ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭

ক্রিকেট ইতিহাসের কাকতালীয় পাঁচটি ঘটনা

২০২০ মার্চ ৩০ ১০:১৯:৫৬
ক্রিকেট ইতিহাসের কাকতালীয় পাঁচটি ঘটনা

প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজিত হয়েছিল ১৮৭৭ সালে। এরপর একে একে কেটে গেল দেড়শো বছর। এই দেড়শো বছরে ইতোমধ্যে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে।

তৈরি হয়েছে অসংখ্য ইতিহাস। এরমধ্যে কিছু কিছু ঘটনা ছিল রীতিমতো অবাক করার মতো। এক কথায় যাকে বলে কাকতালীয় ঘটনা। ক্রিকেট ইতিহাসের এরকম মজার পাঁচটি ঘটনা নিয়েই রইলো আজকের প্রতিবেদন।

১ | নেলসনময় একটি দিন

এরকম কাকতালীয় ঘটনার নিদর্শন সত্যিই খুব বিরল। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাপটাউনে ২০১১ সালের নভেম্বরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলছিল। প্রথম দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ২১৪/৮। পরেরদিন মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই অস্ট্রেলিয়ার বাকি দুইটি উইকেট পড়ে যায়। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকাও গুটিয়ে যায় মাত্র ৯৬ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের ইতি টানতে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা মাত্র ২৪.৩ ওভার বল করেছিল। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়াও তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে করে মাত্র ৪৭ রান! আর পুরো ব্যাপারটি ঘটেছিল মাত্র ১৮ ওভারের মাঝেই।

তৃতীয় দিনটিই ছিল কাকতালীয় ঘটনায় পূর্ণ। এদিন যখন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান নেলসন যখন ব্যক্তিগত ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন, তখন দক্ষিণ আফ্রিকারও ম্যাচটি জিতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১১ রান। আর ঘড়িতে সময় কত ছিল জানেন? ১১:১১। আরো মজার ব্যাপার ছিল ঐদিনটা ছিল নভেম্বরের ১১ তারিখ। মানে সংখ্যায় যেটা দাঁড়ায় ১১/১১/১১! একারণেই মজা করে ঐদিনটিকে বলা হয়েছিল, ‘নেলসন অব অল নেলসনস।’

২ | দুইদিনও টিকলো না তামিমের রেকর্ড

এই ঘটনাটি বেশিদিন আগের নয়৷ একদম তাজা একটি ঘটনা। সমালোচকদের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল ১৫৮ রানের বিশাল ইনিংস খেলে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মাঝে নিজেরই করা ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছিলেন। কিন্তু কে জানতো যে সেই রেকর্ডটি দুইদিনও টিকবে না! মাত্র দুইদিনের মাথায় সেই তামিমকেই দর্শক বানিয়ে তাঁরই অপরপ্রান্ত থেকে ১৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তরুণ ওপেনার লিটন দাস। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড তো বটেই, পাশাপাশি এক ইনিংসে সর্বোচ্চ বাউন্ডারি হাঁকানোর রেকর্ডও ঐদিন তামিমের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন লিটন।

আরো পড়ুন:- ক্রীড়াঙ্গনের দম্পতিদের প্রেম ও বিবাহের রোমান্টিক গল্প
৩ | ১৮৩ রান করো আর অধিনায়কত্ব পেয়ে যাও

ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে ১৮৩ সংখ্যাটি একটি বিশেষ সংখ্যা। সৌরভ গাঙ্গুলি, মাহেন্দ্র সিং ধোনি এবং বিরাট কোহলি – এই তিন ব্যাটসম্যানেরই ওয়ানডেতে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ স্কোর এটি। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে, যখনই কেউ ১৮৩ রানের ইনিংস খেলে ফেলে, তার দিনকয়েকের মাঝেই সে ভারতীয় দলের অধিনায়কে পরিণত হয়ে যায়। এই সূত্র অনুসারে, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৫৯ বলে ঐ ম্যাজিক্যাল স্কোরটি করে সৌরভ গাঙ্গুলি ঠিক তার পরের বছরই ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব পান। ২০০৫ সালে ধোনি ও এর ৮ বছর পর ২০১৩ সালে বিরাট কোহলিও পাকিস্তানের বিপক্ষে একইরকমের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। আর এর পরপরই প্রথমে ধোনি ও পরে কোহলিও অধিনায়কত্বের পদটি পেয়েছিলেন।

