ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

একটু পান থেকে চুন খসলেই সর্বনাশ: সৌম্য

২০২০ মার্চ ৩১ ১৭:০১:২৩
একটু পান থেকে চুন খসলেই সর্বনাশ: সৌম্য

ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি বা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে খুব বেশি সময় বাকি নেই। চলতি বছরের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় সাতটি ভেন্যুতে গড়ানোর কথা ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণের ৭ম আসর। যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকেই তাই এই সময়টি ক্রিকেটারদের ক্রিকেটীয় উতকর্ষতা নিয়ে ভাবার কথা।

কী করলে ২২ গজের বিশ্বযুদ্ধে আরো প্রবলভাবে শত্রুর মোকাবিলা করা যাবে, কী করলেই বা দলকে উদ্ভাসিত জয়ের আনন্দে ভাসানো যাবে। ক্রিকেট বিশ্বের বাকি আট দশজনের মতো বাংলাদেশ দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকারও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। বিজ্ঞাপন তাছাড়া তাদের জন্য তো আরো বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিটি যে এখনও নিশ্চিত হয়নি!

সেটা নিশ্চিত করতে তার দলকে আগে কোয়ালিফায়ারে উত্তীর্ণ হবে। এরপরে মূল পর্ব। একটু পান থেকে চুন খসলেই সর্বনাশ। সন্দেহাতীতভাবে তাই পুরো টাইগার কন্টিনজেন্টই এই অভিজ্ঞ টপ অর্ডারের দিকে তাকিয়ে থাকবে। তদানুযায়ী এই সময়টিতে তার নিজের ব্যাটিং খুঁটিনাটি, কৌশল. শটস নিয়ে বিস্তর কাজ করার কথা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল প্রাণঘাতী করোনার জ্যামিতিক বিস্তার তার সেই ভাবনাগুলোকে থমকে দিয়েছে। বিজ্ঞাপন কোভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেওয়ায় তার ক্রিকেটীয় ভাবনাগুলো উবে গেছে। তাই বিশ্বকাপ নয়, এই মুহুর্তে সৌম্যর প্রথম ও প্রধান ভাবনা হয়ে দাঁড়িয়েছে কী করে করোনা থেকে নিরপদে থাকা যায়। করোনাতঙ্কে কাটছে তার দিনমান। এমনকি করোনা ছিনিয়ে নিয়েছে তার নতুন বিবাহিত জীবনের আনন্দঘণ সব মুহুর্তও। গেল ফেব্রুয়ারিতে প্রিয়ন্তি দেবনাথ পূজার সাথে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রতিভাবান এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। কাজেই এই সময়টা তার পূজাকে নিয়ে দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর কথা। ঘরে নয়, নব বিবাহিত এই দম্পতির থাকার কথা কোনো সমুদ্র সৈকতে, দর্শনীয় কোনো শহরে অথবা পাহাড়ের কোলে। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তারা দুজনই এখন চার দেয়ালে বন্দি। নিতান্তই প্রয়োজন না হলে বাইরে বের হচ্ছেন না। ঘরে বসে টিভি দেখে কাটছে তাদের করোনার দিন। তবুও ক্রিকেট ভাবনা একেবারেই ছেড়ে দেননি বাঁহাতি এই প্যারিস্কোপ শটের জনক। পেশা যেহেতু ২২ গজের খেলা সেহেতু সেটা নিয়ে ভাবতে হবেই। কিন্তু তার আগে জীবন বাঁচানোই তার কাছে মূখ্য হয়ে উঠেছে। সারাবাংলার সঙ্গে মুঠোফোনে একান্তে আলাপকালে এসব কথাই জানালেন। জানিয়েছেন সমসাময়ীক বিষয় নিয়ে আরো অনেক কিছুই। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরা হলো- সারাবাংলা: মাত্রই বিয়ে করেছেন। সময়টা কেমন যাচ্ছে? সৌম্য: না ভাই, করোনার সময়ে অত ভালো থাকার উপায় কই?

বাসার ভেতরেই আছি, রাত বারোটা পর্যন্ত টিভি দেখছি। খাওয়া, দাওয়া করছি। এভাবেই কাটছে। সারাবাংলা: নতুন দম্পতি হিসেবে আপনারা কী এমন কিছু করছেন যা অন্য কেউ জানে না। যেমন শিখর ধাওয়ান বাথরুম পরিষ্কার করছেন, কপিল দেব ঘর মুছছেন। আপনি আপনার স্ত্রীকে তেমন কোনো সহযোগিতা করছেন কিনা। বা আপনার স্ত্রী তেমন কিছু করছেন কিনা। সৌম্য: না! তেমন কিছুই করছি না। আমি কখনো রান্না করিনি, আমার স্ত্রীও করেনি। ঘর মোছা, বাথরুম মোছা? হা হা হা.. না ভাই পারি না। সারাবাংলা: সামনে বাংলাদেশের সবচে বড় আসর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যেখানে আপনাকে অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আপনি কী ভাবছেন? সৌম্য: সত্যি কথা বলতে বিশ্বকাপের চেয়ে এখন যে পরিস্থিতি যাচ্ছে সেখান থেকে বের হওয়া বড় বিষয়। করোনায় এখন যে পরিস্থিতি তাতে বিশ্বকাপ নিয়ে ওভাবে চিন্তা করা যাচ্ছে না। আমরা খুবই আতঙ্কিত। তবে অবশ্যই খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু তার আগে তো বাঁচতে হবে। কতটা নিরাপদে থাকা যায়, কিভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সেটাই এখন প্রথম ও প্রধান ভাবনা। সারাবাংলা: আপনাকে বলা হয় হ্যান্ড অ্যান্ড আই কো অর্ডিনেশনিং ব্যাটসম্যান। যেটা সাধারণত টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের বলা হয়ে থাকে। আপনি সেই কাজটা কত স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারেন? সৌম্য: দেখেন একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে আমাকে অনক কিছুই মাথায় রেখেই ব্যাটিং করতে হয়। ওভাবে কখনো ভাবিনি। তবে হ্যাঁ, বোলারের শক্তি ‍ও দূর্বলতা আমাকে অবশ্যই বুঝতে হয় যেহেতু ওপরে ব্যাটিং করি, বিশেষ করে পেসারদের। তবে আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার শক্তির জায়গাটি কাজে লাগাতে। সারাবাংলা: ব্যাটিংয়ের সঙ্গে আপনার বোলিংটাও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দলে আপনাকে পার্ট টাইমারের ভূমিকায় দেখা যায়। কি মনে হয় আরো সুযোগ পেলে দলের জন্য বোলিংয়েও ভালো অবদান রাখতে পারতেন? সৌম্য: আমি যখন থেকে ক্রিকেট খেলি তখন থেকেই বোলিং করি। তবে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে সবসময় ব্যাটিং করে আসছি। টুকটাক বোলিং সব সময়ই করতাম। কিন্তু ওভাবে ফোকাসে আসিনি। অবশ্য যদি মনোযোগ দেই, বোলিং নিয়ে আলাদা কাজ করি মন্দ হয় না। দিন শেষে দলের জন্যই ভালো। ভাবছি সামনে বোলিংয়ের ‍ওপর আরো মনোযোগ দেব।

যাতে করে দল আমার ওপর ভরসা রাখতে পারে। সারাবাংলা: হাথুরুসিংহের সময় টপ অর্ডারে আপনিই ছিলেন দেশের সবচে প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান। তার বিদায়ের পর আসা কোচেরা আপনাকে নিয়ে নানান পরীক্ষা নীরিক্ষা করেছে। মানে আপনার অর্ডার বদলেছে। আপনার কী মনে হয় এতে করে আপনি আপনার ব্যাটিং প্রতিভা সেভাবে প্রকাশ করতে পারেননি? সৌম্য: ঠিক তেমন না। তবে আমি যেহেতু সারাজীবন টপ অর্ডারে খেলেছি তাই এখানেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কিন্তু যখন দলের প্রয়োজন হয় তখন তো কিছু করার থাকে না।

সারাবাংলা: নাঈম শেখে ও অন্যান্যদের আবির্ভাব আপনাকে কতটা ভাবায়। মানে আপনার জায়গা পাওয়াটা কঠিন হয়ে গেল কিনা? সৌম্য: না। কঠিন হবে হবে কেন? এটা তো আরো ভালো। একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে। আমারও সবসময় নিজের সাথে নিজের চ্যালেঞ্জ থাকবে যে না জাতীয় দলে খেলতে হলে অবশ্যই ভালো করতে হবে।


খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর