ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

৩ পরাজয় এখনো কাঁদায় বাংলাদেশকে

২০২০ এপ্রিল ০৯ ১৫:৪২:৩০
৩ পরাজয় এখনো কাঁদায় বাংলাদেশকে

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে লাল-সবুজের যত সাফল্য, তাঁর অধিকাংশই এসেছে ক্রিকেটের হাত ধরে। ক্রিকেট মানেই এদেশে আনন্দ-হাসির খোরাক, জাত-ধর্ম ভুলে এক হওয়ার লড়াই। বুক চিতিয়ে বাংলাদেশের জন্য স্লোগান দিতে থাকা ১৮ কোটি বাংলাদেশি ক্রিকেটটাকে ভালোবাসে মন দিয়ে। অবশ্য বাসবেই বা না কেন? ক্রিকেট যে দেশের মানুষকে গর্বিত করেছে অজস্র বার। হয়তো এখনো ঝুলিতে নেই বড় কোন শিরোপা, তবে যা আছে তা তো এই ক্রিকেটেই আছে। তবে ক্রিকেট কাঁদিয়েছেও। হার-জিত থাকবেই, তবে কিছু পরাজয় কাঁদিয়েছে গোটা দেশকে।

কিছু পরাজয় এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় এদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। যে পরাজয়গুলোর কথা মনে পড়লে এখনো একটা দীর্ঘশ্বাস নিঃসৃত হয়। ‘বাংলা ইনসাইডার’ এর আজকের প্রতিবেদনে তুলে আনা হয়েছে এরকম তিনটি ম্যাচ, যেগুলো এখনো কাঁদায় বাংলাদেশকে-

আইসিসি ট্রফি ১৯৯৪
আইসিসি ট্রফিতে শীর্ষ তিনে থাকতে পারলেই স্বপ্নের বিশ্বকাপ— ১৯৯২ সালে আইসিসির এই ঘোষণার পরপরই নড়েচড়ে বসেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিশ্বকাপে খেলতে হবে! ভারত থেকে আনা হয় হাইপ্রোফাইল কোচ মহিন্দর অমরনাথকে। কেনিয়ায় ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফিটি অনেক বড় অর্জনের হাতছানি দিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে।

শীর্ষ তিনের মধ্যে থাকাটা বিশাল কোনো প্রত্যাশাও ছিল না। আগেরবার অর্থাৎ ১৯৯০ সালে হল্যান্ডে আইসিসি ট্রফিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। সে সময়ের শক্ত প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়েকে চেপেও ধরেছিল। মাত্র ২৪৭ রান তাড়া করতে না পারার ব্যর্থতায় ফাইনালে ওঠা হয়নি।

১৯৯৪-তে কেনিয়াতে পথের কাঁটা জিম্বাবুয়েও ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ পারেনি। গ্রুপ পর্বে আমিরাতের কাছে হারার পর দ্বিতীয় রাউন্ডে হল্যান্ডের ২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পারেননি আকরাম, মিনহাজুল, আমিনুল, ফারুকরা। দ্বিতীয়র রাউন্ডের দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল কেনিয়ার বিপক্ষে। সে ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে বাংলাদেশের বাজে বোলিংয়ের পুরো সুযোগ নিয়ে কেনিয়া ৫০ ওভারে তুলে ফেলে ২৯৫ রান।

আজ থেকে ২৬ বছর আগের ক্রিকেটে ২৯৫ রান তাড়া করার খুব বেশি উদাহরণ ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাটিং বীরত্বে জয়ের খুব কাছেই চলে গিয়েছিল সে ম্যাচে। মাত্র ১৩ রানে হেরে আইসিসি ট্রফি থেকে সেদিন বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশকে। ম্যাচটা জিতলে সেবার বিশ্বকাপ স্বপ্নটা টিকে থাকত বাংলাদেশের। ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সেই সন্ধ্যাটা আজও বিষাদের স্মৃতি হয়ে আছে বাংলাদেশের খেলাপ্রেমী মানুষের কাছে।

এশিয়া কাপ ক্রিকেট ২০১২
২০১২ সালের এশিয়া কাপ ফাইনাল। সাম্প্রতিক সময়ে এটাই কি দেশের খেলাধুলার সবচেয়ে বিষাদময় অধ্যায় হয়ে আছে? ইতিহাস গড়ে ফাইনালে উঠে সাকিব, তামিম, মাশরাফিরা যখন নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে বিভোর, স্বপ্নের খুব কাছাকাছি পৌছেও সেটি ছোঁয়া হয়নি তাঁদের। পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানে হেরে সেদিন কেঁদেছিলেন ক্রিকেটাররা। সেই রাতে কেঁদেছিল গোটা বাংলাদেশই।

ভারত আর শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশ সেদিন পাকিস্তানকেও আটকে দিয়েছিল ২৩৬ রানে। সহজ লক্ষ্যে ব্যাটিংটাও মন্দ হয়নি। সাকিব খেলেছিলেন দারুণ এক ইনিংস। কিন্তু শেষটা বিজয়োল্লাসে হয়নি। একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে সাকিব–মুশফিকদের কান্নার সেই ছবি এখনো অলক্ষ্যে কাঁদায় বাংলাদেশের খেলাপ্রেমী মানুষকে।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১৬
একটি ম্যাচ যে জাতীয় ট্র্যাজেডি হয়ে উঠতে পারে, সেটি দেখিয়েছিল ২০১৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচ। জয়ের খুব কাছে গিয়ে সেদিন ১ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। হারটা বড় কথা নয়, যে ধরনের ভুতুড়ে কারবার সেদিন বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে হয়েছিল, সেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা নেই। শেষ ওভারে ৩ বলে ২ রান নিতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। শেষ ৩ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ১ রানে হেরে যায় ম্যাচটি।

সেই রাত ছিল বিষাদময়। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে ছিল কান্না। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ হয়তো অনেক ম্যাচ জিতবে, অনেক গৌরবের সাক্ষী হবে ক্রিকেট, কিন্তু বেঙ্গালুরুর সেই রাতটি কোনো দিন ভুলতে পারবেন না বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। সেটি হয়তো চিরদিনের কান্নাই হয়ে রইবে।


খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর