ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

এখন কেমন আছেন জনসন

২০২০ এপ্রিল ০৭ ২৩:২১:৩০
এখন কেমন আছেন জনসন

বরিস জনসন আইসিইউতে। ১১ দিন আগে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর তার অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। গতকাল একদিনের জন্য তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। দিনশেষে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতা আরো প্রকট হয়। ফলে তাকে নেয়া হয়েছে আইসিইউতে। সরকারি ভাষ্যে যখন এতটুকু বলা হচ্ছে, তখন বাস্তবতা কতখানি কঠিন তা সহজেই অনুমেয়। যে বরিস জনসন একদিন আগেও বলেছেন, কোয়ারেন্টিনে থেকেই তিনি সরকার পরিচালনা করবেন।

তিনিই তার ফার্স্ট সেক্রেটারি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাবকে দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন। ফলে তার এই অবস্থার দ্রুত অবনতিকে বৃটিশ সরকারের জন্য প্রচন্ড বড় একটি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনলাইন স্কাই নিউজে এসব কথা লিখেছেন তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিবেদক জন ক্রেইগ।

তিনি আরো লিখেছেন, বরিস জনসনের করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আরো অবনতি হয়েছে। তিনি মারাত্মক শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। রোববার রাতে প্রথমে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল সেইন্ট থমাস হাসপাতালে। কিন্তু গতকাল তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। স্কাই নিউজের পলিটিক্যাল এডিটর বেথ রিগবি বলেছেন, বরিস জনসনের শ্বাসকষ্ট হওয়ার কারণে অক্সিজেন দেয়া হয়েছে। এরপর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় তাকে আইসিইউতে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস লক্ষণে তিনি ভুগছেন। তার কাশি, উচ্চ তাপমাত্রা সহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দিয়েছে। ৫৫ বছর বয়সী বরিস জনসনের দেহে ১১ দিন আগে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। কিন্তু তার ক্রমাবনতি হওয়া সরকারের জন্য একটি মারাত্মক আঘাত। যদি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাহলে সহসাই কাজে যোগ দিতে পারবেন না।

তার অনুপস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব করোনা ভাইরাস ‘ওয়ার কেবিনেট’-এ অর্থাৎ করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যে মন্ত্রীপরিষদ কাজ করছে তাদের সভায় আজ স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সভাপতিত্ব করবেন। অন্যদিকে আগামীকাল মঙ্গলবার মন্ত্রীপরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সাপ্তাহিক বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন কনজার্ভেটিভ পার্টির এমপিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিতে পারে যে, করোনা মোকাবিলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ছাড়া হোয়াইটহল ও মন্ত্রীপরিষদের মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টি হতে পারে। গত রাত ৮টার পরে নাটকীয় একটি ঘোষণা আসে। তাতে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র বলেন, রোববার বিকালের পর প্রধানমন্ত্রীর অবস্থার অবনতি হয়েছে। মেডিকেল টিমের পরামর্শে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। এ সময়ে ফার্স্ট সেক্রেটারি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব’কে তার হয়ে প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে নিতে বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী খুবই চমৎকার সেবা পাচ্ছেন। তার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের যেসব স্টাফ কাজ করছেন তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ।স্কাই নিউজ জানতে পেরেছে যে, সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থার বেশ অবনতি হয়। এরপর তার চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে আইসিইউতে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যখন এ ঘোষণা দেয়া হয়, তখন প্রধানমন্ত্রী সচেতন ছিলেন। পূর্ব সতর্কতা হিসেবে তাকে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে, কারণ তাকে ভেন্টিলেশন দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তার এই অসুস্থতা নিয়ে সরকারের মধ্যে যেমন উদ্বেগ তার চেয়ে সম্ভবত উদ্বেগটা তার অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকা ক্যারি সায়মন্ডসের। তার ভিতর এ খবরে খুব বেশি হতাশা কাজ করার কথা। কারণ, তার গর্ভে বড় হচ্ছে বরিস জনসনের সন্তান। ক্যারি সায়মন্ডসেরও করোনা সংক্রমণ ছিল। তিনি বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন।

২৬ শে মার্চ করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে বরিস জনসনের। কিন্তু এতে যে তিনি গুরুত্বর অসুস্থ নন, এমনটা দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি ভিডিও পোস্ট করে জানান দেন ভাল আছেন। কিন্তু ওইসব ভিডিওতে তাকে দেখা গেছে বিধ্বস্ত। তার চেহারাই বলে দিচ্ছিল তিনি ভাল নেই।

আইসিইউতে নেয়ার আগে তিনি টুইটারে আশা জাগানিয়া একটি বার্তা পোস্ট করেছেন সোমবার। তাতে বলেছেন, গত রাতে আমার চিকিৎসকদের পরামর্শে আমি হাসপাতালে এসেছি কিছু নিয়মিত পরীক্ষার জন্য। এখনও আমার করোনা ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণগুলো আছে। আমি প্রফুল্ল আছি। আমার টিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কারণ, আমরা সবাই মিলে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমরা সবাইকে নিরাপদ রাখবো।

এরপরই তাকে আইসিইউতে নেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সারাবিশ্ব থেকে তার প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে পাঠানো বার্তা আসতে থাকে। বার্তা দেয় বৃটেনের রাজনৈতিক মিত্র ও বিরোধীরাও।-


বহির্বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বহির্বিশ্ব - এর সব খবর