৪ | মাইকেল ক্লার্ক + এলিস্টার কুক = শচিন টেন্ডুলকার

পরিসংখ্যান অনুসারে, কোনো ব্যাটসম্যানই এখনো শচিন রমেশ টেন্ডুলকারের ধারেকাছেও নেই। ভারতীয় এই কিংবদন্তি সব ধরনের ক্রিকেটকে ২০১৩ সালে বিদায় জানিয়ে দেন। বিদায়বেলায় তাঁর নামের পাশে ছিল ২০০টি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা। সেই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান এবং সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডটিও ছিল তাঁর দখলে। এদিকে ঐ বছরের শেষ মাসে এ্যাশেজ সিরিজে ঘটলো এক চমকপ্রদ ঘটনা। এ্যাশেজ সিরিজটির তৃতীয় টেস্টটি ছিল ইংলিশ সুপারস্টার এলিস্টার কুক ও অজি সুপারস্টার মাইকেল ক্লার্কের ক্যারিয়ারের শততম টেস্ট। উভয় দলের প্রথম ইনিংস শেষে কুকের রান সংখ্যা ছিল ৭৯৫৫। আর ক্লার্কের রান সংখ্যা ছিল ৭৯৬৪। অন্যদিকে এই দুইজনের টেস্ট ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি ছিল যথাক্রমে ২৫টি ও ২৬টি। সেখানে ২০০টি টেস্টে শচিন টেন্ডুলকারের রান সংখ্যা ছিল ১৫৯২১ আর তাঁর সেঞ্চুরি ছিল ৫১টি। সুতরাং, ঐ পর্যায়ে এলিস্টার কুক ও মাইকেল ক্লার্কের টেস্ট ক্যারিয়ার বিবরণিগুলো যোগ করলে সেটি শচিনের ক্যারিয়ার সঙ্গে মিলে গিয়েছিল।

৫ | প্রথম ও শততম টেস্ট যেভাবে একই স্রোতধারায় গিয়ে মিলিত হলো

চলুন ফিরে যাই ১৮৭৭ সালে, যখন প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজিত হয়েছিল। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে পুরোনো দুই দল – অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ব্যাট করে ২৪৫ রান করে অলআউট হয়ে যায়৷ এদিকে ইংল্যান্ডের ইনিংস মাত্র ১৯৬ রানে গুটিয়ে যায়। ৪৯ রানের লিড নিয়ে অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় ইনিংসের সূচনা করে এবং ১০৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। ইংল্যান্ড ১৫৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মাত্র ১০৮ রানেই গুটিয়ে যায়।

আরো পড়ুন:- বার্থডে বয় তামিম ইকবালের ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে যত অর্জন
এদিকে শততম টেস্টেও অজিরাই ইনিংস ওপেন করে স্কোর বোর্ডে ১৩৮ রান তুলতে সক্ষম হয়। আর দুঃখজনকভাবে ইংল্যান্ড করতে পারে মাত্র ৯৫ রান। কিন্তু ম্যাচটি জমে উঠে যখন দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৪১৯/৯ রানে তাদের ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করে। জবাবে ইংল্যান্ডও দারুণভাবে জবাব দিতে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৪১৭ রানেই তারা অলআউট হয়ে যায়।

ইতিহাসের প্রথম টেস্ট এবং শততম টেস্ট। এই দুইটি টেস্টেই অস্ট্রেলিয়া জয় লাভ করেছিল। শুধু তাই নয়, তারা একইভাবে ৪৫ রানেই জয় পেয়েছিল।


খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর