্রান্ত রোগীরা এসব ওষুধ সেবন করছেন। এতে বেঁচে থাকার হার আশাজনক।

এ তথ্য জানার পরপরই নিউ ইয়র্কে ওই পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। নর্থওয়েল হেলথ এরই মধ্যে শনিবার আক্রান্ত ১১৭৪ জন রোগীর ভিতরে ১৮৭ জন আশঙ্কাজনকভাবে আক্রান্তের শরীরে পরীক্ষামুলকভাবে প্রয়োগ করেছেন ফ্যামোটিডিন (যা পেপসিড ব্রান্ড নামের মুখে খাওয়ার ওষুধ)।

নর্থওয়েলের রিসার্স বিষয়ক সাবেক নিউরোসার্জন ইনচার্জ কেভিন ট্রেসি বলেছেন, এর ফলে ৩৯১ জন রোগীর অন্তর্বর্তী ফল কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।

তিনি ‘সায়েন্স ম্যাগাজিন’কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চীনের উহানের চিকিৎসকরা লক্ষ্য করেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত ৮০ বছরের ওপরে বয়সীদের প্রতি ৫ জনে একজন মারা যাচ্ছেন। তবে যারা বেঁচে আছেন তারা ‘হার্টবার্ন’-এর জন্য এই জাতীয় পিল সেবন করছিলেন।

এর ফলেই এই ওষুধের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এতে দেখা যায়, খুবই নাজুক স্বাস্থ্যের অধিকারী মানুষের মধ্যে এর ফলে বেঁচে থাকার হার অনেক বেশি। এক্ষেত্রে গরিব রোগীরা ওমিপ্রাজলের পরিবর্তে ফ্যামোটিডিন ব্যবহার করতে থাকেন। কারণ, ওমিপ্রাজলের চেয়ে এটির দাম কম।

ফ্যামোটিডিন বিক্রি হয় ব্রান্ড নাম পেপসিড নামে। আর ওমিপ্রাজলের ব্রান্ড নাম প্রিলোসেক। ৬২১২ জন রোগি, যাদের বেশির ভাগই ভেন্টিলেটরে ছিলেন, তাদের মেডিকেল রেকর্ড ঘেঁটে চিকিৎসকরা দেখতে পেয়েছেন, যেসব রোগী ফ্যামোটিডিন ব্যবহার করেছেন তাদের মধ্যে মৃত্যুর শতকরা হার মাত্র ১৪ ভাগ। অন্যদিকে ওমিপ্রাজল যারা সেবন করেছেন তাদে মধ্যে এই হার শতকরা ২৭ ভাগ।

‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ’ (আইসিএমআর) হাইড্রো অক্সি-ক্লোর-কুইন ওষুধ কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পারে বলে সুপারিশ করেছেন। এই ওষুধ দু’টি পরীক্ষামূলক ভাবে রোগীদের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে। ফ্রান্সে মাত্র ৩০ জন রোগীকে হাইড্রো অক্সি-ক্লোর-কুইন দিয়ে চিকিৎসা করে ভাল ফল পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু এই নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা হওয়া দরকার।

সার্স কোভ-২ করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় এইচআইভিতে ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধও ব্যবহার করা হচ্ছে। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত করোনা আক্রান্তদের উপর অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োগ নিয়ে একটা স্টাডি হয়েছে। সে রকম উল্লেখযোগ্য কোনও ফল পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি জয়পুরের একজন চিকিৎসক পরীক্ষামূলক ভাবে দু’-একজন রোগীকে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেওয়ায় তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনও যথেষ্ট সংশয় আছে। আক্রান্তকে ইন্ট্রাভেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (আইভিআইজি) দেওয়া হয়।

চলছে ভ্যাকসিন ছাড়াও করোনার ওষুধ তৈরির চেষ্টাকরোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে৷ তবে তাতে এক-দেড় বছর সময় লেগে যাবে৷ তার আগে করোনার ওষুধ তৈরির চেষ্টা চলছে৷ এতে স্বল্পমেয়াদি সুফল পাওয়া যেতে পারে৷

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর যারা বেঁচে ফিরেছেন, তাদের রক্ত থেকে অ্যান্টিবডি নিয়ে ওষুধ তৈরির চেষ্টা চলছে৷ এমন ওষুধ দিয়ে আক্রান্ত রোগীদের কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে৷

সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৬ হাজার করোনা-আক্রান্ত মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন৷ এদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে, যা পরবর্তীতে শরীরকে আবারও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে৷

সুস্থ হয়ে ফেরা এই ব্যক্তিদের অ্যান্টিবডি আক্রান্ত রোগীর শরীরে ঢোকালে ঐ শরীরে ‘প্যাসিভ ইমিউনিটি’ গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

এই আশায় চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যান্টিবডি দিয়ে ওষুধ তৈরির গবেষণা চলছে৷

১৮৯০ সালে জার্মান ইমুনোলজিস্ট এমিল ফন বেরিং প্রথম ‘প্যাসিভ ইমিউনাইজেশন’ বিষয়টি উদ্ভাবন করেন৷ সেই সময় ডিপথেরিয়ার কারণে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হচ্ছিল৷ ফন বেরিংয়ের আবিষ্কারের কারণে ডিপথেরিয়া ও টিটেনাসে শিশুমৃত্যু অনেক কমে গিয়েছিল৷ তাই ১৯০১ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রথম নোবেলটি দেয়া হয়েছিল তাঁকে৷ এছাড়া গণমাধ্যমে ফন বেরিংকে ‘শিশুদের ত্রাণকর্তা’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছিল৷

শুধু তাই নয়, ফন বেরিংয়ের আবিষ্কার প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অনেক সেনারও প্রাণ বাঁচিয়েছে৷ তাই তাঁকে ‘সৈন্যদের ত্রাণকর্তা’ও বলা হয়েছিল৷

আফ্রিকায় ইবোলা মোকাবিলায়ও ফন বেরিংয়ের কৌশল কাজে লাগানো হয়েছে৷


স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর