ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

সুযোগ হারানোর আক্ষেপ বিশ্বজয়ী যুবাদের

২০২০ মার্চ ২৯ ২৩:৫৫:২৮
সুযোগ হারানোর আক্ষেপ বিশ্বজয়ী যুবাদের

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে নিজেদের সামর্থ্যের শতভাগ দিয়ে বিশ্বকাপ ঘরে তোলে আকবর আলী-মাহমুদুল হাসান জয়রা। এরপর দেশে ফিরে সংবর্ধনার জোয়ারে ভাসেন তারা। বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করে আসা তরুণ এই ক্রিকেটাররা সুযোগ পান দেশের মাটিতে নিজেদের প্রমাণ করার।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) দলবদল থেকে ভাগ্য খুলেছিল ১২জনের। যদিও গতবার বিকেএসপির হয়েই প্রিমিয়ার লিগ খেলার অভিজ্ঞতা ছিল তাদের। তবে এবারের গল্পটা ছিল একটু ভিন্ন। তারা সুযোগ পেয়েছিলেন দেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে ড্রেসিং রুম শেয়ার করার। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে মাত্র এক রাউন্ড খেলা হওয়ার পরই স্থগিত করা হয় প্রিমিয়ার লিগ।


১৯ মার্চ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ দেশের সব ধরনের ক্রিকেট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। খেলা স্থগিত হওয়ার সব ক্রিকেটারই এখন অবসর সময় কাটাচ্ছেন। বড় ক্ষতিটা হয়তো হয়েছে যুব বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটারদেরই।

ভালো ফর্মে থাকা সত্ত্বেও ঘরে বসে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার সুযোগটুকুও এখন নেই। কয়েকজন যুব ক্রিকেটারের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেল তাঁদের চিন্তা-ভাবনা।

যার হাত ধরে যুব বিশ্বকাপের শিরোপা যেতে বাংলাদেশ, সেই অধিনায়ক আকবর এখন রংপুরের নিজ বাড়িতে। অবসর সময়টা টেভি দেখে এবং ইন্টারনেটে। কিন্তু ফিটনেসের ব্যাপারে সচেতন আকবর।

ক্রিকফ্রেঞ্জিকে আকবর বলেন, 'ডিপিএল ভালো প্ল্যাটফর্ম ছিল আমাদের জন্য। সিনিয়ররা ছিল, তাঁদের সঙ্গে খেলে অভিজ্ঞতা নেয়ার বড় একটা সুযোগ ছিল কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সকলেই হেরে গেছে। ডিপিএল নিয়ে বড় পরিকল্পনাই ছিল আমার, চেয়েছিলাম ভালো খেলতে। ম্যাচ বাই ম্যাচ পরিকল্পনাতেই এগোচ্ছিলাম। আপাতত আমাদের দলের ম্যানেজার স্যার বলেছেন ঘরে থাকতে, বাইরে না যেতে। ঘরে বসেই ফিটনেসে যতটুক মনোযোগ দেয়া যায় এতোটুকই। চেষ্টা করছি, আবারও মাঠে ফিরলে নতুন করে সব শুরু করতে হবে।'

বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ বিশ্বকাপ শেষে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। ঢাকায় ফিরে বিকেএসপিতে নিয়েছেন সংবর্ধনা। এর আগে মাত্র একদিন কাজ করেছেন স্পিন বোলিং কোচ ড্যানিয়েল ভেটোরির সঙ্গে।মুরাদ জানালেন, ডিপিএলের প্রথম ম্যাচটা ভালো যাওয়ায় বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে বড় আশাবাদী ছিলেন তিনি। মাঝের এই বিরতি ক্রিকেটারদের জন্য পরীক্ষা। তবে পরিস্থিতির কাছে কারোরই কিছু করার থাকে না।

মুরাদ বলেন, `খেলা তো এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। ভালো ছন্দে ছিলাম, প্রথম ম্যাচটা ভালো হয়েছে, ভালো বোলিং করেছি। এরপর বড় একটা গ্যাপ পরে গেছে। যে কোনো ক্রিকেটারের জন্য খেলার মাঝে গ্যাপ পড়াটা লস। চেষ্টা করছি নিজেকে ফিট রাখার। আপাতত ঘরের মধ্যেই যতটুক পারছি করছি। প্রিমিয়ার লিগে ভালো সুযোগ ছিল, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আর কি করার আছে।'

যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসান জয় অবশ্য নিজের ফিটনেস ঠিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যে জন্য যুব দলের ফিটনেস ট্রেইনিং কোচ রিচার্ড স্টনিয়ারের ভিডিওর সাহায্য নিচ্ছেন তিনি। তবে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশ এই ব্যাটসম্যানও।

মাহমুদুল বলেন, 'আসলে আমরা প্রথম ম্যাচে খুব ভালো একটা জয় পেয়েছিলাম। দলের অনেক চাঙ্গা হয়েছিল। কিন্তু হুট করে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবার জন্যই ক্ষতি। কেউ তো অনুশীলনের মধ্যে নেই, করতেও পারছে না। তবে আমি রিচার্ড স্টনিয়ারের ভিডিও দেখে দেখে ট্রেনিং নিচ্ছি। এর বেশি তো কিছু করার নেই। কারও হাতে কিছু নেই।'

এদিকে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন ইমন মনে করছেন এই সময় খেলা না হওয়া যে কোনো ক্রিকেটারের জন্যই বড় ক্ষতি। মুরাদের মতো তিনিও পরিস্থিতি মেনে নিয়েছেন। ইমন বলেন, 'খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়াটা আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। কারণ অনেক ভালো ফর্মে ছিলাম। ডিপিএলে নিজেকে প্রমাণ করার একটা জায়গা পেয়েছিলাম কিন্তু সুযোগটা আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে।'

তিনি আরো যোগ করেন, 'পরিস্থিতি আসলে কারও হাতে নেই। আপাতত ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য ঘরে, ছাদে যতটুক পারছি করছি। আশা করছি দ্রুত মাঠে ফিরব, খেলায় ফিরবো। এভাবে মাঠ ঘরে থাকতে কারোই বা ভালো লাগে বলেন।'

পেস বোলার তানজিদ হাসান সাকিব এবার সুযোগ পেয়েছিলেন আবাহনী লিমিটেডের হয়ে খেলার। বড় দলে সুযোগ পেয়ে মাঠে খেলতে না পারাটা হতাশাজনক তাঁর কাছে। তবে ঘরে বসেই নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টায় আছেন এই পেসার।

সাকিব বলেন, 'যে কারণে বন্ধ হয়েছে এটা কারো হাতে নেই। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সব খেলোয়াড়ই চায় খেলতে। কিন্তু আপাতত খেলা বন্ধ আছে। আমরা সবাই খুব ভালো শেইপে ছিলাম। আমিও। বিশ্বকাপ জিতে ফিরে ডিপিএল খেলার সুযোগ পেলাম। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মের কাছে তো কারও কিছু করার নেই। ফিটনেস নিয়ে সচেতন আছি, ঘরের মধ্যে যতটুকু করা যায় করছি, হোম ওয়ার্ক আরকি। খাওয়া-দাওয়াও মেনে চলছি। আশা করছি দ্রুত মাঠে ফিরবো।'

বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর কণ্ঠেও শোনা গেল হতাশার সুর। যুব ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স কাছ থেকে দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা পূরণ হয়নি।

ক্রিকফ্রেঞ্জিকে মিনহাজুল আবেদীন বলেন, 'আমরা অবশ্যই মুখিয়ে ছিলাম যুব দলের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স দেখতে। বিশ্বকাপ জিতে বাড়ি ফিরেছে তারা, অনেক বড় অর্জন। ক্লাব ক্রিকেটে অনেক চাপ থাকে, তারা এই চাপ কিভাবে সামাল দেন এটা দেখার সুযোগ ছিল আমাদের কাছে। এছাড়া দলের হয়েও বড় অবদান রাখা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না।'

যুব বিশ্বকাপ থেকে ফিরে এবারের প্রিমিয়ার লিগে দল পেয়েছিলেন মোট ১২জন ক্রিকেটার। এরা হলেন তানজিম হাসান সাকিব (আবাহনী) , শাহিন আলম (আবাহনী), আকবর আলি, শাহাদাত হোসেন দিপু-(গাজী), শরিফুল ইসলাম (প্রাইম ব্যাংক), পারভেজ হোসেন ঈমন(মোহামেডান) রাকিবুল হাসান, মাহমুদুল হাসান জয় (ওল্ড ডিওএইচএস) তানজিদ হাসান তামিম (শাইনপুকুর), তৌহিদ হৃদয় (শাইনপুকুর), হাসান মুরাদ (শাইনপুকুর),অভিষেক দাস (শাইনপুকুর)। এছাড়া চোট আর পরীক্ষায় প্রিমিয়ার লিগে খেলতে পারেননি শামিম পাটোয়ারি।


খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর