ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬

কোন কোন ব্যাক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন

২০২০ মার্চ ২২ ১০:২৭:২২
কোন কোন ব্যাক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন

করোনা ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। ঠাণ্ডা লাগার মতো করে প্রথমে জ্বর, শুকনো কাশি, সর্দি হিসেবে দেখা দেয়। ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, গলাব্যথা, নিউমনিয়া হয় এবং সিভিয়ার অ্যাকুইট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (সার্স) হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হতে পারে এবং কিডনি বিকল হতে পারে।

যারা আক্রান্ত হতে পারেন : করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে আগত কোনো ব্যক্তি ও তার পরিবার-পরিজন আক্রান্ত হতে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন-ক্যানসার রোগী, যারা কেমোথেরাপি বা রেডিও থেরাপি পাচ্ছেন; যক্ষ্মা ও এইডসের রোগী, হেপাটাইটিস পজিটিভ কোনো ব্যক্তি, হাঁপানির রোগী, গর্ভবতী, Malnutrition নেওয়া ভুমিষ্ঠ শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম; বস্তি ও রাস্তায় থাকা শিশু ও মা-বাবা; হেরোইন, ইয়াবা, মদ, গাঁজা সেবনকারী ও ধূমপায়ীরা আক্রান্ত হতে পারেন। যেসব স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ ব্যবহার করেন, তারা ঝুঁকিতে রয়েছেন। ব্যাংকে যারা চাকরিজীবী বিশেষ করে নতুন-পুরনো টাকা গণনাকারী কর্মী, মোবাইল ব্যবহারকারীরা ঝুঁকিতে রয়েছেন।

প্রতিকারের উপায় : যাদের কোনো শারীরিক উপসর্গ নেই কিন্তু আক্রান্ত দেশ থেকে তারা নিজ দেশে এসেছেন, তাদের ১৪ দিন স্বেচ্ছা/গৃহ কোয়ারেন্টিনে থাকা উচিত। বাড়ির অন্য সদস্যরা আলাদা থাকুন। আলো-বাতাসের সুব্যবস্থাসম্পন্ন আলাদা ঘরে থাকুন। টয়লেট সংলগ্ন রুম ও আলাদা গোসলখানা ব্যবহার করুন। থালা, গ্লাস, বাটি, মদ, তোয়ালে, টিস্যু, ঘড়ি, বেল্ট, জুতা এবং নারীদের সব ব্যবহার্য জিনিস সম্পূর্ণ আলাদা করে ব্যবহার করুন। বিছানা, চাদর, বালিশের কাভার, গায়ের চাদর প্রতিদিন পরিবর্তন করুন।

যে ঘরে আক্রান্ত ব্যক্তি বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি থাকবেন, সেই ঘরে ফার্নিচার কম রাখুন। পৃথক বিছানা ব্যবহার করুন। ফোন বা ল্যাপটপ ব্যাবহার করলে অ্যালকোহল প্যাড দিয়ে দিনে দুবার পরিষ্কার করুন। দিনে ৬/৭ বার, প্রয়োজনে আরও বেশি সময় ধরে সঠিক নিয়মে সাত ধাপে হাত পরিষ্কার করুন। বিয়েবাড়ি, মল, সভা-সমিতি, মিছিল, মিটিং, সিনেমা হল, থিয়েটার, রেস্তোরাঁ ও জনপরিবহন এড়িয়ে চলুন। লিফট ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। সিঁড়ি ব্যবহার করুন। অন্যদের থেকে অন্তত ১ মিটার (৩ ফুট) দূরে থাকুন। সঙ্গে পশুপাখি রাখবেন না। মাস্ক ব্যবহারের পর ঢাকনাযুক্ত পাত্রে ফেলুন। কুশল বিনিময়ের ক্ষেত্রে হ্যান্ডশেক, কোলাকুলি বাদ দিন।

যখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন : যখন কোনো উপসর্গ দেখা দেবে (১০০ ফারেনহাইট/৩৮০ সেলসিয়াসের বেশি, কাশি, সর্দি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি), দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।লেখক : ডা. কৃষ্ণা রূপা মজুমদার, সহযোগী অধ্যাপক, বিএসএমএমইউ


স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর